খুব সকালে ঘুম ভাঙলো,
ঘড়িতে তখন ঠিক ছ'টা,
আমার পাশেই ঘুমিয়ে আছে,
খুব আদরের ছোট্ট মেয়েটা।
হাতে সময় এক ঘন্টা,
এর মাঝেই গোসল-খাওয়া,
শার্ট-প্যান্ট-জুতো পড়ে,
বাসে ঝুলে অফিস যাওয়া।
আজকে মাসের বেতন হবে,
গতকালই শুনেছি তা,
মেয়েটা আমার খুব ধরেছে,
দিতে হবে রঙীন জুতা।
জানুয়ারির হালকা শীত,
দিনটা ভালোই বলতে হবে,
মিনিট দশেক দাড়িয়ে থেকে,
পেয়ে গেলাম বাসের সিট।
সন্ধ্যে অব্দি অফিস করে,
পুরো বেতন পকেট পুরে,
ছোট্ট মেয়েটার ছোট্ট মুখে, বড় হাসি দেখবো বলে,
সস্তা দামের রঙীন জুতো প্যাকেট করে,
মন্দ কপাল!
ফিরছি বাসায় বাসে ঝুলে।
রাস্তা বাকি মিনিট বিশেক,
ভাবছি মনে চলতি মাসে, পাওনা কিছু করবো শোধ,
আর শুনছি বাসের ভেতর, জমেছে খুব তর্কের ঝড়,
প্রসঙ্গটাও খুব চেনা, পলিটিক্স আর অবরোধ।
রাস্তা বাকি মিনিট দশেক,
ঘড়িতে এখন ন'টা ছয়,
নয়ে-ছয়ের সন্ধিক্ষণে,
বিধাতা জানেন কখন কী হয়!
হঠাৎ করেই আগুন গোলা,
সবাই বলে পেট্রোল বোম,
ধেয়ে আসছে আমার দিকে,
জড়িয়ে ধরলো আমায় যম।
এক নিমিষে গোটা শরীর, জলন্ত এক অগ্নিগিরি,
ছোট্ট জুতো পুড়ছে হাতে, কেউ খেলছে লুকোচুরি।
জ্ঞান হারালাম। না, না ভুল হলো,
জানিনা ঠিক কী হলো, এতটুকুই মনে ছিলো।
পোড়া শরীরের যন্ত্রনাটাও আগুনে পোড়া,
কেউ জানেনা আমি ছাড়া।
আবার যখন ঘুম ভাঙলো,
জানিনা ঠিক বাজে ক'টা,
আমার পাশেই যাচ্ছে কেঁদে,
খুব আদরের ছোট্ট মেয়েটা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


