somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নীল আকাশ
বিশ্বজোড়া পাঠশালাতে সবাই ছাত্র-ছাত্রী,নিত্য নতুন শিখছি মোরা সদাই দিবা-রাত্রী!

আমরা কার কাছে আর কেন হারলাম - হাথুরু না শ্রীলংকা?

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকের প্রথম আলো পত্রিকাতে প্রকাশিত সাধারন পাঠকদের মন্তব্য গুলোকে এক জায়গায় করলাম। আসলে ভুলটা কোথায়? পর পর দুটি ম্যাচ কেন হারলো বাংলাদেশ ? কোচ খুব গুরুত্বপূর্ন একটা টীমের সাফল্যের জন্য তবে সেটা শতভাগ কি হওয়া উচিৎ ? প্লেয়ার দের কি প্রতি ম্যাচে শরবত গুলে খাইয়ে দিতে হবে ? কমিটমেন্ট / রেসপোনসিবিলিটি / ডেডিকেশন / প্রাইড / দেশের প্রতি ভালোবাসা এগুলি কি বাংলাদেশের প্লেয়ারদের জন্য প্রযোজ্য নয়? আপনার কি মনে হ্য় ?



সাবেক কোচ নিয়ে মন্তব্য: আজকের পত্রিকার হেডলাইন হওয়া উচিত "হাতুড়ের কাছে হারলো বাংলাদেশ" ।

হাতুড়ের সমালোচকরা ভুলে গিয়েছিলেন একটা আগোছালো দলকে তিনি সাফল্য দেখিয়েছিলেন। এমনকি তিনি মান সম্মান নিয়ে সময় থাকতে কেটে পড়াতে অনেকেই নাক সিটকেছিলেন - এটা কোন ব্যাপার না। এখন দেখার বিষয় আমরা আবার আগের জায়গায় ফিরে যাই কিনা।

বাংলাদেশের মূল সমস্যা হলো এখানে একজন প্রফেশনাল কোচের থেকে জীবনে পিংপং বলেও ক্রিকেট না খেলা কোটি কোটি লোক খেলাটা বেশী বুঝে ।

কোচ বিহীন দল এভাবেই পথ হারাবে তাই তো স্বাভাবিক। মূল কারণ হাতুরোকে মূল্যায়ন না করা। আজ হাতুরোর কৌশলের কাছেই বাংলাদেশ হারছে। কিছু সমস্যা অবশ্যই আছে হাথুরুর। কিন্তু দিনশেষে হাথুরু একজন গ্রেট কোচ।

এনামুল, নাসির প্রমান করেছে হাথুরু কতোটা ঠিক ছিল। টেস্ট সিরিজে মুমিনুল আবার সেটা প্রমান করে দেখাবে।

হাতুরিকে নিয়ে যারা ট্রল করত এখন কেমন লাগছে।আমরা সবসময় বেশী বাড়াবাড়ি করি। অস্ট্রেলিয়া,ইংল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা টিম ও জেতার পর সেলিব্রেট করে কিন্তু এশিয়ার পাক-ভারত-বাংলাদেশের মত এত জঘন্য ভাবে মানুষকে পচিয়ে, ছোট করে, ট্রল করে সেলিব্রেট করে না।

হাতুরু জুয়া খেলেই জয়ী কিন্তু বাংলাদেশ জুয়া খেলেও জিততে পারলনা!

শ্রীলংকার সাথে প্রথম ম্যাচে এক তরফা জেতার পর হাতুরুকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কিছু ব্যক্তির গরিমা কমেণ্ট দেখে অবাক হচ্ছিলাম, সাথে ভারতের পিণ্ডিও চটকানো হচ্ছিলো!! আমি নিশ্চিত আমাদের প্লেয়াররাও এতটা অহংকারি নয়। আর এই কথাটি বলাতেই কতজন আমার উপর হায়েনার মত এক যোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল!! এরা ক্রিকেটকে খেলা ভাবার চেয়ে জিঘাংসাটাকেই বেশি মূল্যায়ন করে। বেচারা সুজন এখন এদের বলির পাঁঠা হতে যাচ্ছেন!

আমাদের সমস্যা হচ্ছে যে কোনো দিন ব্যাট বল ধরেনি সেও আন্তর্জাতিক কোচের থেকে ভালো বুঝে। যেমন আমাদের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাহেব। যে জায়গায় ৮২ রানে অল আউট হচ্ছে তার পরের ম্যাচে নিয়মিত ৫ বোলার খেলায়।
অনেকই হাতুরেসিং কে নিয়া প্রথম ম্যাচ কত জন কত জন রকম মন্তব্য করেছিলেন , এখন তাড়া কথায় ?
এরকম একজন কোচ আমরা হারিয়েছি। যাক, যা হয়েছে তা নিয়ে মাথা ঘামনোর কিছু নেই। হাথুরু নিশ্চয়ই কোন একগুঁয়েমি করেছিল যার কারনে কিছুটা মনোমালিন্য আর তারপর বিদায়। তবুও বাংলাদেশের হয়ে সে যে একজন সফল কোচ ছিল এবং অত্যন্ত চৌকস একজন বাজিকর তাতে কোন সন্দেহ নাই। অদূর ভবিষ্যতে হয়ত সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ার মত টিমের কোচিং অফার পেতে পারে।

নিঃসন্দেহ হাতুরাসিংহে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অনেক দিয়েছিলেন। তার অনুপস্থিত দলের নড়বড়ে অবস্থা দেখেই বোঝা যায়। এই যে নাসির নিয়ে তাকে কত সমালোচনা শুনতে হয়েছিল। নাসির কি মানের খেলোয়াড় সে তো আমরা দেখলাম।

জাতীয় দলের খেলোয়ারদের নিয়ে মন্তব্য: প্রথম ১০-১৫ অভারের অতি নিম্নমানের স্টাইক রেটই বলে দিচ্ছে, স্নায়ুচাপে ভোগাই বার বার ফাইনালে অসহায় আত্মসমর্পণের মূল কারন।

ঢং এর কান্নায় লাভ কি ! নাসির আর সাব্বিরের যা পারফরমেন্স এর চেয়ে উত্তম ফল আশাকরা যায় কি করে?

ছি ছি এ লজ্জা রাখি কোথায়!! কয়েক বছর ধরে বদলে যাওয়া তামিম কেও আজ কেন জানি অচেনা লাগলো ...flat উইকেটেও সময় নিয়ে খেলা তামিম আজ তাড়াহুড়ো করল। বিজয়, মিথুন, ইমরুলরা আর কত সুযোগ পাবে? বার বার এদের rotate করেও কোন ফলাফল আসছেনা!! তবু কিসের আশায়...? সাব্বির!! দারুণ একটি প্রতিভার কি নিদারুণ অপচয় ...বহুলাংশে তিনি নিজেয় দায়ি!! Mushfiqur gifted his wicket when Team needs his efforts on the pitch... He was committed to crime...you were a set batsman.. It was crime.. What's the value of your experience? বাংলাদেশ জিতলে সবার আগে যে মানুষটার প্রশংসা করি তিনি প্রিয় মাশরাফি .... তায় পরাজয়ের দায় টাও তার বেশী ... ফাইনাল খেলায় 3টি পরিবর্তন কেন?? সবচাইতে বড় দায় পাপনের ...... ! মিরপুরের উইকেট দিন দিন মাইন ফিল্ডে পরিণত হচ্ছে অল্প সময়ে অনেক খেলা হওয়ার কারণে মাঠটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।। বাংলাদেশ অনেক বড় দল কিন্তু দুর্বল শ্রীলঙ্কার চাইতে বেশী নয়। চারটি ফাইনাল খেলে চারটিতেই হার, বাংলাদেশ কী তবে ফাইনাল খেলার চোকার?? তাও সইঁ ..আফ্রিকা তো ফাইনালেও উঠতে পারেনা। আমাদের খেলোয়াড়রা কী অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল?? মনে হয় না ..... হয়তো ছিল .....

বাংলাদেশের ইঁচড়ে পাকা মহামান্য ক্রিকেটার মহাশয়রা আজ কে কয়টি বিশ্ব রেকর্ড করলেন, তা 'প্রথম আলো' দয়া পরবশ হয়ে প্রকাশ করবেন কি? এমনিতে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই এই সর্বাধিক জনপ্রিয় পত্রিকাটি ২/১ টি বিশ্ব রেকর্ড দিয়ে তাদেরকে ভূষিত করেন। আর মাশরাফি এবং মোস্তাফিজের পিতৃ প্রদত্ত নাম পাল্টিয়ে এই মিডিয়াগুলো তাদেরকে যথাক্রমে 'ম্যাশ' এবং 'ফিজ' নামে ডাকা শুরু করলেন, এই আদ্যিখেতা একেবারেই অনুচিত। সাব্বিরের মতো বেয়াড়াকে এই টীমে রাখলে এমন পরিণতি আরো দেখতে হবে। অনুদ্ধ-১৯ দল থেকে বেশী বেশী খেলোয়াড়কে জাতীয় দলে সুযোগ দিতে হবে। আর সাবেক কোচ হাতুড়ির রেখে যাওয়া ভাইরাসগুলোকে নির্মূল করে জাতীয় দল suffle করলে ভবিষ্যতে ভালো করার সম্ভাবনা থাকবে।

একটু ভেবে দেখুন বাংলাদেশ কিন্তু এখনো শক্তিশালী দল হতে পারেনি । একজন সাকিব কে হারালে পুরো দল কেপে উঠে । একজন তামিম রান না পেলে আর কেউ ম্যাচ জেতাতে পারে না । একজন মাশরাফি চলে গেলে তার বিকল্প ভাবাই যায় না । সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ এই ৫ জন চলে গেলে বাংলাদেশ দল আবারো সেই জিরো লেভেলে ফিরে যাবে । ঘরোয়া লিগে ডাবল সেঞ্চুরি মারা ব্যাটসম্যান ও ইনটারন্যাশনাল ম্যাচে দাড়াতেই পারেনা। মানের দিক দিয়ে আকাশ পাতাল পার্থক্য ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচে । এই পার্থক্য ঘোচাতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে মুখ থুবড়ে পরবে বাংলাদেশের ক্রিকেট !!! তাই স্বীকার করে নিতেই হচ্ছে ছোট দলে তকমা কাটিয়ে উঠা এখন খুব দ্রুতই প্রয়োজন।

আমাদের পাইপ লাইন একেবারে ফাকা। যেহেতু ঘরোয়া লিগগুলো নিম্ন মানের তাই সাব্বির,নাসির সহ জাতীয় দলের এক্স খেলোয়াড়দের এ টিমে অন্তর্ভুক্ত করে বিদেশি এ টিমের সাথে খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। সাকিব,তামিম,মুশফিক,রিয়াদ ছাড়া আর কোন রিলায়েবল প্লেয়ার দেখা যাচ্ছে না যেটা দেশের ক্রিকেটের জন্য খুবই বড় ধরনের অশনি সংকেত ।


সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত @ নীল আকাশ, জানুয়ারি, ২০১৮

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:১২
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই হাজার বছরের এক খেলা কীভাবে জমিদারি হয়ে উঠল

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯



১৮৮৩ সালের ৩১ মার্চ, লন্ডনের কেনিংটন ওভাল। এফএ কাপের ফাইনাল।

এক দলের নাম ওল্ড এটোনিয়ানস। ইটন কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের দল। ওইদিন মাঠে নামা এগারোজনের ভেতর ছিলেন একজন ব্যারনেট, একজন ল্যাটিন ভাষার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×