somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (শেষ পর্ব)

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



[সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম দীনের অনুসারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপর, যিনি আমাদেরকে কল্যাণকর সকল পথ বাতলে দিয়েছেন ও সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে সতর্ক করেছেন। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবারবর্গ (আহলুল বাইয়াত) এবং উনার সাথীদের উপর, যারা তার আনীত দ্বীন ও আদর্শকে পরবর্তী উম্মতের নিকট যথাযথ ভাবে পৌঁছে দিয়েছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের অনুসরণ করবে তাদের সবার উপর]

মহানবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনার ধারাবাহিকতা বুঝার জন্য পড়ে আসুনঃ
১)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (পর্ব এক)
২)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (পর্ব দুই)
৩)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (পর্ব তিন)


ইসলামী খেলাফতের খলিফা নির্বাচনঃ
১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার নবী   করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতের পর গোসল, জানাযা এবং দাফনের পূর্বেই ইসলামী রাষ্ট্রের পরবর্তী উত্তরাধিকারী  নির্বাচন করা  একান্তই  জরুরী   ছিল। সেটা   না   হলে   বৈদেশিক আক্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার মোকাবেলা  কার নেতৃত্বে সাহাবীরা করবেন? এবং মহানবীর জানাযার ইনতিযাম কে করবেন? বেশিরভাগ সাহাবীরাই শোকে ভাব  বিহবলতাপূর্ণ হয়ে গিয়েছিলেন, তারা ঠিক বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্যই তাদের ছেড়ে একবারে চলে গেছেন।

কিছু লোকজন যখন কিছুতেই নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতের কথা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, তখন হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) (যিনি হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু’র স্ত্রী ছিলেন) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র দেহের কাঁধে হাত রেখে দেখেন উনার কাঁধ বরাবর নব্যুয়তের যে মোহর ছিল সেটা চলে গেছে এবং উনি এই ধংসশীল পৃথিবী থেকে চলে গেছেন সেটা নিশ্চিত করেন।
(সূত্রঃ ১ - মিসকাতুল মাসাবীহ, ৭ম খন্ড পৃষ্ঠা নাম্বার ২৪৮)

বিশেষ ব্যাখ্যা ১ – আহলুল বায়াত কর্তৃক খলিফাতুর রাসূলের নিকট বাইয়াত গ্রহণঃ

হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মদীনায় আনসারী সহ সকল সাহাবীদের স্মরণ করিয়ে দিলেন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণীঃ
-“আল  খিলাফাতু  মিন  কুরাইশিন”  অর্থাৎ  “আমার পরবর্তী খলিফা হবে কোরাইশদের মধ্যে থেকেই”।
আনসারদের  মধ্যে  অনেকেরই এই হাদীসটির   কথা  স্মরণ ছিলো না। হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর মুখে  এই  হাদীস  শুনে   সকলের  হুঁশ ফিরে  এলো   এবং   একটি বিরাট বিপর্যয়   থেকে   উম্মত   রক্ষা  পেল।   দুই খলিফার প্রস্তাবক  হযরত  সাআদ  ইবনে  ওবাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিজেই  সামনে অগ্রসর হয়ে বললেনঃ
-“আনতুমুল উমারা ওয়া  নাহনুল  ওযারা”  অর্থাৎ “আপনারা মুহাজির  কোরাইশগণ   হবেন  শাসক এবং  আমরা আনসারগণ হবো  উযির বা পরামর্শদাতা।”   

এইকথা বলেই তাঁরা সবাই হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাতে হাত দিয়ে বাইআত  গ্রহণ করলেন।   হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সকিফা বনী সায়েদায় বাইআতের কাজ সমাপ্ত করে মসজিদে নববীতে   চলে  আসেন এবং মিম্বার শরীফে  আরোহণ  করে  তার খিলাফতের  ঘোষণা দেন ও নীতি নির্ধারণী এক ভাষণ  প্রদান  করেন। এই ভাষণে তিনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পথ  ও মত  সর্ম্পূণ অনুসরণ করার কথা  ঘোষণা  করে শোকে বিহবল হযরত  আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং   হযরত যুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’কে  ডেকে  আনেন  এবং   তাঁদেরকে  উদ্দেশ্য    করে বলেনঃ
-“আপনারা  দু’জন   এখনও    বাইআত গ্রহণ  না    করে    কি মুসলমানদের শক্তি ও ঐক্য দুর্বল করতে চান”?
সাথে সাথেই উনারা দুইজন প্রতিউত্তরে বললেনঃ     
- “হে   খলিফাতুর   রাসূল! আপনার  বিরুদ্ধে   আমাদের কোন  অভিযোগ  নেই। আমরা আপনার নিকট বাইআত গ্রহণ করলাম”।
(সূত্রঃ ২ – আল বিদায়া আন নিহায়া, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা নাম্বার ৪১২ থেকে ৪১৩)

এই   দুজনের   বাইআতের   মাধ্যমে  নবী পরিবারের ঘনিষ্টজনদের বাইআতের কাজও সমাপ্ত  হলো। হযরত  আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কখনই হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাথে সর্ম্পক ছিন্ন করেন নি এবং তার পিছনে কোন সালাতেও অনুপস্থিত থাকেন নি। এমন কি রিদ্বা বা ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন কোষমুক্ত তলোয়ার নিয়ে এগিয়ে যান হযরত  আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার সহযোদ্ধাই ছিলেন। এমন কি হযরত ফাতেমা (রাদিয়ায়াল্লাহু আনহা) জানাযার সময় হযরত  আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’কেই অনুরোধ করেন ইমামতী করার জন্য। এটা অনেকেই জানে না-
হযরত জাফর সাদীক (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) তার পিতা মুহাম্মদ বাকীর (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) থেকে, আর তিনি তার পিতা যাইনুল আবেদীন (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) থেকে বর্ণনা করেন যে, “খাতুনে জান্নাত ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর ইন্তেকাল মাগরিব ও ইশার মাঝামাঝি সময়ে হয়। তখন হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু), হযরত উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু), হযরত যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জানাযার নামাযের জন্য উপস্থিত হন। হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জানাযার নামায পড়ানোর জন্য আমীরুল মুমিনীন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’কে বললেন। হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, হে আবুল হাসান! আপনার উপস্থিতিতে আমি কিভাবে জানাযা পড়াই? হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আপনি এগিয়ে আসুন! আল্লাহর কসম! আপনি ছাড়া অন্যকোন ব্যক্তি হযরত ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর জানাযা পড়াবে না। অতএব হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হযরত ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর জানাযার নামায পড়ান। আর সেই রাতেই তাকে দাফন করা হয়।
(সূত্রঃ ৩ - আররিয়াজুন নাজরাহ ফী মানাকিবিল আশারাহ লিমুহিব তাবারী-১/১৫৬, কানযুল উম্মাল-১২/৫১৫, হাদিস নাম্বার ৩৫৬৭৭)

হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) স্ত্রী ছিলেন। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তিকালের পর হযরত ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) একেবারেই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরেছিলেন। এই মহিয়সী নারী সাহাবী হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা ) হযরত ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সহ উনার পুরো সংসারটাই দেখাশুনা করতেন। এমনকি হযরত ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নিজের মৃত্যুর আগে উনাকে হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর সাথে নিজের দাফন করার আগে গোসল দেবার সময়ে অংশগ্রহণ করার জন্য অসিয়ত করে যান।

এইসব ঘটনা উত্থাপনের কারণ হলো, শিয়ারা সবসময়ই দাবী করে যে, হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর নিকট হযরত  আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সহ আহলুল বায়াত কখনই বাইআত গ্রহণ করেন নি। শিয়াদের এই চরমতম ভ্রান্ত দাবী এখানেই পুরোপুরি খণ্ডন করা হলো।

গোসল ও কাফনঃ
পরদিন মঙ্গলবার সকালে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে গোসল দেওয়া হয়। এইসময় পর্যন্ত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দেহ মুবারক একটি জরিদার ইয়ামনী চাদর দ্বারা আবৃত রাখা হয় এবং তাঁর কক্ষ ভিতর থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যগণ বন্ধ করে রাখেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গোসল এবং জানাযা কিভাবে দেয়া হবে সেটা উনি নিজেই সাহাবীদের বলে গেছেন। “দালায়িলুন নবুয়্যাহ লিল-বায়হাকী” কিতাব থেকে নিন্মোক্ত অংশটুকু নেয়া হয়েছে যেটা “আল বিদায়া আন নিহায়া” গ্রন্থে আর বিস্তারিতভাবে বর্ননা করা হয়েছে। এই অংশটুকুর সারসংক্ষেপ পাঠকদের জানার জন্য দেয়া হলোঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকাল এর আগে সাহাবীরা একদিন নবীজির দরবারে আসলেন। সাহাবারা দেখেন নবীজির চোখে বেদনার জল।
নবীজি বললেনঃ আমি তোমাদের আল্লাহর কাছে সোপর্দ করছি, আল্লাহ তোমাদের সঙ্গী হবে।
হজরত আবদ আল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জানতে চাইলেনঃ হে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনার যাওয়ার সময় খুব নিকটে চলে এসেছে। আপনার ইন্তেকালের পর আপনাকে কে গোসল দিবে?
নবীজি বললেনঃ আমার আহলুল বায়াত, মানে আমার পরিবারের সদস্যরা।
হজরত আবদ আল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবার জানতে চাইলেনঃ কে আপনাকে কাফন পরাবে?
নবীজি বললেনঃ আমার আহলুল বায়াত।
হজরত আবদ আল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবার জানতে চাইলেনঃ কে আপনাকে কবরে নামাবে?
নবীজি বললেনঃ আমার আহলুল বায়াত।
হজরত আবদ আল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবার জানতে চাইলেনঃ আপনার জানাযা কে পড়াবে?
তখন নবীজির চোখ বেয়ে বেদনার জল নেমে এলো। তিনি বললেনঃ
-তোমাদের নবীর জানাযা এমন হবে না, যেমন তোমাদের হয়। যখন আমার গোসল হয়ে যাবে তখন তোমরা সবাই ঘর থেকে বের হয়ে যাবে। সবার আগে জিবরাইল আমার জানাযা পড়বে। তারপর মিকাঈল ও ইস্রাফিল ধারাবাহিকভাবে আরশের অন্যান্য ফেরেশতারা আসবে ও আমার জানাযা পড়বে। তারপরে তোমাদের পুরুষরা, নারীরা এবং শিশুরা আমার জন্য দোয়া ও সালাম পড়বে। অতঃপর তোমরা আমাকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে দিবে।
(সূত্রঃ ৪ – আল বিদায়া আন নিহায়া, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা নাম্বার ৪২০ - ৪২২, দালায়িলুন নবুয়্যাহ লিল-বায়হাকী গ্রন্থ)

গোসল কিভাবে দেয়া হয়েছিলঃ

হযরত আবুবকর ছিদ্দীক্ব (রাদিআল্লাহু আনহু) এর বাইয়াত সুসম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার দিন সাহাবারা খালিফাতুর রাসূলের নির্দেশে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দাফনের আয়োজন শুরু করলেন।
সাহাবায়ে কিরামগন যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গোসল দিতে শুরু করেন তখন ভিতর থেকে একজন আহবানকারী তাদের’কে ডেকে বলেনঃ তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দেহ থেকে জামা খুলে ফেল না।
(সূত্রঃ ৫ - সূনানে ইবন মাজাহ, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬, হাদিস নাম্বার ১৪৬৬)
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দেহ অনাবৃত না করেই তাঁকে গোসল দেয়া হয়। গোসলের সময়ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিহিত কাপড় খোলা হয়নি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গোসলের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), ফজল ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু), কুসাম ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু), উসামা ইবনে যায়িদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুক্ত গোলাম শাকরান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
(সূত্রঃ ৬ – মুত্তাফাক্ব আলাইহি, মিশকাত হাদিস নাম্বারঃ ১৬৩৫)

বনু খাজরাজ গোত্রের বনু আওফ পরিবারের আওস ইবনে খাওলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’কে বললেনঃ “হে আলী, আল্লাহর দোহাই! রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাফন-দাফনে আমাদের অংশ নেবার ব্যবস্থা করুন।” হযরত আওস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সাহাবা অর্থাৎ বদরী সাহাবী ছিলেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, “এসো”। এরপর তিনিও এসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গোসলে অংশ গ্রহন করলেন। আব্বাস, ফজল ও কুসাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর সাথে প্রয়োজন মতো ঘুরাতে লাগলেন। উসামা ইবনে যায়িদ ও শাকরান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পানি ঢালতে লাগলেন আর হযরত আওস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বুকের উপর হেলান দিয়ে ধরে রাখলেন এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহকে (সাল্লালহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম)’কে ধোয়াতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহর (সাঃ) জামা গায়েই ছিল। সেই জামার উপর দিয়ে মৃদুভাবে কচলিয়ে ধুয়ে দিতে লাগলেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সরাসরি উনার গায়ের চামড়ায় হাত লাগাননি। ধোয়ার সময় আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেনঃ
“আমার পিতামাতা আপনার ওপর কুরবান হোক। জীবিত বা মৃত উভয় অবস্থাতেই আপনার গায়ে কত সুগন্ধ!”
গোসলের সময় অন্যান্য মৃতদেহ থেকে যেসব নাপাক বস্তু বের হয় রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেহ থেকে তার কিছু্ই বের হয়নি। রাসূলুল্লাহর (সাঃ) গোসল সম্পন্ন হলে তিনটি কাপড় দিয়ে কাফন পরানো হলো, দুইটা সুহারী এবং একটি ইয়ামানী চাদর যা কয়েক ভাঁজ দিয়ে পরানো হলো।
(সূত্রঃ ৭ - আর রাহীকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ৪৯২, সিরাতুন নাবী – ইবন হিশাম, ৪র্থ খন্ড পৃষ্ঠা ৩৩৪ – ৩৩৪)

অন্য আরেকটা বর্ণনায় আছেঃ
আওস বিন খাওলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দেহ মুবারক নিজের বুকের উপরে ঠেস দিয়ে রাখেন। হযরত আব্বাস ও তাঁর পুত্রদ্বয় তাঁর দেহের পার্শ্ব পরিবর্তন করে দেন। উসামা ও শাক্বরান পানি ঢালেন এবং হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দেহ ধৌত করেন। এভাবে গোসল সম্পন্ন হওয়ার পর তিনটি সাদা সাহুলী (ইয়ামনী) কাপড় দিয়ে কাফন পরানো হয়। যার মধ্যে ক্বামীছ ও পাগড়ী ছিল না।
(সূত্রঃ ৮ - সহী বুখারী শরীফ, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ১৫, হাদিস নাম্বার ১২৭১, ১২৭২, ১২৭৩, অধ্যায়ঃ জামা ছাড়া কাফন এবং সহী তিরমিজী শরীফ, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩১৫, হাদিস নাম্বার ৯৯৬, সহী ইবন মাজাহ, হাদিস নাম্বার ১৪৬৯)

দাফন / কবর কোথায় হবেঃ

দাফন কোথায় হবে এ নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়। তখন আবুবকর সিদ্দীক্ব (রাদিআল্লাহু আনহু) এসে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস বলেনঃ ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে বলতে শুনেছি যে, নবীগণ যেখানে মৃত্যুবরণ করেন, সেখানেই কবরস্থ হন’।
(সূত্রঃ ৯ - সহী শামায়েল তিরমিজী হাদিস নাম্বার ২৯৮ পৃষ্ঠা নাম্বার ১৪৫, শারহুস সুন্নাহ হাদিস নাম্বার ৩৮৩২)

এই হাদীস শোনার পর সকল মতভেদের অবসান হয়। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তখন সাহাবীরা কবর খনন করার ইচ্ছা পোষন করলেন। মক্কাবাসী হযরত আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ (রাদিআল্লাহু আনহু), যিনি মক্কাবাসীদের মতো কবর খনন করতেন, তাকে খবর পাঠানো হলো। এরপর মদীনাবাসী আবু তালহা যায়েদ ইবনে সাহল (রাদিআল্লাহু আনহু), যিনি মদিনাবাসীদের ন্যায় ‘লাহাদ’ (لحد) অর্থাৎ পাশখুলী কবর খনন করেন, তাকেও খবর পাঠানো হলো। সাহাবীরা বললেনঃ “হে আল্লাহ, আপনার রাসূলের জন্য আপনি যা পছন্দ করেন তাই করুন”।  

মদীনাবাসী আবু তালহা (রাদিআল্লাহু আনহু) সাহাবীকে   প্রথম পাওয়া গেল।  সুতরাং  তিনি  এসে মদীনা শরীফের নিয়মে সেই বিছানা ওঠালেন, যে বিছানায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন। সেই বিছানার নীচে লাহাদ কবর খনন করা হয়।
(সূত্রঃ ১০ – সহী ইবন মাজাহ, ২য় খণ্ড, হাদিস নাম্বার ১৬২৮, সিরাত ইবনে হিসাম, পৃষ্ঠা ৩৫২, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাফন দাফন)

ঘরের মধ্যে খননকৃত কবরের পাশেই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দেহ মোবারক রাখা হয়। অতঃপর আবুবকর (রাদিআল্লাহু আনহু) এর পরামর্শক্রমে দশজন দশজন করে সাহাবায়ে কিরামগন হুজরায় প্রবেশ করে পর্যায়ক্রমে জানাযার নামায আদায় করেন। এ জানাযার নামাযে কেউ ইমাম হননি। প্রথমে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবার-পরিজন, সর্বপ্রথম বনু হাশেম গোত্রের লোকেরা, অতঃপর মুহাজিরগণ, অতঃপর আনছারগণ জানাযা আদায় করেন। এভাবে পুরুষ, মহিলা ও বালকগণ পরপর জানাযা পড়েন। জানাযার এই সুদীর্ঘ প্রক্রিয়া মঙ্গলবার সারাদিন ও রাত পর্যন্ত জারি থাকে। ফলে বুধবার রাতের মধ্যভাগে দাফনের কার্য সুসম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত্রে অর্থাৎ ইসলামী ক্যালেন্ডার মোতাবেক বুধবার প্রথমরাতে প্রিয় মহানবী মুহাম্মাদ মুস্তফা আহমদ মুজতবা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে দাফন করা হয়। তাঁর পবিত্র দেহ কবরের ভেতর নামিয়ে রাখা হয়।

হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেনঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে ঠিক কখন দাফন করা হয় আমরা জানতে পারিনি। তবে বুধবার রাতের মাঝামাঝি সময়ে কিছু শব্দ পেয়েছিলাম।
(সুত্রঃ ১১ - শেখ আব্দুল্লাহ রচিত মুখতাছার সীরাতে রসূল পৃ-৪৭১, এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন বুখারী শরীফের মরজুন নবী অধ্যায়। আরো দেখুন ফতহুল বারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাত শরীফ। এছাড়া ইবনে হিশাম, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৬৪৯-৬৬৫, তালকীহ, পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯, রহমাতুল লিল আলামীন ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ২৭৭-২৮৬)


বিশেষ ব্যাখ্যা ২ - মহানবীর (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর জানাযা হয়নি বলে যে অপপ্রচার চালানো হয়েছে সেটা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়ঃ


নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জানাযা বিষয়ে আরো সুস্পষ্ট দীর্ঘ হাদিস পাওয়া যায় সহী তিরিমিজী শরিফে। সাহাবি হজরত সালেম বিন ওবায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেনঃ আমি প্রথমে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাউহু আনহু)’কে রাসুলে কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকালের সংবাদ দিই। তখন আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বললেনঃ “তুমি আমার সঙ্গে ভেতরে আসো”। সাহাবী হজরত সালেম বিন ওবায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেনঃ হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন রাসুলের নিকট যেতে চাইলেন, তখন চারপাশে মানুষের প্রচন্ড ভীড়। হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) লোকদের বললেনঃ “তোমরা আমাকে সামান্য রাস্তা দাও”। লোকেরা ভেতরে যাওয়ার পথ করে দিল। তিনি ভেতরে গেলেন, মাথা নুইয়ে কাছে গিয়ে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে দেখলেন। নবীজির পবিত্র কপালে হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) চুমু খেলেন। তারপর কোরআনের আয়াত পড়লেন, যার অর্থ হলো, “নিশ্চয় তুমিও ইন্তেকাল করবে এবং তারাও ইন্তেকাল করবে”। হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বেরিয়ে এলেন। লোকেরা জানতে চাইলেন, ওগো নবীজির বন্ধু! নবীজি কি সত্যই ইন্তেকাল করেছেন? হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেনঃ হ্যা। তখন লোকেরা নবীজির ইন্তেকালের খবর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করলো। তারপর সাহাবায়ে কিরামগন হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’কে জিজ্ঞেস করলেনঃ ওগো নবীজির বন্ধু! নবীজির কি জানাযার নামাজ পড়া হবে? তিনি বললেনঃ হ্যা। জিজ্ঞাসা করা হলোঃ কিভাবে? হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেনঃ এভাবে যে, এক এক জামাত নবীজির ঘরে প্রবেশ করবে এবং জানাযা পড়ে বেরিয়ে আসবে। তারপর অন্য জামাত প্রবেশ করবে। সাহাবারা হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ নবীজিকে কি দাফন করা হবে? তিনি বললেনঃ জী। জিজ্ঞাসা করা হলোঃ কোথায়?। তিনি বললেনঃ যেখানে আল্লাহ তায়ালা নবীজির রূহ কবজ করেছেন সেখানেই। কেননা, আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয় নবীজিকে এমন স্থানে মৃত্যুদান করেছেন যে স্থানটি উত্তম ও পবিত্র। সাহাবারা দৃঢ়ভাবে মেনে নিলেন হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর কথা। হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিজেই নবীজির আহলুল বায়াত তথা রাসুলের পরিবারের মানুষদের ডেকে গোসল দেয়ার নির্দেশ দেন।
(সূত্রঃ ১২ - শামায়েলে তিরমিজী হাদিসঃ ২৯৮, শরফুল মুস্তফা, বর্ণনা নং-৮৫০, আল আনওয়ার ফি শামায়িলিন নাবিয়্যিল মুখতার, বর্ণনা নং-১২০৯)

ইমাম শাফি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এবং কাজি ইয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেনঃ নবীজির জানাযা পড়া হয়েছে। (সুত্রঃ ১৩ - কিতাবুল উম্মু/সিরাতে মুস্তুফা/৩য় খন্ড পৃষ্ঠাঃ ২৩৫)

মহানবী নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবশ্যই জানাযা হয়েছে। সাহাবীরা সেটা একা একা পড়েছেন। কেউ ইমামতি করেননি। তবে তাবাকাতে ইবনে সাদের বরাতে বলা হয় যে, হজরত আবু বকর ও হযরত উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একসঙ্গে নবীজির ঘরে উপস্থিত ছিলেন। তারা নবীজির দেহ মুবারক সামনে রেখেই নামাজ, সালাম ও দুরুদ পেশ করেন। দীর্ঘ দোয়ার সময় পেছনে সারিবদ্ধ সাহাবীরা আমিন আমিন বলেছেন।
(সুত্রঃ ১৪ - আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াঃ ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা নাম্বার ৪৩৬)

[যারা এই বিষয়ে আর বিস্তারিত পড়তে চান তারা শ্রদ্ধেয় আব্দুর রাজ্জাক আল-সানআনি কর্তৃক সংকলিত ‘আল-মুসান্নাফ’ (৩/৪৭৩), ‘পরিচ্ছেদ: কিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জানাযার নামায পড়া হয়েছে’, ইবনে আবু শাইবা কর্তৃক সংকলিত ‘আল-মুসান্নাফ’ (১৪/৫৫২), ‘পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে’, ইবনে মুলাক্কিন-এর ‘আল-বদরুল মুনির’ (৫/২৭৪-২৭৯), ইবনে হাজার-এর ‘আত-তালখিসুল হাবির’ (২/২৯০-২৯১) এবং সুয়ুতি-র ‘আল-খাসায়েস আল-কুবরা’ (২/৪১২-৪১৩) ইত্যাদি অংশগুলি গ্রন্থ থেকে পড়ে দেখতে পারেন।]

বিশেষ ব্যাখ্যা ৩ - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানাযার প্রকৃয়া নিয়ে আলোচনাঃ

উম্মতে  মোহাম্মাদীর সকলকেই চার তাকবীরের  সাথে এক   ইমামের  পিছনে  ইক্বতাদা  করে  জানাযার  নামায পড়ানো  হয়। এতে মোট     তিনটি   অংশ   আছে। আল্লাহর সানা, নবী  করীম (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর    উপর  দরূদ শরীফ পাঠ  এবং মৃত ব্যক্তির জন্য  দোয়া।  এটাকে নামাজ  বলা  হয়  এজন্য   যে,  এতে  ইমাম  ও  মুক্বতাদী আছে।  শরীর  অবশ্যই পাক পবিত্র   হতে   হয়।  কিবলামুখীও  হতে  হয়। নাভীতে হাত বাঁধতে  হয়। শুধু রুকু, সিজদা, বৈঠক  ও ক্বিরাত  নেই  এবং  তাশাহুদও  পড়তে  হয়  না।  তবু এটাকে  নামাজ   বলা  হয় এই জন্য  যে,  মূর্দাকে  সামনে রেখে কিবলামুখী হয়ে হাত  বেঁধে ইমামের  পিছনে  ইক্বতাদা করতে  হয়। এতেই  প্রমাণিত  হয় যে,   জানাযা হলো নামায। শুধুমাত্র দোয়া হলে এসবের কিছুই করতে হতো না। মূর্দার জানাযার একটি মাত্র অংশ হলো দোয়া। এই জন্য হাদীস  অনুযায়ী  জানাযা  নামাযের পরপরই সকলে মিলে  আর  একবার হাত তুলে।  দোয়া  করা  হয় । তৃতীয়বার দোয়া   করা  হয় কবরে শুইয়ে দিয়ে মাটি দেয়ার পর। সহী মিশকাত শরীফে   আছেঃ
“আকছিরোদ দোয়া  লিল মাইয়িতি”, অর্থাৎ “তোমরা মৃত ব্যক্তির জন্য বেশী করে দোয়া  করো”। ন্যূনতম  তিনবার দোয়া করো। অপর  হাদীসে এসেছে,  “ইজা সাল্লাইতুম  আলাল মাইয়েতে,  ফা আখলিছু  লাহুদ্দোয়া”।  অর্থাৎ  “যখন তোমরা মৃত ব্যক্তির  জানাযা   আদায়  করবে, তার পরই বিনা  বিলম্বে আর  একবার খাছ দিলে   দোয়া  করবে”।
(সূত্রঃ ১৫ - মিশকাত কিতাবুল জানায়েয)।  

 মুসলমানগণ এভাবেই প্রথম থেকে আমল   করে    আসছেন। এটা হলো সাধারণ মৃত   ব্যক্তিদের জন্য জানাযা দেয়ার নিয়ম।   

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জানাযার প্রকৃয়াঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ক্ষেত্রে জানাযার বিশেষ  ধরণের বৈশিষ্ট্য ছিল। উনার বেলায় কোন ইমাম ছিলো না। মুক্বতাদীও ছিলো না। কেবলামুখী হওয়াও ছিলো না।  হাদীস শরীফে শুধু সালাত    শব্দের উল্লেখ আছে।  এখানে সালাত  অর্থ দোয়া ও দরূদ।  হযরত আবদ আল্লাহ ইবনে   মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর প্রতি নবী  করীম  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে অসিয়ত করে      গেছেন,  সেটা   অনুযায়ী  সাহাবীগণ  নবী  করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর  হুজরা মুবারকে প্রবেশ    করে  রওযা মুবারকের কিনারায় রক্ষিত খাটের কাছে গিয়ে দরূদ ও সালাম পেশ  করে বের হয়ে আসতেন। একদল  বের হওয়ার পর আরেকদল  প্রবেশ  করতেন এবং দরূদ ও  সালাম    পেশ   করতেন। এভাবে প্রথমে পুরুষগণ, তারপর  মহিলাগণ,  তারপর  ছোট ছোট  বালকগণ, তারপর আশ্রিত  দাস-দাসীগণ ও মাওয়ালীগণ সেই  ব্যক্তিগতভাবে  হুজরায়   প্রবেশ   করে   দরূদ   ও  সালাম পেশ    করেছিলেন। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো  এটা সাধারণ  জানাযার  নামায  হলে মহিলাগণ ইসলামী নিয়ম অনুসারে কোনভাবেই সেটাতে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না। অথচ মহিলারা এই জানাযায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

আল্লামা  সুহায়লী   (রাহমাতুল্লাহি আলাহি)  বলেনঃ   আল্লাহ  তায়ালা কোরআন মজিদের  সুরা  আহযাবে  যেভাবে দরূদ  ও সালাম পড়ার  জন্য  মু’মিনগণকে  নির্দেশ  করেছেন, ইন্তিকালের পরও  অনুরূপভাবেই শুধু  দরূদ ও  সালাম পেশ   করা  হয়েছিল।

মাওয়াহিব-লাদুন্নিয়া গ্রন্থে   আল্লামা  শিহাবুদ্দিন কাসতুলানী শারহে বুখারীতে উল্লেখ করেছেনঃ
ومن   خصا  ئصه  صلى  الله عليه وسلم  انه صلي  علبه الناس افواجا  افواجا  بغير امام   وبغير دعاء الجنازة المعروف ذكره البوهقي وغيره
“নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর  অন্যান্য  বৈশিষ্ট্যের  মধ্যে এটিও  একটি  বৈশিষ্ট্য  ছিল যে,  লোকেরা   দলে দলে এসে ইমাম ছাড়াই দরূদ  পাঠ করতেন।  তাঁরা প্রচলিত জানাযার দোয়া ও তাকবীর পড়েননি।
ইমাম বায়হাকী এবং  অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ   এরূপই    বর্ণনা     করেছেন” 
(সুত্রঃ ১৭ - আনওয়ারে মুহাম্মদীয়া মিন মাওয়াহিব লাদুন্নিয়া, পৃষ্ঠা ৩২০)

বিশেষ ব্যাখ্যা ৪ - জানাযা বিলম্ব হওয়া নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর মতভেদ এবং জঘন্য মিথ্যাচারের প্রতি-উত্তরঃ

এটা সবাই জানেন যে, ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সন্ধ্যার পরেই সেইদিন শেষ হয়ে যায় এবং পরের দিন শুরু হয়। সাধারণ দিনের যে হিসাব বাংলা কিংবা ইংরেজি ক্যালেন্ডারে পাওয়া যাবে, তার সাথে ইসলামী ক্যালেন্ডারের দিনের সংখ্যার অবশ্যই অমিল হবে। এবং সাহাবীগণ ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসলামী ক্যালেন্ডারই মেনে আসছেন। সুতরাং মহানবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর জানাযা বিলম্ব হবার কারণ খুঁজতে গেলে আমাদের’কে ইসলামী ক্যালেন্ডার মোতাবেকই হিসাব করতে হবে।

“রাসূল (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকালের পর সাহাবীগণ তাঁর দাফনক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিনদিন সময় পার করেছেন” এই কথাটি খুবই প্রচলিত। কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে এটা চরমতম মিথ্যাচার এবং সর্ম্পূণ ভ্রান্ত ধারণা। তবে যারা এই নির্লজ্জ্ব মিথ্যাচার করেন তাদের অনেকটা জেনেশুনেই করেন। তিনদিন মানে হলো বাহাত্তর ঘন্টা, তাইনা? চলুন হিসাব করে দেখি কত বড় মিথ্যাচার এরা করে বেড়ায়।

(মঙ্গলবার ও বুধবারের মতভেদ দূর করার জন্য প্রতিটা ক্যালেণ্ডার মোতাবেক ঘণ্টার হিসাব বের করা হবে। কারণ সাধারণ ক্যালেন্ডার এবং ইসলামী ক্যালেন্ডারে মধ্যে একদিনের পার্থক্য হবে শুধু শুরু করার হিসেবের ভুলের জন্য। চাশতের নামাজের সময় দুপুর বারোটা এবং মধ্যরাত বলতে রাত বারোটা বুঝানো হয়েছে, ইচ্ছে করেই সর্বোচ্চ সময়গুলি নেয়া হয়েছে।)

৩১ জানুয়ারি থেকে ১ মার্চ যেমন তিনমাস হয় না (বরং ত্রিশ দিন বা এক মাস হয়), তেমনি তিনদিনের নাম বললেই ৭২ ঘণ্টা হয়না। বিশুদ্ধ হাদিস ও ঐতিহাসিকদের তথ্যমতে, নবীজি (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকাল হয়েছিল সোমবার চাশতের নামাজের সময় এবং দাফন হয়েছিল বুধবার মধ্যরাতে।
(সূত্রঃ ১৮ - আর রাহীকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ৪৯০ এবং তাফসিরে তাবারী, ইংরেজি ভার্শন, ৯ম খন্ড, পৃষ্ঠা ২০৮-২০৯)

১) ইসলামী ক্যালেন্ডার হিসাবে (সূর্যাস্ত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একদিন ধরে) সোমবার দিনের ৬ ঘণ্টা, মঙ্গলবার (সোমবার সূর্যাস্তের পর থেকে মঙ্গলবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত) ২৪ ঘণ্টা এবং বুধবারের (সূর্যাস্তের পর থেকে মধ্যরাত) পর্যন্ত) ৬ ঘন্টা, এবার সর্বোচ্চ হিসাব করলেও হয় মোট ৬ + ২৪ + ৬ = ৩৬ ঘন্টা।

২) বাংলা ক্যালেন্ডার হিসাবে (সূর্যোদয় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত একদিন ধরে) সোমবারের (সোমবারের চাশতের নামাজ থেকে থেকে মঙ্গলবারের সূর্যোদয় পর্যন্ত) ১৮ ঘণ্টা এবং মঙ্গলবারের (সূর্যোদয় থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত) ১৮ ঘণ্টা, এবার সর্বোচ্চ হিসাব করলেও হয় মোট ১৮ + ১৮ = ৩৬ ঘন্টা।

৩) ইংরেজি হিসাবে (মধ্যরাত থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একদিন ধরে) সোমবারের (চাশতের নামাজ থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত) ১২ ঘণ্টা এবং মঙ্গলবারের (মধ্যরাত থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত) ২৪ ঘণ্টা, এবার সর্বোচ্চ হিসাব করলেও হয় মোট ১২ + ২৪ = ৩৬ ঘন্টা।

সময়কাল হচ্ছে সংখ্যাবাচক। অর্থাৎ যেভাবেই আপনি হিসাব করুন না কেন, একই ফলাফল আসবে। আসতেই হবে। ইসলামী / বাংলা / ইংরেজি যেই ক্যালেন্ডার ধরেই হিসাব করুন সর্বোচ্চ সময়কাল হচ্ছে ৩৬ ঘন্টা। মাত্র ৩৬ ঘন্টা। তিনদিন তো দূরের কথা দুইদিনও বলা যাবে না। কারণ, কোনো সংখ্যা অর্ধেকের কম হলে পূর্ণ সংখ্যা বলা যায় না। ৪৮ ঘন্টাও না যে দুইদিন বলতে পারবো। ৩৬ ঘন্টা হচ্ছে মাত্র দেড় দিন। অথচ সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য এরা বলে বেড়ায় জানাযা বা দাফন করতে তিনদিন বিলম্ব হয়েছে। কোথায় ৭২ ঘন্টা আর কোথায় ৩৬ ঘন্টা?

হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) ইন্তিকালের এর ঘটনা ঘটেছিল একাদশ হিজরির ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার চাশতের নামাযের শেষ সময়ে। নবী মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর বয়স হয়েছিল তখন তেষট্টি বছর চারদিন। বুধবারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর সমগ্র মদীনাবাসীরা জানাযা পড়ার পর তাকে দাফন করা হয়। যেমন, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একদল প্রবেশ করত, তারা তাকবীর বলত সালাত আদায় করত ও দো‘আ করত, তারপর তারা বেরিয়ে পড়ত। তারপর আবারও একদল প্রবেশ করত, তারা তাকবীর বলত, সালাত আদায় করত ও দো‘আ করত, অতঃপর তারা বেরিয়ে পড়ত যাতে অন্যরা প্রবেশ করতে পারে।
(সূত্রঃ ১৯ - শামায়েলে তিরমিযী, পৃষ্ঠা ৩৩৮, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেন)

বিশেষ ব্যাখ্যা ৫ – হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর জানাজায় জানাযায় স্বল্প সংখ্যক সমাগম হয়েছিল

আরেকটা জঘন্য অপপ্রচার হচ্ছে হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর জানাযায় স্বল্প সংখ্যক লোকজন কিংবা অনেক জায়গায় বলা হয় মাত্র ২৮ জন লোক ছিলেন। কত বড় ডাহা মিথ্যাচার এইগুলি নীচেই দেখুন?

হযরত  আবু বকর  সিদ্দীক  ও  হযরত  উমর ইবন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক সেই জানাযার সালাতের ধরণঃ
হযরত   আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কিভাবে জানাযার পরিবর্তে শুধু   দরূদ ও  সালাম  পাঠ করেছিলেন তার একটি  পরিষ্কার ভাষায় সুস্পষ্ট   বর্ণনা   আল বিদায়া  আন নিহায়া  গ্রন্থের  ৫ম  খন্ডে উল্লেখ   করা হয়েছে। উভয় সাহাবীর আমল মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)  নামক  জনৈক  রাবী  লিখে  রেখেছিলেন। ওয়াকেদী  ঐ  দলীলখানার ভাষ্য এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ
“নবী   করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে  কাফন  পরিধানের  পর খাটে  উপর রেখে ঐ খাট  (হুজরার   ভিতর)   রওযা  মোবারকের পাশে  রাখা   হলো।  হযরত  আবু  বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)  ও হযরত উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)  হুজরার ধারণ ক্ষমতা  অনুযায়ী  কয়েকজন  মুহাজির ও আনসারকে সাথে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেন। তাঁরা   দুইজনে প্রথমেই  এভাবে সালাম  আরয  করলেনঃ
 “আস-সালামু আলাইকা  আইয়ুহান্নাবীউ ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।”
উনাদের দুইজনের মতো বাকি মুহাজির ও আনসারগণও সালাম আরয করলেন। তারপর সকলে সারি বেঁধে খাঁটের চতুর্দিকে দাঁড়ালেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ইমাম ছিলেন না।  রাসূল  করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর খাঁটের চতুর্পাশ্বে  দন্ডায়মান  কাতারগুলোর মধ্যে প্রথম কাতারে হযরত আবু বকর  ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দাঁড়িয়ে এভাবে মুনাজাত করলেনঃ
“হে    আল্লাহ! আমরা  সাক্ষ্য  দিচ্ছি যে,   নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এঁর  উপর  যা কিছু  অবতীর্ণ হয়েছে,  তিনি তা পরিপূর্ণভাবে  পৌঁছিয়ে  দিয়েছেন।   উম্মতকে  তিনি উপদেশ  প্রদান করেছেন। আল্লাহর পথে  তিনি জিহাদ  পরিচালনা  করেছেন।  তাঁর প্রচেষ্টার  ফলে  আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর  দ্বীন’কে  শক্তিশালী করেছেন।  তাঁর কলেমা পরিপূর্ণতা লাভ  করেছে।  লা-শারীক  আল্লাহর উপর লোকেরা ঈমান এনেছে।  হে  আমাদের মা’বুদ! তুমি  আমাদেরকে তাঁর উপর অবতীর্ণ যাবতীয়  বাণীর অনুসরণকারী বানিয়ে দাও। তুমি আমাদের ও উনার  মধ্যে মিলন ঘটিয়ে দাও।  তুমি  আমাদের  কার্যকলাপের  দ্বারা  যেন  তাঁর পরিপূর্ণ প্রকাশ্য পরিচয় পাও এবং তাঁর মাধ্যমেও  আমাদের প্রকাশ্য পরিচয়  পাও।  কেননা,  তিনি মু’মিনদের প্রতি  রউফ এবং রাহীম। তাঁর প্রতি ঈমান আনার বিনিময়ে আমরা কিছুই প্রতিদান চাই না এবং তাঁর নাম ভাঙ্গিয়েও আমরা  কখনও দুনিয়ার কোন স্বার্থ হাসিল করতে চাইনা।”

কাতারে দাঁড়ানো  লোকজন শুধু   আমীন  আমীন বলেছেন।   তাঁরা  বের  হয়ে  যাওয়ার   পর  অন্য দল প্রবেশ   করেছেন।   এভাবেই প্রথমে পুরুষগণ,  তারপর মহিলাগণ,  তারপর  শিশুগণ ক্রমান্বয়ে প্রবেশ  করে সালাম ও দরূদ পেশ করেছেন। মঙ্গলবার দিন গোসল ও কাফনের পর হতে মধ্যরাত পর্যন্ত এভাবেই পালাক্রমে দরূদ ও  সালামের   অনুষ্ঠান চলতে থাকে। সুতরাং   নিঃসন্দেহে   প্রমাণিত   হলো   যে,   ইমাম বিহীন ভাবে   চার তাকবীর বিহীন শুধু দরূদ, সালাম ও মুনাজাতের মাধ্যমেই জানাযার কাজ শেষ করা হয়েছে।

একটা তথ্য স্পষ্টভাবে সবাইকে মনে রাখতে হবে যে, অন্যদের  বেলায় প্রচলিত জানাযার নিয়ম উনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য   নয়।  কারণ উনি কিভাবে জানাযা পড়াতে হবে সেটার নির্দেশ সুস্পষ্টভাবেই সাহাবীদের দিয়ে গিয়েছিলেন। এবং উনি আল্লাহর রাসূল, বিশ্বনবী এবং খাতিমুন নাবিয়্যুন।
( সুত্রঃ ২০ – আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াঃ ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠাঃ ৪৩৬, আদিল্লাতু আহলিস  সুন্নাহ, শিফাউস  সিক্বাম, ফতিহুল  বারী,  শরহে বুখারী,  দ্বারু কুতনী)

এ সময় মদীনায় উপস্থিত ছিল এমন কোনো সাহাবী খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর জানাযার সালাত আদায় করেন নি। মদীনায় উপস্থিত সবাই তার ওপর সালাতুল জানাযা আদায় করেন। এটি একটি স্পষ্ট বিষয়; এর দলীল প্রমাণ সম্পর্কে গবেষণা করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, সাহাবীগণের নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তান এমনকি তাদের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয় ছিলেন। যেমন হযরত আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেনঃ
“তাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অধিক প্রিয় আর কোনো মানুষ ছিল না”।
(সূত্রঃ ২১ - সহী তিরমিযী, হাদীস নং ২৭৫৪। আল্লামা আলবানী রহ. সহীহ তিরমিযীতে হাদীসটিকে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেন)

কিন্তু কিছুলোকের অন্তর ইসলাম ও মুসলিদের প্রতি বিদ্বেষে পরিপূর্ণ। তারা সবসময় মুসলিমদের বিপক্ষে মিথ্যাচার করতে থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ রটায়। অথচ সাহাবীগণ নবীদের পর সর্বোত্তম মানব। এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই সাক্ষী দিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেনঃ
“সবচেয়ে উত্তম মানুষ আমার যুগের মানুষ, তারপর যারা আমার যুগের সাথে মিলিত, তারপর যারা তাদের সাথে মিলিত”।
(সূত্রঃ ২২ - সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬৫২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৩২)

যারা সাহাবীদের গালি দেয়, তাদের অপবাদ দেয় এবং সম্মানহানি করে, তারা মূলতঃ রাসূলকেই অপবাদ দেয়। কারণ, তারা তার সাথী, শিষ্য ও সহযোগী এবং তার সবচেয়ে প্রিয়মানুষ। তারা সবাই যে তার জানাযায় উপস্থিত হয়েছিল সে বিষয়ে একাধিক হাদীস বিদ্যমান। আর বিষয়টি এতই স্পষ্ট যে তার জন্য দলীল দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি দিবালোকের মতোই স্পষ্ট। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
“যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় প্রবেশ করেন, সেদিন সবকিছুই আলোকিত হয়ে যায়। আবার যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা যান, সেদিন সব কিছুই অন্ধকার হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাফন শেষ করে হাত ঝাড়ার পূর্বেই আমরা যেন আমাদের নিজেদের অন্তরসমূহকে চিনতে পারছিলাম না”।
(সূত্রঃ ২৩ - তিরমিযী, ৩৬১৮, আল বিদায়া আন নিহায়াতে ইবন কাসীর হাদীসটিকে শুদ্ধ বলেছেন)

অনেকেই অজ্ঞতা প্রসূত কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে মহানবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) ইন্তিকাল, জানাযা এবং দাফনকালের সময়কাল নিয়ে অনেক আজেবাজে মন্তব্য করেন। সাবধান হঊন, প্রিয় নবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর জানাযা সর্ম্পকিত সব বিবরণ সাহাবীদের কাছে থেকেই সহী সনদ সহ লেখা আছে বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থগুলিতে। ভুল এক জায়গায় হতে পারে, তাই বলে সব জায়গায় নয়। বেশিরভাগ জায়গাতেই সহী সনদ সহ হাদিস বর্ননা করা হয়েছে।

প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত মুগীরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। উনি মহানবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছেন যে, “আমার প্রতি মিথ্যারোপ করা অন্যকারো প্রতি মিথ্যারোপ করার মতো নয়। যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন অবশ্যই তার ঠিকানা জাহান্নামে করে নেয়”।
(সূত্রঃ ২৪ - সহী বুখারী শরীফ, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৪, হাদিস নাম্বার ১২৯১, অধ্যায়ঃ জানাযা)

অনুগ্রহ করে এই বিষয়ে আন্দাজে কিছু বলার সময় খুব সাবধানতা অবলম্বন করবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ আমাদের সবাই’কে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার তৌফিক দান করুন।

বেদনা বিধুর মুহূর্তঃ

মঙ্গলবার  দিবাগত মধ্যরাত ক্রমেই ঘনিয়ে  আসছে। উম্মাহতুল মুমিনীনগণ এবং   হযরত  ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা), হযরত আয়েশা  (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর হুজরার অপর অংশে কান্নারত   ছিলেন।   হযরত  উম্মে  সালামা  (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেনঃ “আমরা বিবিগণ একত্রিত   কান্নাকাটি  করছিলাম।  রাত্রে  আমাদের   নিদ্রাও  হয়নি।  নবী  করীম (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম)  আমাদের  ঘরেই    ছিলেন।  আমরা নবী  করীম (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম)’কে খাঁটে শয়নরত অবস্থায় দেখে মন’কে এই বলে প্রবোধ  দিচ্ছিলাম  যে,  তিনি  তো   আমাদের  মাঝেই আছেন।  ভোরের   দিকে   ক্রন্দনরত  লোকদের  কান্নার  আওয়াজ  শুনতে পেলাম”। 

 উম্মে   সালামা  (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আরো  বলেনঃ “ আমরাও চিৎকার দিয়ে উঠলাম এবং মসজিদে  অবস্থানরত  শোকাতুর  লোকেরাও   চিৎকার দিয়ে    উঠলো। সকলের  কান্নার   রোল  মিলে মদীনার জমিন থরথর করে  কেঁপে    উঠলো।  এমন  সময়ই হযরত বেলাল  (রাদিয়াল্লাহু আনহু)  ফজরের  আযান দিলেন।”
এটা ছিল দাফনের শেষ পর্যায়ের ঘটনা।

পরিশেষঃ
সহী হাদিস দেয়া আছে, “যে   আমার রওযা মোবারক যিয়ারত  করবে,  তার  জন্য শাফায়াত করা আমার উপর ওয়াজিব  হয়ে যাবে” 
(সূত্রঃ ২৫ - সূনানে দার-কাতনী, ২য়  খন্ড, ২৭৮; বায়হাকি, শোয়াবুল  ঈমান  ৩:   ৪৯০,  ৪১৫৯,  ৪১৬০;  হাকীম  তিরমিজি, নাওয়াদিরুল উসুল ২: ৬৭)।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেনঃ “হে নবী! আমি তোমাকে বিশ্বজগতের প্রতি শুধু রহমত বা করুণারূপেই প্রেরণ করেছি। সুতরাং যারা এই রহমতের কারণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে তারা হবে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলকাম। পক্ষান্তরে যারা অকৃতজ্ঞ হবে তারা উভয় জগতে হবে ধ্বংসপ্রাপ্ত”।

মহানবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) নিজেই বলেছেনঃ “আমি লা'নতকারী রূপে প্রেরিত হইনি, বরং রহমত রূপে প্রেরিত হয়েছি”।
(সুত্রঃ ২৬ - সহী মুসলিম শরীফ ৪/২০০৬, তাফসীর ইবন কাসীর, খন্ড ১৪, পৃষ্ঠা নাম্বার ৪০০-৪০১)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাই’কেই প্রিয় রাসূল ও শেষ নবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম)’কে নিজের জীবনের চেয়ে বেশী ভালোবাসা এবং মোহাব্বত করার মাধ্যমে মহানবীর প্রদর্শিত সীরাতুল মুস্তাকীমের পথে চলার তৌফিক দান করেন, ছুম্মা আমীন।

কৃতজ্ঞতাঃ
বেশ কিছুদিন ধরেই ব্লগে হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনা নিয়ে আন্দাজে অনেক বেশ কিছু মন্তব্য, কটাক্ষ এবং মিথ্যাচার দেখতে পেয়েছি। ইচ্ছে থাকলেও অনেকেই এই বিষয়টা নিয়ে কোন প্রতিবাদ করতে পারতেন না শুধুমাত্র পুরো ঘটনা না জানা এবং এর সমর্থনে সহী সনদ সহ লেখার অভাবে। এই বিষয়টা নিয়ে ইন্টারনেটেও খণ্ড খন্ড করে অনেক তথ্য এবং লেখা পাওয়া যায় যার অনেকগুলির কোন ভিত্তিই নেই। অনেক জায়গায় মনগড়া আলোচনা কিংবা অতি ভক্তিমূলক লেখাও দেখতে পাওয়া যার আদৌ কোন ভিত্তি নেই। মতবাদের পার্থক্যের কারণে একই লেখা এদিক সেদিক করেও লেখা হয়েছে, বিশেষ করে শিয়া মতবাদের সমর্থক এবং কট্টরপন্থিদের লেখাগুলিতে। ইসলাম হচ্ছে সীরাতুল মুস্তাকীম, সহজ সরল রাস্তা যেটা আমাদের প্রিয় নবী এবং তার সাহাবীর আমাদের জন্য রেখে গেছেন। এর বাইরে যাবার কোন দরকার নেই কিংবা কোন প্রয়োজনও নেই।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অসীম অনুগ্রহে এই সিরিজের শেষ পর্বও লেখা শেষ করলাম। সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহের মধ্যে এই পর্বের ঘটনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি গুজব, মিথ্যাচার এবং রটনা ছড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে উনার জানাযা আদৌ হয়নি এবং সাহাবীরা তিনদিন ধরে উনার দেহ কবরস্থ না করে ফেলে রেখেছেন ইত্যাদি ভয়ানক সব অভিযোগ ক্রমাগতই শুনে আসছি। ইসলামিক বিষয়গুলি নিয়ে লিখতে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হচ্ছে সঠিক তথ্য যোগাড় করা এবং তার সমর্থনে সহী সনদ (সূত্র) উল্লেখ করা। এই সিরিজের প্রতিটা লেখায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে সিহা সিত্তা থেকে হাদিস উল্লেখ করার। প্রায় প্রতিটা হাদিস উল্লেখিত হাদীস গ্রন্থগুলিতে খুঁজে বের করে দেখা হয়েছে এবং হাদীসেরগুলির ভাষাও অনুরূপভাবে লেখা হয়েছে। এই লেখা চলাকালীন সময়ে যে যে প্রশ্নগুলি করা হয়েছিল তার প্রত্যেকটার সঠিক তথ্য সহ বিশেষ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। তবুও মানুষ হিসেবে কেউই ভুল ত্রুটির উর্ধে নন। কারো চোখে যদি আমার লেখায় কোন ভুল বা ত্রুটি ধরা পরে, তাহলে সেটা ধরিয়ে দেবার জন্য অনুরোধ করা হলো।

সবশেষে, এই সিরিজ শুরু করা পর থেকেই যারা আমাকে উৎসাহ এবং সাহস দিয়ে গেছেন তাদের নাম শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করতে চাই। ব্লগার মেটালক্সাইড, ব্লগার করুনাধারা, ব্লগার শের শায়রী, ব্লগার রাবেয়া রাহীম, ব্লগার মনিরা সুলতানা, ব্লগার খায়রুল আহসান, ব্লগার মুক্তা নীল, ব্লগার নিভৃতা, ব্লগার মা. হাসান, ব্লগার নতুন, ব্লগার কালবৈশাখী, ব্লগার সাড়ে চুয়াত্তর, ব্লগার বিদ্রোহী ভৃগু, ব্লগার রাশিয়া, ব্লগার রানার, ব্লগার ঠাকুরমাহমুদ এবং ব্লগের শ্রদ্ধেয় মডারেটর কাল্পনিক_ভালোবাসা


সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত @ নীল আকাশ, সেপ্টেম্বর ২০২০


সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:২৬
২২টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ যেভাবে একুশে ফেব্রুয়ারি এলো

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ৯:২৯


বসন্তের সিগ্ধ রোদ ঝলমলে,
কৃষ্ণচূড়া, পলাশ ও শিমুল ফোটার দিন।
সময়টা মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসায় আপ্লূত হবার লগন।
বসন্তের আগমনে দখিনা মলয়ের মতো ভেসে চলার দিন এদিক ওদিক পানে।
মায়া মায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদা পায়রারা চলে যায়

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:০৬


লেখার সাথে যুক্ত হবো, এরকম কোন স্বপ্ন-চিন্তা ছিলোনা কোনওদিন। না আমার-না আমার বাবা-মায়ের। তবে আকারে ইঙ্গিতে আব্বার সুপ্ত একটা ইচ্ছের কথা জানা গিয়েছিলো- তাঁর ছেলে বক্তব্য দেবে আর মাঠভরা মানুষ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও আমার কিছু অভিজ্ঞতা!

লিখেছেন রেজা ঘটক, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:১৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ পাড়ি দিলেন অনন্তলোকে। খালেদ সাহেবের সাথে আমার একটামাত্র স্মৃতি আছে। যদিও সেটি খুব সুবিধার নয়। ১৯৯৯ সালের শেষের দিকে বা ২০০০ সালের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মিথিলা কাহিনী ৩ - তালাক-আল-রাজী (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন নীল আকাশ, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:২৫



ক্লাস ফাইভের ম্যাথের ক্লাস নিচ্ছিল মিথিলা, হঠাৎ স্কুলের পিওন এসে দরজায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে চাইলো।
পড়া থামিয়ে পিওনকে ভিতরে ডাকলো মিথিলাঃ
-কী ব্যাপার? কোন সমস্যা হয়েছে?
-রিমনকে এইমাত্র খুঁজে পাওয়া গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনাকে আর ভয় পাচ্ছি না, লক্ষন খারাপ না'তো?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:০২



গত বছর জুলাই মাস থেকে করোনাকে আর ভয় পাচ্ছি না, ইহা ভালো কি খারাপ, ব্লগার নুরু সাহেব থেকে জানার দরকার আছে, মনে হয়। আমরা ৭ জন বাংগালী মোটামুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×