somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধু কিংবা মনোবিক্ষণ যন্ত্র

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইমরান বনি খুব ভোড়ে ঘুম থেকে উঠে চুপি চুপি বাথরুম সেরে তৈরি হয়ে নিল। আজ অহনার সাথে প্রথম দেখা করতে যাবে। ফেসবুকে দু’জনের পরিচয়। অত:পর ফোনালাপ। দের মাস অতিক্রান্ত হবার পর তারা আজ দেখা করবে। ওদের রিলেসনের কথা কাউকে জানায়নি ইমরান। মেসের বন্ধুগুলোর জ্বালায় একটা প্রেমও করা যায়না। তাহলেই দিন রাত খোঁচানো শুরু করবে ওরা। যেন মেসের কেউ টের না পায়, এজন্য কোড ল্যাঙ্গুয়েজ ইউস করে ফোনে নিয়মিত কথা বলত ইমরান।

যাই হোক, কাউকে না জানিয়ে বাসা থেকে চুপি চুপি বের হল ইমরান। একটু নার্ভাসও ফিল করেছ বটে।

ইমরান পার্কের বেঞ্চির উপর একা একা বসে বাদাম খাচ্ছে। অহনার আসতে আরও লেট হবে। ফ্রেন্ডদের ভয়ে তারাতারি চলে এসেছে ইমরান। ওই তো, অহনাও আসছে। ছবির থেকেও অনেক সুন্দর অহনা। দেখে যেন চোখ ফেরানো যায় না।

(**ফার্স্ট ডেটিং এর অভিজ্ঞতা না থাকায় এই অংশটা স্কিপ করতে হল।)

সারাদিন পর বাসায় ফিরল ইমরান। আজ দিনটি তার অনেক আনন্দে কেটেছে। অহনার সাথে প্রথম দিনের সাক্ষাতেই বেশ আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি হয়েছে দুজনের। সারাদিন রিক্সায় করে ঘোরা, গল্প করা, একসাথে লাঞ্চ করা, বিকেলে নদীর পাড়ে হাটতে যাওয়া সবকিছুই অনেক আনন্দে কাটিয়েছে দু’জনে। আর অহনার কথা তো ভাবাই যায় না। অসাধারন এই মেয়েটি। সারাক্ষন মুখে হাসি লেগেই থাকে। আর ইমরান কিছু বলার আগেই সব বুঝে যায় মেয়েটা। মাইন্ড রিডারও বটে। এমন মেয়ের সাথে এক জীবন কাটিয়েও যেন মন ভরবে না।

কিন্তু মেসের সবাই আমার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে কেন? ধুর, ও কিছু না। সব আমার মনের ভয়। ওদেরকে ঘুনাক্ষরেও কিছু বুঝতে দেয়া যাবে না। যাই ফ্রেস হয়ে নেই। এই বলে বাথরুমের দিকে হাটা ধরল ইমরান।

কাউন্ট ডাউন শুরু... ৪...৩...২...১...আআআ...আআআ...আআআ...
বাথরুম থেকে ইমরানের গগনবিদারী চিত্কার শোনা যাচ্ছে। এইরে ও তো লাঠি নিয়ে আসছে।
সাথে সাথে সবাই গায়েব।

ইমরান বাথরুমে গিয়ে আয়নার দিকে তাকাতেই দেখে পুরো আয়না জুড়ে তার জানপাখি অহনার একটি ছবি লাগানো।
-এই ছবি ওরা পেল কোথায়? ছবিটা ফেসবুক থেকে ডাউনলোড করে রাখছিলাম। এত কষ্ট করে ব্যাপারটা গোপন রাখতে চাইলাম, তাও ওরা টের পেয়ে গেল!! এমনকি আমার পিসি থেকে ছবিটা নিয়ে প্রিন্টও করে ফেলল!! নাহ্ ওদের জ্বালায় পাসওয়ার্ড দিয়েও শান্তি নাই।

এই বলে লাঠি নিয়ে তাড়া করতে আসলো ইমরান। কিন্তু সবাই তো গায়েব!!
-ওই শালারা, কই তোরা? বের হ বলছি। আজ তোদের একদিন কি আমার একদিন
-মামা, ডুবে ডুবে জল খাও? আমাদের খাওয়াবা কবে??
-এই নে জগ, যত খুশি খেয়ে নে।
-না মামা, তাতে হবে না।
বলেই এক এক করে বের হয়ে এল সবাই। বেরিয়েই ইমরানকে জাগিয়ে কাধে তুলে নিল সবাই।
-এই শালা, নামা আমাকে
-এতদিন বলিসনি কেন? আমরাও একটু দেখতাম
-আমাকে নামা। অন্য একদিন দেখাবো নে
-তা তো দেখাবাই। আগে বল আজ কি খাওয়াবি?
-আগে তো নামা আমাকে
-ঠিক তো?
-ঠিক রে বাপ
সবাই ওকে নামিয়ে উল্লাস ধ্বনী শুরু করল।

সবই ঠিক আছে। ইমরানের কাছে শুধু একটা জিনিসই খটকা লাগছে। এত সাবধানতার পরও ওরা ব্যাপারটা জানলো কি করে?
-নাহ্! ওদের নিয়ে আর পারা গেল না।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×