somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন

২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ এমন একটি দেশ। যাদের সংস্কৃতির আছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। যুগে যুগে এই দেশের সংস্কৃতি হয়েছে সমৃদ্ধ। অথচ গত কয়েক বছর ধরে এই দেশের সংস্কৃতিতে বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন চোখে পড়ার মত। এই আগ্রাসন এতোটাই ভয়াবহ হয়ে উঠছে যে, দেশীয় সংস্কৃতিকে ভুলে যাচ্ছে অনেকে। অনেকে বাংলা চলচ্চিতের অভিনেতাদের না না জানলেও ভারতীয় চলচ্চিত্রের নাম পরিচয় মুখস্থ। যেসব ছেলেরা রিয়াদ, মান্না, শাকিবদের নাম জানে না। তারা অনায়াসেই বলতে পারবে সালমান, শাহরুখ, আমির খানদের ইতিহাস। যেখানে দেশীয় চলচ্চিত্র নির্মাতারা লোকসান দিয়ে চলচ্চিত্র থেকে দুরে সরে যেতে চাইছে। সেখানে বিদেশীরা এই দেশের হলগুলোতে তাদের চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যাবসা করতে চাইছে। কারন, তারা জানে এই দেশের হলগুলোতে দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শক না থাকলেও, বিদেশী চলচ্চিত্রের দর্শকের অভাব হবে না। এই দেশের ছেলেরা বাংলা গান না শুনলেও, হিন্দি কিংবা ইংরেজি গায়কদের ইতিহাসও জানে। তবে বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসনটা সবচাইতে ভয়াবহ হচ্ছে নারীদের ক্ষেত্রে। এদের উপর সবচাইতে বেশী আগ্রাসন চালাচ্ছে ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার গোল্ড, স্টার প্লাস, জি বাংলা, সনি আর্ট ইত্যাদি। এই চ্যানেলগুলোর সিরিয়ালের প্রতি এরা এতোটাই আকৃষ্ট যে, এইসব নারীদের সন্তান, স্বামী কিংবা অন্য যে কোন আপনজন যদি মরে লাশ হয়ে যায়। তবু এরা স্টার জলসা, জি বাংলা সিরিয়াল ছেড়ে উঠে আসবে না। আমাদের দেশীয় মিডিয়াগুলো যে এই ধরনের আগ্রাসনের বাইরে তা কিন্তু নয়। দেশীয় পত্রিকাগুলো দেশীয় শিল্পীদের কোন খোজ না রাখলেও বিদেশী শিল্পীদের নিউজ থাকে পত্রিকাজুড়ে। বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলোর বেশীরপভাগ এডভার্টাইজমেন্ট ইন্ডিয়ার নির্মিত। যেগুলো বাংলায় ড্রাইভ করে বাংলাদেশী মিডিয়ায় চালানো হচ্ছে। এই ছাড়াও সংগীতের বিশ্বায়নের নামে বাংলাদেশের অনেক মিডিয়ায় বিদেশী গানগুলো প্রচার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় শিল্পীদের বাদ দিয়ে বিদেশী শিল্পীদের দেশে এনে অনুষ্ঠান করার সংস্কৃতি চালু হঅহয়েছে। অথচ, এইসবের প্রতিকারে কেউই সচেষ্ট নয়। কিছুদিন আগে দেশের হলগুলোতে যখন বিদেশী চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি দেয়া হচ্ছিলো। তখন চলচ্চিত্র নির্মাতারা কাঁপনের কাপড় পড়ে প্রতিবাদ করেছিলো। তাতে খুব সুফল আসেনি। এরপর তারাও নীরব হয়ে গেলো। দেশে অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে। কিন্তু, বিদেশী সাংস্কৃতির আগ্রাসন ঠেকাতে কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। সরকারিভাবেও বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন ঠেকাতে কোন উদ্যোগ নেই। কয়েকমাস আগে তথ্যমন্ত্রী ক্যাবল অপারেটরদের বলেছিলেন, দেশীয় চ্যানেলগুলোকে এক থেকে ত্রিশের মধ্যে আনার জন্য। কিন্তু, কে শুনে কার কথা? দেশীয় চ্যানেলগুলোর পাত্তা না থাকলেও বিদেশী চ্যানেলগুলো প্রথমেই আছে। তথ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনেরও কোন উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি। দেশীয় শিল্পীদের ইদানীং বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসনের জন্য খুব একটা প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। হয়তো তারা ক্লান্ত। যখন দেখছে প্রতিবাদ করেও বিদেশী আগ্রাসন বন্ধ হচ্ছে না। হয়তো তখন তারা চুপ হয়ে গেছে। দেশে সংস্কৃতির জন্য আলাদা একটি মন্ত্রনালয় আছে। কিন্তু, মন্ত্রনালয় বিদেশী সাংস্কৃতির আগ্রাসন ঠেকাতে এই মন্ত্রনায়ের কোন ভূমিকা চোখে পড়ার মত নয়। অথচ, এই মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী নিজেও বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম একজন আইডল। যিনি একযুগেরও বেশী সময় ধরে এই দেশের সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৯:১৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পুরোনো ধর্মের সমালোচনা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেই নতুন ধর্মের জন্ম

লিখেছেন মিশু মিলন, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ৭:১৫

ইসলামের নবী মুহাম্মদকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিথি সরকারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক বছরের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে প্রবেশনে পাঠানোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেল্টা ফ্লাইট - নিউ ইয়র্ক টু ডেট্রয়ট

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ৮:২৬

আজই শ্রদ্ধেয় খাইরুল আহসান ভাইয়ের "নিউ ইয়র্কের পথে" পড়তে পড়তে তেমনি এক বিমান যাত্রার কথা মনে পড়লো। সে প্রায় বছর দশ বার আগের ঘটনা। নিউ ইয়র্ক থেকে ডেট্রিয়ট যাবো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ল অব অ্যাট্রাকশন

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ৮:৪৫

জ্যাক ক্যান ফিল্ডের ঘটনা দিয়ে লেখাটা শুরু করছি। জ্যাক ক্যানফিল্ড একজন আমেরিকান লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার। জীবনের প্রথম দিকে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। আয় রোজগার ছিলনা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ ছিলনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চরফ্যাশন

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৬ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:৫৯



নয়নে তোমারি কিছু দেখিবার চায়,
চলে আসো ভাই এই ঠিকানায়।
ফুলে ফুলে মাঠ সবুজ শ্যামলে বন
চারদিকে নদী আর চরের জীবন।

প্রকৃতির খেলা ফসলের মেলা ভারে
মুগ্ধ হয়েই তুমি ভুলিবে না তারে,
নীল আকাশের প্রজাতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন গঙ্গা পানি চুক্তি- কখন হবে, গ্যারান্টি ক্লজহীন চুক্তি নবায়ন হবে কিংবা তিস্তার মোট ঝুলে যাবে?

লিখেছেন এক নিরুদ্দেশ পথিক, ১৬ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৫:২৬


১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস। ফারাক্কা বাঁধ শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে খরা ও মরুকরণ তীব্র করে, বর্ষায় হঠাৎ বন্যা তৈরি করে কৃষক ও পরিবেশের মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে। পানি বঞ্চনা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×