somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার লেখা প্রথম গল্প

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি!!
কি বলছিস এসব?
নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। হঠাৎ করে কি হয়ে গেল? আচ্চা, ও পারবে তো সবকিছু ভুলে নিজেকে মানিয়ে নিতে?
আর আমি? কি নিয়ে বাঁচব আমি? কিভাবে আমি ওর রেখে যাওয়া স্মৃতি ভুলে থাকব? নাহ্‌। আর ভাবতে পারছি না। এরকম তো হওয়ার কথাই ছিল না। সবইতো ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এই তো, বছর দুই আগের কথা...
ভার্সিটিতে এসে প্রথমে নাবিলার সাথেই বন্ধুত্ব হয়। খুবই ফ্রেন্ডলি ছিল মেয়েটি। দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব ছাড়াও আরও যে কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে, আমার মাথায়ই আসেনি।
একদিন নাবিলা আমাকে বলল যে বাসায় ওর বিয়ের জন্য তোড়জোড় চলছে। কথাটা শুনে কেন যেন আমার বুকের বাঁ দিকটা মোচর দিয়ে উঠল। আমি আমার দাঁত কেলানো হাঁসি দিয়ে বললাম, “তাই না কি? আমাকে দাওয়াত দিবি তো?” ও কিছু বলল না। কিন্তু খেয়াল করলাম ওর চোখের কোনে এক বিন্দু পানি জমছে। আমি তাই ওকে আবার জিজ্ঞাস করলাম, “কি রে? তুই কাঁদছিস নাকি? তোর কি পছন্দের কেউ আছে নাকি?” এরপর আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ও সেদিন কিছু না বলে চলে গেল।
এরপর আমি ওর বান্ধবি তুলির মাধ্যমে জানতে পারলাম যে নাবিলা আমাকে ভালবাসে। ও আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এ জীবনে আনার কথা ভাবতেও পারবে না। তখন আমি বুঝলাম ওর বিয়ের কথা শুনে আমার বুকের ভিতর কেন মোঁচড় দিয়ে উঠছিল। আসলে আমিও যে ওকে নিজের অজান্তে ভালবেসে ফেলেছিলাম। কি আশ্চর্য! আমি নিজেই তা জানতাম না?
কিন্তু আমি এখন কি করবো? আমার যে এখনো গ্রাজুয়েশনই শেষ হয়নি। আমি কি করে এখন বিয়ে করবো?
তারপর যে করেই হোক নাবিলা তার বাসার সবাইকে বলে কয়ে আপাতত বিয়ের চিন্তাটা মাথা থেকে ঝেরে ফেলাতে সক্ষম হল। আর আমাদের জীবনে শুরু হল নতুন অধ্যায়। ওকে নিয়ে কাটানো প্রতি মুহুর্তই যেন ছিল মধুর থেকে মধুরতম। দুজন শুধু নিজেদের সোনালী ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে ভাবতে দিন কাটাচ্ছিলাম। এই তো আর ক’দিন। অনার্স শেষ করেই একটা চাকরি করবো। আর নিজেদের সুখের নীড় সাজাবো।
সেমিস্টার ফাইনাল শেষে বাড়ি আসলাম। সিমটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নাবিলার সাথে কথা বলতে পারিনি। আর গ্রামে নতুন সিম কেনাও সহজ ছিল না। ভার্সিটিতে এসে নাবিলাকে দেখতে পাচ্ছিনা। ওর ফোনও বন্ধ। পরে তুলির মাধ্যমে জানতে পারলাম যে নাবিলা ওর পরিবারের চাপে পড়ে বিয়ে করেছে!!!!! 
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×