somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম জীবনে যারা কষ্ট পায় তারা ২য় জীবনে সুখী হয়........

১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুখ তুলে নিশা দেখলো বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে।আরি!আজ বৃষ্টিটা এরকম অদ্ভুত সুন্দর কেন?নিউইয়রকে তো কখনো এরকম হয় না.........আজ হঠাৎ হলোটা কি এ শহরটার???ঢাকার কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ।মেডিকেল কলেজের বারান্দা............হলের ছাদ........ঢাকা ভারসিটির রাস্তায় হুড ফেলে ঘোরা.........ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ঘুরা...........এক ঝাঁক আনন্দ হঠাৎ ছড়িয়ে গেল মনে।কাজে আবার ডুবে গেল সে,এখুনি আবার প্রফেসর এসে পড়বেন।চশমা এটেঁ আবার সে গম্ভীর ডা.নাহিয়ান নিশা হয়ে গেল।থিসিস টা শেষ হলে লন্ডনে তার চাকরি ঠিক করা আছে,এসব ভাবাবেগ র সময় এখন নাই।আরও কাজ চাই তার,আরও বেশী ব্যস্ততা যেন সবকিছু ভুলে থাকা যায়।

কি এমন হয়েছিল নিশার জীবনে?আমরা জানতে চাই,দেখে আসি কি এমন হয়েছিল ওর জীবনে ............


২০ বছর আগের ঢাকা
মগবাজারের ছোট্ট একটা বাসা,বাবা মা আর ছোট্ট একটা মেয়ে।
আর বাসার মত এই বাসাটাও হতে পারতো সুখী সুন্দর পরিবার।
হয়নি।
ছোট্ট মেয়ে টার বাবা মা কখোনই নিজেদের প্রতি বিশ্বস্ত ছিল না,দুজন দুজনের মত চলতো আর রোওওওওওওওজ ভীষন ঝগড়া করতো।কি কুৎসিত ছিল সেসব ঝগড়া।অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করতো দুজন, কখনো খেয়াল করতো না যে ছোট্ট মেয়ে টাও এসব দেখছে,শুনছে।
ছোট্ট মেয়ে টা শুধু দেখতো,সইয়ে নিত সব।কখনো তাদের মনে হয় নি যে বিত্ব আর বৈভব আর 'স্ট্যাটাসের' পিছনে তারা ঘুরছেন তা শুধু মোহ মাত্র।হঠাৎ যেমন আসে মরিচীকার মত আবার হঠাৎই চলে যাবে।বহতা স্রোতের মত গা ভাসিয়ে তারা অবহেলা করেছে তাদের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে অমূল্য, পরম পাওয়া স ন্তানটিকে।

অবহেলায়,নিরানন্দে,এ ঘর ও ঘর ঘুরে নিঃশব্দে বনধু বরজিত হয়ে কেটে গেল আরও ৮টা বছর।

মেয়েটা আরো বড় হল।ঘরের সমস্যা ত কমলো না বরং বেড়েই চলতে লাগলো।ছোট বেলায় হয়তো বা খুব খারাপ লাগতো এখন আর লাগে না জোর করে আটকে রাখে চোখের পানি।

ছোট্ট মেয়ে টা আর কয়দিন পর উচচ মাধ্যমিক দিবে।খুব মনযোগ দিয়ে সে পড়ে।তাকে খুব ভাল রেজাল্ট করতে হবে।চাকরি নিয়ে সে চলে যাবে দূরে কোথাও,এখানে আর ও থাকবে না।বাবা মার কাছ থেকে সে কখনও স্নেহ পায় নি,দুটো ভালো কথা শুনে নি।প্রচন্ড জ্বরের সময় সে যখন একটু সেবা চাইতো মাথার পাশে কাউকে পেত না।ভালো হবার পরও না।এসব কথা মনে হলে অভিমানে ঠোঁট ফুলে ওঠে,কাঁদতে চায় না তবুও দু এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে যায়।আবার ও শক্ত হয়ে ওঠে।কেন সে চোখে র পানি ফেলবে এদের জন্য যাদের কিনা তার জন্য কোন অনুভূতিই নেই।না আমি কাঁদব না একটুও না,মনে মনে চিন্তা করে সে।

অবশেষে তার পরীক্ষা শেষ হয়,শেষ হয় আডমিসন টেস্ট ও।নিজের পরিশ্রম আর মেধা র জন্য সে অবশেষে দেশের শ্রেষঠ মেডিকেল গুলোর একটিতে নিজের জায়গা করে নেয়।বিধাতা কিছু নিলে তার চেয়ে হাজার গুন ফিরিয়ে দেন -একথা টা মেয়ে টার জন্য একবারে সত্য হল।থ

নিজের স্বপ্নের দিকে এবার শুধু এগিয়ে যাওয়া..........

সত্যি হবে তো স্বপ্ন?


(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমুদ

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

আমুদ
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সে এক রাজ্যে রাজার রাজকন্যা
তাঁর রূপ, লাবণ্য, গড়নে মুগ্ধ!
সে বিকশিত গুণবতী
তাকে দেখে জাগে মনে প্রীতি!

তাঁর খুব রাগ কিন্তু মায়াবতী
তাকে দেখলে উদ্ভূত হয় প্রেম রাতারাতি।
সে উড়ে নীল আকাশে
আমি কাতর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×