
দূর্নীতির দায়ে হুট করেই চাকরিচ্যুত মনসুর আলীর বর্তমান আর্থিক অবস্থা বেশ শোচনীয়।
দূদক মনসুর আলী সাহেবের নিজের এবং পরিবারের সব ব্যাংক একাউন্ট ফ্রীজ করে রেখেছে।
গোপণে শালীর দেড় বছরের মেয়ের নামে যা যা রেখেছিলেন সেটা ভেঙ্গেই কোনমতে চলছেন এখন।
কয়েকমাস এভাবে যেতেই উনার অর্থনৈতিক বেশ বড় ধরনের টানাপড়েন শুরু হলো।
দিন দিন অবস্থা খারাপ থেকে আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে!
বিভিন্ন সংবাদপত্রে উনার খবর ছাপা হয়েছে ফলাও করে।
কেস যে নয়ছয় করে অন্যদিকে নিয়ে যাবেন সেটারও উপায় নেই।
কী থেকে যে কী করবেন কিছুই কূলকিনারা পাচ্ছেন না।
পারিবারিক অবস্থা ঘোরতর খারাপের দিকে গেলে অবশেষে উনার স্ত্রী উনাকে পরামর্শ দিলোঃ
- আর কিছুই তো পারবা না, যেটা জানো সেটার উপর একটা বই লিখে ফেলো।
হাতে কোন কাজকর্ম নেই। মনসুর সাহেব অবশেষে নিজের পূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়ে একটা বই লিখে ফেললেন।
লেখা শেষে বইয়ের নাম দিলেনঃ 'ঘুষ খাওয়া এবং দেয়ার সঠিক কলাকৌশল'
মনসুর আলী উনার পাণ্ডুলিপি প্রথম যেই প্রকাশক'কে দেখালেন, তিনি অনেকদিন ধরেই পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর কাজ পাবার জন্য চেষ্টা করছিলেন। পান্ডুলিপি পড়ার পর প্রকাশক নিজের খরচেই এই বই ছাপিয়ে দিলেন, এমন কী ১২% রয়ালিটি ফী দেবার জন্যও চুক্তিবব্ধ হলেন মনসুর আলীর সাথে। শর্ত একটাই, মনসুর আলী এই বই নিয়ে অন্যকোন প্রকাশকের কাছে ছাপানোর জন্য নিয়ে যেতে পারবেন না।
এই বই বের হবার সাথে সাথেই একুশে বইমেলার সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙ্গে সুপার ডুপার হিট।
একমাস ব্যাপি বইমেলা শেষ হবার পরেও এর চাহিদা বিন্দুমাত্র কমেনি।
শেষ খবর যা পাওয়া গেছে তাতে এর বারোতম সংস্করণ ছাপানোর কাজ জোড়েসড়ে চলছে।
বেকার মনসুর আলী সাহেব এই বইয়ের রয়ালিটির টাকা দিয়ে ঘুষ দিয়ে কাজ নেবার কনসাটেন্সি একটা ফার্ম খুললেন।
কিন্তু মাত্র কয়েকদিনেই, সেই ফার্মে এত বেশি ক্লায়েন্টের আনাগোনা যে তিনমাসের মধ্যেই দেশের প্রধান প্রধান শহরে ব্র্যাঞ্চ খুলতে হয়েছে।
ছয়মাসের মাথায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটা নতুন ব্র্যাঞ্চ খোলার অনুষ্ঠানে মাইক হাতে নিয়ে মনসুর সাহেব বেশ রাগত স্বরে বললেনঃ
'সব মাছে গু খায় আর দোষ শুধু হয় টাকি মাছের।
'সব শালা ঘুষ খায় আর দোষ হয় শুধু আমার'
সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইলো
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত @ নীল আকাশ, জুলাই ২০২১
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০২১ দুপুর ১২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




