বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেটদলের সাম্প্রতিক হতাশাজনক পারফরম্যানন্সের পর পত্রিকায়, ব্লগে নানা কথা বলা হচ্ছে। এই বিশ্বকাপে আমাদের ক্রিকেটারদের উপর প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশী। সত্যিকার অর্থে এই প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছিলেন তারাই, তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল তারা অন্তত তিনটি ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করবে । কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৫৮ রানে অলআউট হয়ে তারা আমাদের মতো সাধারণ দর্শকদের হতাশ করেছে। কিন্তু বিষয় হচ্ছে, এ পরাজয়ের পর যেভাবে পত্র-পত্রিকা, টিভি চ্যানেলে ক্রিকেটারদের ক্রমাগত রূঢ় সমালোচনা করা হচ্ছে, তা কি সত্যিই তাদের পাওনা?
বাংলাদেশী হিসেবে জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমরা দেখি হতাশার ছায়া। এদেশের রাজনীতি হতাশার, অর্থনীতি হতাশার, ভবিষ্যত হতাশার। আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির রেকর্ড আজ বিশ্বে পিএইইচডি থিসিসের বিষয় । আমাদের খাবারে বিষ, পানিতে আর্সেনিক, নদী যাচ্ছে শুকিয়ে, দেশ যাচ্ছে সমুদ্রে ডুবে। আমাদের শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা আতংকিত, আমাদের সড়কে আজ দূর্ঘটনার বিভীষিকা। আমাদের মানুষগুলো সার্বক্ষণিক স্নায়ুর চাপে অস্থির, তাদের ধৈয্য তিলমাত্র। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের আশা কোথায়? কোথায় আমরা মুগ্ধ চিত্তে কিছু সময় ব্যয় করতে পারি? আমাদের অবসর বিনোদনের কি উপকরণ এ দেশে আবালবৃদ্ধবণিতার প্রযোজ্য?
ক্রিকেট বর্তমানে বাংলাদেশের এক নম্বর খেলা। এদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বছরের পর বছর আমরা দেখে এসেছি নৈরাজ্যের উল্লম্ফন। আমাদের বাফুফে নিজের হাতে খুন করেছে ফুটবলের অমিত সম্ভাবনা, আমাদের কমনওয়েলথ স্বর্ণজয়ী শুটার আসিফ পুলিশের পিটুনিতে খেলা ছেড়েছে, অলিম্পিক মায় সাফ গেমসে পর্যন্ত আমাদের ক্রীড়াবিদদের ফলাফল পত্রিকায় ছাপানোর অনুপযোগী। তবে ক্রিকেটের কেন এত সমালোচনা?
আমি তো বলব ক্রিকেটারদের গত ম্যাচের ফল বিপর্যয়ের অনেকটা দায়ভার নিতে হবে এদেশের ব্যবসালোভী, কান্ডজ্ঞানহীন মিডিয়াকে। তারা আমাদের প্রত্যাশাকে করেছে আকাশচুম্বী, ক্রিকেট সম্পর্কে তৈরী করেছে ক্ষতিকর “মিডিয়া হাইপ”, যার ফলে প্রত্যাশার বিপুল চাপে ভেঙে পড়েছে ক্রিকেটাররা। আয়ারল্যন্ডের বিপক্ষে জয়ের পরেই আমরা দেখলাম যেন বিশ্ব জয় হয়ে গেল। চ্যানেলে চ্যানেলে ক্রিকেটারদের সাক্ষাতকার, এক শ্রেণীর বুড়ো, প্রাচীন ক্রিকেটাররা দিতে থাকলেন লাইভ উপদেশ, জনতার নাচানাচি, দুচারজন সমর্থকের মৃত্যু। এতো কেন বাবা? ভারত কি ম্যাচ জেতে না? কই একটা ম্যাচ জিতলেই তো তারা চ্যানেলে চ্যানেলে কথা বলেন না। তাদের দেশীয় হাজার চ্যানেলে তো বিশ্বকাপের ম্যাচের লাইভ ফলাফল থাকেনা, দিনের শেষে ম্যাচ নিয়ে তো এতো অযাচিত, ফালতু বিশ্লেষণ থাকে না। আমাদের দেশে এগুলো হচ্ছে, কারণ আমাদের পাবলিক এগুলো বেশ “খায়”।ব্যবসা তো করতে হবে রে ভাই। এর প্রতিবাদ কোথায় জানাবেন , এই ব্লগ ছাড়া?
আমি বলব , ক্রিকেটকে তার মতো চলতে দিন। যে খেলাটি আমাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এতো খ্যাতি এনে দিয়েছে, যা আমাদের এতো গর্বের ধন, তার প্রতি সবাই আরেকটু ম্যাচিওর আচরণ করি।খেলায় হার জিত থাকবেই, তার পরো এটি খেলা মাত্র। আর ক্রিকেটের পুরনো কান্ডারীদের প্রতি অনুরোধ, যাদের কারণে আজ টিভি চ্যানেলে মুখ দেখাতে পারছেন, তাদের প্রতি আরো যথার্থ আচরণ করুন, সাধারন ভক্তদের মতো প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে নয়। আর আমাদের স্বনামখ্যাত টিভি চ্যানেল আর পত্রিকাঅলাদের প্রতি অনুরোধ, ক্রিকেট ফ্যানদের আবেগ নিয়ে ব্যবসা না করে, যা করা কর্তব্য তাই করুন।পরিশীলিত সংবাদ প্রকাশ করুন, অকারণে মিডিয়া হাইপ তৈরী করা বন্ধ করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


