
নাগরিলিপি
-----------
আমরা জানি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট নানা কারণে প্রসিদ্ধ। জৈন্তিয়া পাহাড়ের মোহনীয় রূপ, জাফলং এর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ভোলাগঞ্জের পাথরের সারি, বিছনাকান্দির মনোমুগ্ধকর জলরাশি, মাধবকুণ্ডের চোখ জুড়ানো বিশাল জলপ্রপাত, চায়ের রাজধানী মনমোহিনী শ্রীমঙ্গলের সারি সারি চা বাগানের সবুজ গালিচা, আরো কত কী!
কিন্তু একটা ব্যাপার আমাদের অনেকেরই জানা নেই, আর তা হলো সিলেটের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা। সিলেটি ভাষা নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ ও রসিকতা বিদ্যমান আমাদের দেশে। অথচ বহুভাষাবিদ ড. সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে "সিলেটী একটি ভাষা এবং বহু দিক দিয়ে এ ভাষা অনন্য বৈশিষ্ট্যের দাবিদার।"
আমাদের দেশে অঞ্চলভিত্তিক ভাষা থাকলেও নিজস্ব লিখন পদ্ধতি নেই। সিলেটের রয়েছে স্বতন্ত্র ভাষা এবং নিজস্ব লিখন পদ্ধতি যা নাগরিলিপি নামে পরিচিত। নাগরিলিপিতে ৩২টি বর্ণ আছে। এর মধ্যে স্বরবর্ণ আছে ৫টি (আ ই উ এ ও)। এই ভাষার ইতিহাসও অনেক প্রাচীন।
আগেরদিনে দাদি নানিরা বিকেল হলেই নাগরিলিপিতে লেখা বই নিয়ে বসতেন পড়ার জন্য। তারা সেটাকে বলতেন পুঁথি পাঠ। পুঁথিতে কাব্য আকারে নাগরিলিপিতে সিলেটি ভাষায় লিখা থাকতো বিভিন্ন কাহিনী। তারা দল বেঁধে সুর করে সেটা পড়তেন।
ধারণা করা হয়, বাংলা ভাষার সব চেয়ে প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদ সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় লিখা হয়েছিল। প্রাচীন নিদর্শন এই নাগরিলিপি এখন বিলুপ্তির পথে।
ছবি: সংগৃহীত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






