somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রিক মিথলজিঃ পরিচিতি (পর্ব-২)

১২ ই জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তৎকালীন গ্রিকরা মনে করত পৃথিবীটা আসলে প্রকাণ্ড বড় একটি সমতল ভূমি যেটি চারদিক থেকেই সমুদ্র দ্বারা আবদ্ধ, আর প্রকান্ড এই সমতলের ঠিক কেন্দ্র বিন্দুতে অবস্থিত হল মাউন্ট অলিম্পাস বা অলিম্পাস পর্বত। তাদের বিশ্বাস, এই মাউন্ট অলিম্পাসই ছিলো গডসদের আবাসস্থল যেখানে তারা বাস করতেন স্বর্ণ নির্মিত বিশালাকার রাজপ্রাসাদের মাঝে রাজকীয় পরিবেশে। তবে মাউন্ট অলিম্পাসে উপরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি ছিলো “চেম্বার বা হল অফ কাউন্সিল”। প্রত্যেক গড-এরই নিজস্ব আলাদা বাসস্থান ছিলো। তাই বিভিন্ন উপলক্ষ ও জরুরি অবস্থায় তারা মিলিত হতেন এই চেম্বার অব কাউন্সিল-এ এবং এখান থেকেই তারা বেশীরভাগ নির্দেশনা,আদেশ দিতেন বা নিতেন।

বাসস্থানের মতই গডসদের ব্যবহৃত সবকিছুই ছিলো কল্পনাতীত রাজকীয়। তারা যেই রোব বা আলখাল্লা পরিধান করতেন সেগুলোর অধিকাংশই মানুষের পরিধেয় পোশাক-আশাকের মত হলেও সেগুলোর কাপড় ছিলো স্বর্গীয় এবং নির্মাণ ছিল নিখুঁত। চিন্তাতীত আলতো আঙ্গুলের ছোঁয়ায় সেসব কাপড়ের উপর নকশা তোলার কাজ করত স্বর্গীয় বিভিন্ন পরীরা। মর্ত্যের মানুষের চোখে ধাঁধাঁ লাগিয়ে দিত সেসব নকশা।

গ্রিক দেবতারা খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও ছিলেন অত্যন্ত শৌখিন।বিভিন্ন আনন্দের উপলক্ষেই তারা মহাভোজের আয়োজন করতেন। অন্যান্য সবকিছুর মতই তাদের খাবারের তালিকাও মানুষের খাবার তালিকার অনুরূপ কিন্তু তাদের খাবারগুলো ছিলো স্বর্গে উৎপন্ন এবং অমৃত গুণসমৃদ্ধ। ঘটনাক্রমে কোন মানুষ যদি এই খাবার গ্রহণ করত তাহলে তার ভিতরে বিভিন্ন দেবতাসুলভ ক্ষমতার আবির্ভাব ঘটত।

প্রত্যেক দেবতারই নিজস্ব বাহন ছিলো। এসব বাহনগুলো ছিলো বিদ্যুৎগতি সম্পন্ন। যেহেতু দেবতারা ইচ্ছা করলেই চোখের পলকে নিজেদের ইচ্ছামত যে কোন জায়গায় ভ্রমণ করতে পারতেন কোনরূপ বাহন ছাড়াই তাই চলাচলের মাধ্যম হিসেবে এসব বাহনের তেমন গুরুত্ব না থাকলেও দেবতাদের জন্যে যার যার বাহন ছিল নিজস্ব ক্ষমতা ও মর্যাদার প্রতীক, তাই গ্রিক মিথেও এসব বাহনের বর্ণনা এসেছে বারবার। এসব বাহনের মধ্যে ডানাওয়ালা ঘোড়া সহ স্বর্গীয় বিভিন্ন শক্তিশালী প্রাণীর সংখ্যাই বেশী।

মানুষের মত দেবতারাও বিভিন্ন সময়েই বিভিন্ন কারনে নিজেদের মধ্যে অথবা বাইরের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোও মানব নির্মিত অস্ত্রসমূহের মত হলেও সেগুলো ছিলো অপরিসীম ধবংসাত্মক এবং বিশালাকার। দেবতারাও বর্ম, শিরস্ত্রাণ ইত্যাদি পরিধান করতেন যুদ্ধক্ষেত্রের পোশাক হিসেবে।

পরবর্তী পর্বঃ গ্রিক মিথলজিঃ পরিচিতি (পর্ব-৩)

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৪:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ -ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট -টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×