জানিনা দূর আকাশের কোন তারাটা হয়ে মিটিমিটি জ্বলছো। তবে জীবনের এ প্রান্তে এসে তোমার প্রয়োজনটা খুব বেশী অনুভব করছি। ভালোভাবে কিছু বুঝে ওঠার আগেই চলে গেলে তুমি না ফেরার দেশে। জানি আমার ছোট ছোট ভুলগুলো তোমাকে অনেক বেশী কস্ট দিয়েছে। জানিনা কখনো ক্ষমা করবে কিনা আর ক্ষমা চাইবার সুযোগটাও দিলেনা তার আগেই পাড়ি জমালে ওপাড়ে। হয়তো তুমি আজ থাকলে আমার জীবনকে দুটো স্বার্থপর, নিষ্ঠুর, অকৃতজ্ঞ অভিশাপ কখনোই স্পর্শ করতে পারতোনা। তুমি সত্যি আমার একজন ভালো বন্ধুও ছিলে। নিজের অজান্তে হয়তো তোমায় বড্ড বেশী কস্ট দিয়ে ফেলেছি। তবে কি জানো বাবা? তোমায় আমি অনেক বেশী ভালোবাসতাম কিন্ত কখনো তোমায় ছুয়ে বলা হয়নি "বাবা তোমায় ভীষণ ভালোবাসি"। সেই যে বৃহস্পতিবার যেদিন তুমি হাসপাতাল থেকে বাড়ী ফিরলে তোমার চোখের দিক সেদিন তাকাতে পারিনি কেন যেন সেেদিন খুব কান্না পেয়েছিল। তুমিতো জানো আমি কাদতে পারিনা তবুও বুক ফেটে কান্না আসছিলো। তারপর দাদা বড়মা আর মা তোমায় ধরে বাড়ীর মধ্যে আনলো তখন কেন যেন বারংবার তুমি আমার দিক তাকাচ্ছিলে আজও সে রহস্য খুজে পাইনি। তারপর বাড়ী এলে আমি সারাদিন বাইরে থাকলেও সেদিন ঘরের চারপাশেই ঘুরঘুর করছিলাম। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল সবাই তোমার শিউরে বসেছিল আমিও কতক্ষন পর পর তোমায় দেখছিলাম। আস্তে আস্তে রাত গভীর হলো। মা তোমার মাথার পাশে বসে রইলো। আমি সামনের ঘরে শুতে গেলাম। কিছুতেই ঘুম আসছিলোনা। তবে সেই কালরাত্রিতে একটা অদ্ভুত অনুভুতি হয়েছিল শুনবে? তবে শোন; আমি ওপাশের ঘরে শুইলেও কানদুটো যেন তোমার নিশ্বাস স্পর্শ করতে চাচ্ছিলো। তুমি যখন কোকাচ্ছিলে তখন আমি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতাম যখন তোমার কোকানি বন্ধ হয়ে যেত তখন অস্থির হয়ে যেতাম ভাবতাম ওপাশের ঘরে কি হচ্ছে কেন কোন শব্দ নাই চারদিক কেন এত থমথমে হয়ে গেছে, হঠাত টিনের চালের উপর শিশিরের টুপ টাপ শব্দে জ্ঞান ফিরে পেতাম। আমার জীবনের সবচেয়ে কস্টে কাটানো সেই বৃহস্পতিবার রাত। সারা রাত ঘুম হলোনা। বিছানায় এপাশ ওপাশ করে রাতটা কাটলো। সকাল হলো। সেদিন শুক্রবার। ঘুম থেকে উঠেই তোমার রুমের সামনে দাড়াতেই তুমি আমায় ডাক দিয়ে বললে তোমার পা টিপে দিতে। আমি তোমার পা টিপে দিচ্ছি ব্যাথা পাবে ভেবে জোরে পা টিপিনি তুমি বিরক্ত হয়ে বললে আমি নাকি পা টিপতে জানিনা। বাবা সেদিনই কিন্ত জীবনে প্রথমবার আদেশ করেছিলে। আর আমার ভাগ্যটা দেখ তুমি আমায় প্রথম কোন আদেশ করলে সেটাতেও তোমাকে সন্তষ্ট করতে পারিনি। খুব কান্না পাচ্ছে বাবা! জীবনে প্রথমবার তোমার সেবা করার সুযোগ পেয়েছিলাম আর সেটাই আমার জীবনে তোমায় দেয়া অন্তিম সেবা হলো। ভেবেছিলাম খুব তাড়াতাড়ি সেড়ে উঠবে আর আমার সব আবদারগুলো আগের মত পূরন করবে কিন্ত তা আর হলোনা। সময় বড়ই বেরহম হয়। এবার সময় হলো তোমার ওষুধ খাওয়ার। দাদা আসলো ওষুধ খাওয়াতে আর আমি গেলাম এ্যম্বুলেন্সে ফোন করতে কারন, তোমায় আবার হাসপাতাল নিয়ে যাবো। দাদা ওষুধ খাওয়ানোর জন্য তোমার মুখের কাছে প্রথমে জলের গ্লাসটা ধরলো এক চুমুকে খানিকটা পান করলে। শুনেছি সেটাই নাকি ছিলো তোমার জীবনের শেষ খাবার। জলপানের পরমুহুর্তেই নাকি পৃথিবীর সাথে সমস্ত মায়ার বাধন ছিন্ন করেছিলে। বাড়ীর সামনে আসতেই শুনি ঘর থেকে মায়ের চিৎকার দৌড়ে ঘরে এলাম যদিও দৌরানোর শক্তি ততক্ষনে হারিয়ে ফেলেছিলাম। তোমার মাথার কাছে এসেই দেখি তোমার অন্তিম ঘুমে মঘ্ন নিথর দেহটা। আমার চারপাশটা স্তব্ধ হয়ে গেলো বুকের মধ্যে বেজে উঠলো বিষাদের বিষময় বাশী। আহ! চোখ বেয়ে জল পরছে। জানো বাবা? তুমি যেদিন চলে গেলে সেদিন থেকেই আমার জীবনটা হয়ে উঠলো মাঝিবিহীন এক ভাঙ্গা তরী। এখন যে যার মত করে তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। বাবা তোমার কাছে আরও একটা নালিশ আছে সবকিছু ভুলে আমি একটা সুন্দরের হাতে হাত রেখেছিলাম শেষ পর্যন্ত সেও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। জীবনের সর্বস্য দিয়ে পাগলের মত ভালোবেসেছিলাম কিন্ত চলে গেল হয়তো ওর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। এখন আমি একা! বড্ড একা!!!পরাজয়ের গ্লানি আর তীব্র হতাশা আমাকে গ্রাস করেছে। বাবা তোমায় এখন বড্ড জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে। বাবা আমি যখন এ জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে পরবো ঠিক তোমার কাছে চলে আসবো সেদিন তোমায় জড়িয়ে ধরে চিতকার করে কাদবো আর বলবো " বাবা সত্যিই তোমায় বড্ড বেশী ভালোবাসি"।।
ভীষণভাবে তোমায় অনুভব করছি "বাবা"
সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ
পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।
বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর....
বর্তমান সচিবালয়ের আয়তনঃ ঢাকার আবদুল গনি রোড- সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বর্তমান বাংলাদেশ সচিবালয় প্রায় ৩২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে মাত্র ১৭ লাখ বর্গফুট যায়গায় অপরিকল্পিত ভবন নির্মিত... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!
খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?

পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?
রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।