somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভীষণভাবে তোমায় অনুভব করছি "বাবা"

১১ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানিনা দূর আকাশের কোন তারাটা হয়ে মিটিমিটি জ্বলছো। তবে জীবনের এ প্রান্তে এসে তোমার প্রয়োজনটা খুব বেশী অনুভব করছি। ভালোভাবে কিছু বুঝে ওঠার আগেই চলে গেলে তুমি না ফেরার দেশে। জানি আমার ছোট ছোট ভুলগুলো তোমাকে অনেক বেশী কস্ট দিয়েছে। জানিনা কখনো ক্ষমা করবে কিনা আর ক্ষমা চাইবার সুযোগটাও দিলেনা তার আগেই পাড়ি জমালে ওপাড়ে। হয়তো তুমি আজ থাকলে আমার জীবনকে দুটো স্বার্থপর, নিষ্ঠুর, অকৃতজ্ঞ অভিশাপ কখনোই স্পর্শ করতে পারতোনা। তুমি সত্যি আমার একজন ভালো বন্ধুও ছিলে। নিজের অজান্তে হয়তো তোমায় বড্ড বেশী কস্ট দিয়ে ফেলেছি। তবে কি জানো বাবা? তোমায় আমি অনেক বেশী ভালোবাসতাম কিন্ত কখনো তোমায় ছুয়ে বলা হয়নি "বাবা তোমায় ভীষণ ভালোবাসি"। সেই যে বৃহস্পতিবার যেদিন তুমি হাসপাতাল থেকে বাড়ী ফিরলে তোমার চোখের দিক সেদিন তাকাতে পারিনি কেন যেন সেেদিন খুব কান্না পেয়েছিল। তুমিতো জানো আমি কাদতে পারিনা তবুও বুক ফেটে কান্না আসছিলো। তারপর দাদা বড়মা আর মা তোমায় ধরে বাড়ীর মধ্যে আনলো তখন কেন যেন বারংবার তুমি আমার দিক তাকাচ্ছিলে আজও সে রহস্য খুজে পাইনি। তারপর বাড়ী এলে আমি সারাদিন বাইরে থাকলেও সেদিন ঘরের চারপাশেই ঘুরঘুর করছিলাম। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল সবাই তোমার শিউরে বসেছিল আমিও কতক্ষন পর পর তোমায় দেখছিলাম। আস্তে আস্তে রাত গভীর হলো। মা তোমার মাথার পাশে বসে রইলো। আমি সামনের ঘরে শুতে গেলাম। কিছুতেই ঘুম আসছিলোনা। তবে সেই কালরাত্রিতে একটা অদ্ভুত অনুভুতি হয়েছিল শুনবে? তবে শোন; আমি ওপাশের ঘরে শুইলেও কানদুটো যেন তোমার নিশ্বাস স্পর্শ করতে চাচ্ছিলো। তুমি যখন কোকাচ্ছিলে তখন আমি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতাম যখন তোমার কোকানি বন্ধ হয়ে যেত তখন অস্থির হয়ে যেতাম ভাবতাম ওপাশের ঘরে কি হচ্ছে কেন কোন শব্দ নাই চারদিক কেন এত থমথমে হয়ে গেছে, হঠাত টিনের চালের উপর শিশিরের টুপ টাপ শব্দে জ্ঞান ফিরে পেতাম। আমার জীবনের সবচেয়ে কস্টে কাটানো সেই বৃহস্পতিবার রাত। সারা রাত ঘুম হলোনা। বিছানায় এপাশ ওপাশ করে রাতটা কাটলো। সকাল হলো। সেদিন শুক্রবার। ঘুম থেকে উঠেই তোমার রুমের সামনে দাড়াতেই তুমি আমায় ডাক দিয়ে বললে তোমার পা টিপে দিতে। আমি তোমার পা টিপে দিচ্ছি ব্যাথা পাবে ভেবে জোরে পা টিপিনি তুমি বিরক্ত হয়ে বললে আমি নাকি পা টিপতে জানিনা। বাবা সেদিনই কিন্ত জীবনে প্রথমবার আদেশ করেছিলে। আর আমার ভাগ্যটা দেখ তুমি আমায় প্রথম কোন আদেশ করলে সেটাতেও তোমাকে সন্তষ্ট করতে পারিনি। খুব কান্না পাচ্ছে বাবা! জীবনে প্রথমবার তোমার সেবা করার সুযোগ পেয়েছিলাম আর সেটাই আমার জীবনে তোমায় দেয়া অন্তিম সেবা হলো। ভেবেছিলাম খুব তাড়াতাড়ি সেড়ে উঠবে আর আমার সব আবদারগুলো আগের মত পূরন করবে কিন্ত তা আর হলোনা। সময় বড়ই বেরহম হয়। এবার সময় হলো তোমার ওষুধ খাওয়ার। দাদা আসলো ওষুধ খাওয়াতে আর আমি গেলাম এ্যম্বুলেন্সে ফোন করতে কারন, তোমায় আবার হাসপাতাল নিয়ে যাবো। দাদা ওষুধ খাওয়ানোর জন্য তোমার মুখের কাছে প্রথমে জলের গ্লাসটা ধরলো এক চুমুকে খানিকটা পান করলে। শুনেছি সেটাই নাকি ছিলো তোমার জীবনের শেষ খাবার। জলপানের পরমুহুর্তেই নাকি পৃথিবীর সাথে সমস্ত মায়ার বাধন ছিন্ন করেছিলে। বাড়ীর সামনে আসতেই শুনি ঘর থেকে মায়ের চিৎকার দৌড়ে ঘরে এলাম যদিও দৌরানোর শক্তি ততক্ষনে হারিয়ে ফেলেছিলাম। তোমার মাথার কাছে এসেই দেখি তোমার অন্তিম ঘুমে মঘ্ন নিথর দেহটা। আমার চারপাশটা স্তব্ধ হয়ে গেলো বুকের মধ্যে বেজে উঠলো বিষাদের বিষময় বাশী। আহ! চোখ বেয়ে জল পরছে। জানো বাবা? তুমি যেদিন চলে গেলে সেদিন থেকেই আমার জীবনটা হয়ে উঠলো মাঝিবিহীন এক ভাঙ্গা তরী। এখন যে যার মত করে তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। বাবা তোমার কাছে আরও একটা নালিশ আছে সবকিছু ভুলে আমি একটা সুন্দরের হাতে হাত রেখেছিলাম শেষ পর্যন্ত সেও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। জীবনের সর্বস্য দিয়ে পাগলের মত ভালোবেসেছিলাম কিন্ত চলে গেল হয়তো ওর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। এখন আমি একা! বড্ড একা!!!পরাজয়ের গ্লানি আর তীব্র হতাশা আমাকে গ্রাস করেছে। বাবা তোমায় এখন বড্ড জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে। বাবা আমি যখন এ জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে পরবো ঠিক তোমার কাছে চলে আসবো সেদিন তোমায় জড়িয়ে ধরে চিতকার করে কাদবো আর বলবো " বাবা সত্যিই তোমায় বড্ড বেশী ভালোবাসি"।।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৪৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×