somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

A Mid-life Philosophy - 1

১৩ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“ওই মানুষটির জন্ম হয়ে কি লাভ যে মৃত্যুর আগে পৃথিবীটাকে আরেকটু সুন্দর করে যেতে পারল না ?”- আমার অনেক পছন্দের একটি উক্তি। হাজার হাজার ফিলসফার ও জ্ঞানী-গুণী মানুষের লাখো লাখো বিখ্যাত উক্তির মাঝে এই উক্তিটিকেই আমার সর্বশ্রেষ্ঠ মনে হয়। একজন মানুষ ঠিক তখনই পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে যখন সে তার জীবনের লক্ষ্যটাকে চিহ্নিত করতে পারে। যখন সে নির্ধারণ করতে পারে যে সে আসলে কী কাজে তার জীবনের বাকি সময়টাকে ব্যয় করবে। কোন আদর্শে সে বাকি পথটুকু হাঁটবে। আর কোন মানুষ যদি কোন একটি আদর্শের মাঝে তার জীবন পার করতে চায় তো “পৃথিবীকে সুন্দর করে তোলা”র চেয়ে ভালো আদর্শ আর কি হতে পারে ?

মানুষ তার সমগ্র জীবনে দুধরনের কাজ করে। এক শ্রেণীর কাজ তার জীবিকা উপার্জনে সাহায্য করে। আরেক ধরণের কাজ হল সেগুলো যেগুলো তার মৃত্যুর পর তার আশে-পাশের লোকজন তার ব্যাপারে মনে রাখে।

আচ্ছা,আপনি কখনও ভেবে দেখেছেন যদি এই পৃথিবীতে আপনার কোন অস্তিত্বই না থাকত তাহলে কী হত ? অথবা আপনি যদি ঠিক এই মুহূর্তটাতে মারা যান তাহলে আসলে কি কারো কিছু যাবে আসবে? পরিচিত আত্মীয়-স্বজনরা হয়ত কিছুদিন কান্নাকাটি আহাজারি করবে,ওটা সবার আত্মীয়-স্বজনই করে। কিছুদিন পরই সবাই শোক কাটিয়ে ওঠে,তারপর ধীরে ধীরে সবই ঠিক হয়ে যায়। কারো মৃত্যুতে পৃথিবীর কিচ্ছুই আসে যায় না। আপনার চিন্তা,আপনার অনুভূতি,চাওয়া-পাওয়া,না পাওয়া,আপনার সামাজিক অবস্থান,আপনার ধর্ম,মুল্যবোধ এসবের আলাদা করে কোন মুল্যই নেই। সব মানুষই এসব অনুভূতি বা প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। তাহলে ? এই পৃথিবীতে আপনার জন্ম নেয়াটা আসলেই কি গুরুত্বপূর্ণ ? গুরুত্বপূর্ণ হলে কেন গুরুত্বপূর্ণ? কি করছেন আপনি? নাকি আপনার জীবনটা শুধুমাত্র জন্ম নেয়া,বেঁচে থাকা,ভালো থাকা,বংশবিস্তার করা,বাচ্চা লালন করা আর মৃত্যুবরণ করার ভিতরেই সীমাবদ্ধ ? যদি তাই হয় তো প্লিজ, আঘাত পাবেন না, আপনার সাথে একটা কুকুর (বা অন্য যে কোন বুদ্ধিহীন প্রাণী) এর কোন পার্থক্য নেই। কারন একটি কুকুরও শুধুমাত্র এসব কাজ করেই জীবন অতিবাহিত করে। এক্ষেত্রে আপনার হয়ত জীবস্বত্বা আছে কিন্তু মানবস্বত্বা নেই। আর এটা খুবই দুঃখজনক।

আমার ধারণা, মানসিকভাবে পরিণত হওয়ার কোন একটা ধাপে প্রত্যেকটি মানুষই পৃথিবীতে তার জন্মানোর কারনটা খুঁজে বেড়ায়। নিজ জীবনের অর্থ বুঝতে চায়। আর মানুষের এই কৌতূহলই মানুষের সামনে তার চলার পথ সৃষ্টি করে,উদ্দেশ্য সৃষ্টি করে। তবে সব মানুষই তার জীবনের অর্থ খোঁজে তার নিজ নিজ অভিজ্ঞতা ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও ব্যক্তিগত ঝোঁক দ্বারা প্রভাবিত হয়ে। একজন রাজা তার জীবন অতিবাহিত করে তার উতরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্রাজ্যকে আরও বিস্তৃত করতে। একজন দরিদ্র মানুষের প্রধান লক্ষ্য অর্থ। আবার অনেকের কাছে বেঁচে থাকতে পারাটাই জীবনের উদ্দেশ্য এবং জীববৃত্তিতেই সে তার জীবন কাঁটিয়ে দেয়। কেউ কেউ নিজস্ব বিশ্বাসের জন্যে লড়াই করে। কেউ বা অনেক বড় কিছু হতে চায় জীবনে। একেকজন একেক ভাবে জীবনের অর্থ খোঁজে। তবে যে যাই করুক,আমার মতে একজন মানুষের জীবন একমাত্র তখনই সার্থক হয় যখন সে ভালোবাসতে শেখে। নিজ কর্মের মাঝ দিয়ে যখন সে পৃথিবীর সেবা করে। মানুষের ভালো করে। অর্থ উপার্জনের বিনিময়ে অথবা নিজ আগ্রহে যখন কেউ ১০০% সৎ সেবা প্রদান করে। মানব জীবনের সার্থকতা প্রেমে,ন্যায়ে,ভালোবাসায়। আবারো বলছি, আপনার চিন্তা,আপনার অনুভূতি,চাওয়া-পাওয়া,না পাওয়া,আপনার সামাজিক অবস্থান,আপনার ধর্ম,মুল্যবোধ এবং সর্বোপরি আপনি, এসবের আলাদা করে কোন মুল্যই নেই যদি না সেগুলো মানুষ ও পৃথিবীর কোন কল্যাণে না আসে।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ গুগল।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ৯:৫৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ -ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট -টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×