somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সামিউল ইসলাম বাবু
অপরিকল্পিতভাবে যেমন সুন্দর বাগান তৈরী সম্ভব নয়,তেমনি অপরিকল্পিত শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে একটা সুন্দর জাতি তৈরী সম্ভব নয়।আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়- কর্মমুখী,নৈতিকতা সমৃদ্ধ ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চাই,বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতির বোঝা তৈরী হয়, সম্পদ নয়।

নফস ও মনের কুপ্রবৃত্তি এবং তা থেকে বাঁচার উপায়

০১ লা জুন, ২০২১ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




মানুষের মনে কুপ্রবৃত্তি আসার সংগে সংগে - লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়ুল আজীম - আয়ুযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তনির রজিম।
-আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি নেই, আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর দরবারে সাহায্য চাইতেছি -বলে বামদিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেলার মাধ্যমে- মনের কুচিন্তা দূর করা সম্ভব। এর জন্য দরকার মনের দৃঢ়তা ও ঐকান্তিক ইচ্ছা ।
সকাল-বিকাল কুরআন তিলাওয়াত এবং তাহাজ্জুদের নামাজ মানুষের মনের কুপ্রবৃত্তি দমনে সাহায্য করে।

নাফস মানে প্রবৃত্তি আর হাওয়া মানে কুপ্রবৃত্তি। দেহের যাবতীয় দাবিকে এক সাথে নাফস বলে।

মানুষের নফস মজ্জাগত ও স্বভাবগতভাবেই আম্মারাতুন বিছ-ছু অর্থাৎ পাপ কাজের দিকে আসক্ত হয়ে থাকে। কিন্তু ইমান, সৎকর্ম ও সাধনার বলে সে নফসে লাওয়ামাহ হয়ে যায় এবং মন্দকাজ ও ত্রুটির কারণে অনুতপ্ত হতে শুরু করে। কিন্তু মন্দকাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয় না। এরপর সৎকর্মে উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতে করতে যখন শরীয়তের আদেশ-নিষেধ প্রতিপালন তার মজ্জাগত ব্যাপার হয়ে যায় এবং শরীয়ত বিরোধী কাজের প্রতি স্বভাবগত ঘৃণা অনুভব করতে থাকে তখন এ নফসই ‘মুতমায়িন্নাহ’ উপাধি প্রাপ্ত হয়।
নফসের এ স্তরভিত্তিক বর্ণনায় সুস্পষ্ট যে, নফস মোট তিন প্রকার।

১. নফসে আম্মারা (প্রতারক আত্মা)- যা মানুষকে মন্দ কাজে প্ররোচিত করে অর্থাৎ যে নফস মানুষকে কুপ্রবৃত্তি ও জৈবিক কামনার দিকে আকৃষ্ট করে।
আল্লাহ বলেন- "আর আমি নিজকে নির্দোষ মনে করিনা, কেননা নিশ্চয় মানুষের নাফস খারাপ কাজের নির্দেশ দিয়েই থাকে(১), কিন্তু সে নয়, যার প্রতি আমার রব দয়া করেন(২)। নিশ্চয় আমার রব অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"( সূরা ইউসুফ-৫৩) ।

২. নফসে লাওয়ামাহ (অনুশোচনাকারী আত্মা) - যে নফস অন্যায় করার পর মানুষের হৃদয়ে অনুশোচনার উদ্রেক করে। কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন নফসে লাওয়ামাহ- এর কথা উল্লেখপূর্বক কসম খেয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি শপথ করি কিয়ামাহ দিবসের আরও শপথ করি সেই মনের, যে নিজেকে ধিক্কার দেয়। ( সুরা কিয়ামাহ: ১-২)।
হজরত হাসান বসরি (রাহ.) নফসে লাওয়ামাহ- এর তাফসির করেছেন, 'নফসে মুমিনা'। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! মুমিন তো নিজেকে সর্বদা সর্বাবস্থায় ধিক্কায় দেয়। সৎকর্মসমূহেও সে আল্লাহর শানের মোকাবেলায় আপন কর্মে অভাব ও ত্রুটি অনুভব করে। কেননা আল্লাহর হক পুরোপুরি আদায় করা সাধ্যাতীত ব্যাপার। ফলে তার দৃষ্টিতে ত্রুটি থাকে এবং তার জন্যে নিজেকে ধিক্কার দেয়।

৩. নফসে মুতামায়িন্নাহ (প্রশান্ত আত্মা)- যে নফস সকল কালিমা থেকে মুক্ত এবং যাবতীয় মহৎ ভাবনায় পরিতৃপ্ত। প্রশান্ত এ আত্মা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, 'হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তুোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।' (সুরা ফজর: ২৭-৩০)। তাফসিরে নফসে মুতামায়িন্নাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ আত্মা আল্লাহর প্রতি তার সৃষ্টিগত ও আইনগত বিধি-বিধানে সন্তুষ্ট এবং আল্লাহও তার প্রতি সন্তুষ্ট। মহান রাব্বুল আলামিন এসব প্রশান্ত আত্মাকে সম্ভোধন করে বলেন, আমার বিশেষ বান্দাদের কাতারভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো ।

"নি:সন্দেহে সফল হলো সে যে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে, ব্যর্থ হলো সে যে তাকে দাবিয়ে দিয়েছে। ( শামস-৯,১০)"।

আল্লাহ আমাদের সকলকে নফসে মুতামায়িন্নাহ (প্রশান্ত আত্মা) নিয়ে তার দরবারে হাজির হওয়ার তৌফিক দান করুন, আমিন।

(ইঞ্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম ভাই এর সংগ্রহ থেকে নিয়ে কিছুটা বিস্তারিত বর্ণনা করার চেষ্টা )
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০২১ দুপুর ১২:১৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×