somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম সমুদ্র দেখা!

০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি সমুদ্র প্রচন্ড ভালোবাসি। সমুদ্র আমাকে প্রচুর টানে। বছরে কয়েকবার সমুদ্রে না যেতে পারলে আমার মন খুব আনচান করে। তবে সমুদ্র সৈকত দেখেছি হাতে গোনা কয়েকটা।



২০০৮ সালের কথা। তখন সবে ঢাকায় এসেছি। ভার্সিটিতে পড়া শুরু করার পাশাপাশি টুকটাক কিছু ইনকাম শুরু করেছি। টার্গেট বাসা থেকে যত কম টাকা নেওয়া যায়। প্রতি মাসে একটা টার্গেট করেছিলাম, সেই পরিমান টাকা হলে আমার টিউশন ফিস আর বাসা থেকে নিতে হবে না। দেখা গেলো প্রথম তিন মাসেই আগামী ৬মাসের টিউশন ফিস ও আমার থাকা খাওয়ার খরচ যোগাড় করে ফেলতে সামর্থ হয়ে গেলাম। সাথে কিছু বাড়তি টাকাও পকেটে।

এর মধ্যে হঠাৎ সামনে আসলো টানা ৪দিনের ছুটি। ব্যাস, আর যায় কই। ব্যাগ গুছিয়ে রওনা হলাম বাসস্ট্যান্ডে। কোন উদ্দেশ্য নাই কোথায় যাবো। বাড়িতেও আসতে পারি, আবার অন্য কোথাও যেতে পারি। কাউন্টারে গিয়ে মুখ অন্ধকার, কোন টিকিট নাই। ৪দিনের ছুটির খবর আমার আগে পুরা দেশের মানুষ পেয়ে গেছে, তাই টিকিট কেটে রেখেছে।

কল্যানপুরে যে কয়টা বাসের কাউন্টার ছিলো, সবগুলিতে ঢু মেরে কিছুটা হতাশ। ভাবলাম বাসায় ফিরে যাই। এর মধ্যে দেখি এক ভদ্রলোক টিকিট কাউন্টারে এসে কিছু একটা অনুরোধ করছে; তার দুইটা টিকিট ফেরৎ দিতে চায়। টাকার দরকার।

আমি এগিয়ে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম টিকিটের দাম কত। তিনি দুইটা টিকিট যত টাকায় কিনেছিলেন, তার থেকেও শ-খানেক কমিয়ে বললেন, কিন্তু তার টাকা চাই। আমি পুরা টাকা দিয়েই দুটা টিকিট কিনে ফেললাম। কক্সবাজারের টিকিট। কিন্তু দুইটা দিয়ে কি করবো?

হিমেলকে ফোন দিলাম, বললাম ব্যাগ গুছিয়ে সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ডের ইউনিক এর কাউন্টারে আসতে। হিমেল ঘুমাচ্ছিলো। সে কোন রকমে ব্যাগ নিয়ে চলে এলো। বাসে উঠে জিজ্ঞাসা করলো, কই যামু আমরা? আমি উত্তর করলাম, এটাতো প্রথমে যখন বলেছিলাম আসতে তখনই জিজ্ঞাসা করার ছিলো। যাই হোক, কথা বলতে বলতে রাত পার। আমি শুধু অপেক্ষায় কখন সমুদ্র দেখবো।

কক্সবাজারের সী-বিচ গুলির খুব কাছাকাছি পৌঁছাতেই দূর থেকে সমুদ্র দেখা গেলো। সমুদ্রের বিশালতা দেখে আমি একপ্রকার হা করেই থাকলাম। বাস থামতেই হোটেলের খোঁজে না বেরিয়ে দৌড়ে গেলাম বিচে। সমুদ্র তখন অনেকটাই শান্ত। কিন্তু কি সেই শান্তের গর্জন। একর পর এক ঢেউ আছড়ে পড়ছে। মনে হচ্ছে যেন আমাকে টেনে নিয়ে যেতে চায়।

সমুদ্রের সামনে দাড়িয়ে হঠাৎই যেন আবিস্কার করলাম নিজের ক্ষুদ্রতা। চোখ থেকে ধীরে ধীরে, এক সময় অঝোরে পানি গড়াতে থাকলো। এই কান্না কেন এসেছিলো সেটা আজও আমার কাছে রহস্য।

সমুদ্রের বিশালতা কেন যেন ক্যামেরা বন্ধী করা যায় না। এর বিশালতা শুধু এর সামনে দাড়িয়েই অনুভব করা যায়। মোবাইল, ক্যামেরা কিংবা কম্পিউটারের ছোট্ট স্ক্রীণে সমুদ্র যতই দেখা হোক, সমুদ্রের বিশালতা শুধুমাত্র সমুদ্রের সামনে দাঁড়ালেই অনুভব করা যায়।

এরপরও বহুবার গিয়েছি সমুদ্রে। বহুবার গা ভিজিয়েছি নোনা জলে। প্রতিবারই নিজেকে ক্ষুদ্র-অতি তুচ্ছ মনে হয়েছে। মনের অহংকার এক এক করে ঝরে পড়েছে।

একবার প্রচন্ড হতাশায় ভুগছিলাম, সদ্য ব্রেকআপ, ব্যবসার অবস্থা যাচ্ছে না তাই, ভার্সিটির রিসার্চের কাজ আগাচ্ছে না.... বৃষ্টির মৌসুম চলছে তখন। সমুদ্র প্রচন্ড উত্তাল। তার মধ্যে হেটে চলে গেলাম, বহুদূর। কখনও পানি বুক সমান, কখনও মাথার উপরে। বহু কষ্টে কয়েক পা এগিয়ে যাই, প্রচন্ড স্রোত আবার আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে আসে পাড়ে। ঘন্টা খানেক লেগেছিলো এটা বুঝতে যে এমন ঢেউ ভেঙ্গে টিকে থাকাই একজন মানুষের কাজ, ঢেউয়ের সাথে ভেসে যাওয়ায় কোন সার্থকতা নেই।

সেদিন সমুদ্র, সৈকত আর আকাশ আমার সাথে কথা বলেছিলো।

Photo by Iraj Ishtiak on Unsplash
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ২:০৪
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×