somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যাকরণের বাইরেও আরেকটা ব্যাকরণ।

০৮ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা বেশিরভাগ মানুষ জানিনা যে আমাদের ভেতরে (বডির) কি অবাক আর অদ্ভূত বিস্ময় লুকিয়ে আছে অবশ্য আমরা আমাদের নিজেদেরকেই ভালো করে চিনিনা!


যেমন আমাদের চোখ দিয়ে আমরা প্রায় ১০ মিলিয়ন বিভিন্ন কালারের শেড দেখতে পাই! শুধু চোখটা খুলে একটু দেখতে হয় কিন্তু তারপরেও আমরা কতকিছু দেখিনা, দেখিনা প্রিয় মানুষের প্রিয় কালার কি, জানিনা মায়ের প্রিয় শাড়ি কোনটা, বাবার প্রিয় শার্ট কোনটা অথচ দেখে ফেলি হাজার হাজার কালার। আমাদের কান দিয়ে আমরা ২০ মেগাহার্টজ থেকে ২০ হাজার মেগাহার্টজ পর্যন্ত শব্দ শুনতে পারি অথচ শুনতে পাইনা প্রিয়জনের মনের কোনে চেপে রাখা বোবা কান্নার শব্দ, শুনতে পাইনা কারো কারো হাত ধরে একটু হাত ধরে কোন অলস বিকেলে হাত ধরার আকুতি, শুনতে পাইনা সকালের বিকালের নাগরিক পাবলিক বাসে কারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবার শব্দ, শুনতে পারিনা দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া কারো বেসুরো গানের গল্প, শুনতে পাইনা মধ্য ভেসে আসা রাতের শীতল চিৎকার অথচ শুনে ফেলছি হাজার মেগাহার্টজের শব্দ। আমাদের দেহ ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সইতে পারে অথচ বুকের কাছে লেপ্টে থাকা প্রিয় মানুষের উষ্ণতাও এখন আমরা অনুভব করতে পারিনা, জ্বরের ঘোরে পুড়ে যায় জেগে থাকা গল্পেরা কিন্তু সেই উষ্ণতাও আমাদেরকে স্পর্শ করতে পারেনা, অভিমানের বৃষ্টি ঝড়ে যায় মুষলধারে আমরা ভিজতে পারিনা অথচ চাইলেই অনুভব করতে পারি হাজার মেগাহার্টজের শব্দের শব্দদেরকে। আমরা প্রায় ১লাখ বিভিন্ন রকমের স্বাদ আলাদাভাবে নিতে পারি অথচ জীবনের স্বাদ কি সেটাই জানিনা, জানিনা ভালোবাসার স্বাদ কি, জানিনা বেঁচে থাকার মত করে বাঁচার থাকার স্বাদ কি, জানিনা নিজের ভেতর ডুবে থাকার স্বাদ কি, জানিনা দিনশেষে প্রিয় মানুষের কোলে ক্লান্ত মাথা রেখে একটু খামখেয়ালীপনার বাহানার স্বাদ কি, জানিনা মাঝ রাতে হটাৎ ঘুম ঘুম চোখে বানানো কফির স্বাদ কি অথচ ভালোবেসে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত কিন্তু ঘেমে যাওয়া নোনতা ঘামের স্বাদ কি শুধুই নোনতা ? সেটাও জানিনা কিন্তু কত অবলীলায় হাজার হাজার স্বাদের ভিড়ে দিক ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি কম্পাস বিহীন নিঃসঙ্গ পরিব্রাজকের মত। আমরা প্রায় ট্রিলিয়নের বেশি স্মেল নিতে পারি অথচ জানিনা প্রিয় মানুষের শরীরের স্মেল কি, হালের দামি পারফিউমের স্মেলে হারিয়ে যায় চিরচেনা অদ্ভুত সেই ভালোলাগার ভালোবাসার স্মেলগুলো, বোতল বন্ধি হয়ে থাকে দামি ভালোবসা শোকেসের থরে থরে, অথচ কি আদিম সেই স্মেলের টানে একসময় আমরা এসেছিলাম বেঁচে থাকবো বলে, কান্নার যে স্মেল থাকে তা কি কখনো আমরা জানতে চেয়েছি অথচ বৃষ্টির মাঝে ভিজে ভিজে নিজেকে লুকাতে চেয়েছি আমরা প্রতিনিয়ত, জানিনা বুনো ফুলের গন্ধ কি শুধুই একটা গন্ধ নাকি বেঁচে থাকার এক আদিম ব্যাকরণ। ব্যাকরণের সন্ধি বিচ্ছেদে আমরা মগ্ন থাকি অথচ কখনও কি জানতে চেয়ে কিভাবে ভাঙার আগে গড়তে হয়! তারপরেও মানুষকে জানা অনেক কঠিন একটা কাজ ঠিক ব্যাকরণ মেনে কথা বলার মতি কিন্তু আপনাকে কে বলেছে ব্যাকরণ মেনে কথা বলতে হবে? তবে নিজেকে কেন ব্যাকরণের মাঝে বন্ধি করে রাখা, একবার ব্যাকরণ ভেঙ্গেই দেখুন না, দেখবেন সবকিছু কত সুন্দর আর রঙিন, সব ভেঙে নিজের মত করে লিখেই ফেলুন না নিজের বাঁচার মত করে বাঁচার ব্যাকরণ! ঘরের ভেতরে থেকে ঘরের খোঁজ না করে বেড়িয়ে পড়ুন ঘর থেকে- অনুভব করুন অনুভবের আদিমতায়, স্বাদ নিন জীবনের পাগলামিতে, দেখুন ব্যাকরণের বাইরেও আরেক ব্যাকরণে সেখানে সন্ধি বিচ্ছেদ হয় ব্যাকরণের নিয়মের বাইরে নতুন করে জীবনের ব্যাকরণ লেখার জন্য, স্পর্শ করুন মাটির বুক বেয়ে যাওয়া বেঁচে থাকা বর্ণমালার অবারিত আহ্বান, দেখার বাইরেও দেখতে হলে শুধু চোখ থাকলেই হবেনা দেখতে হবে চোখ বন্ধ করে নিজের ভেতর থেকে চুপটি করে থাকা চোখ দিয়ে। আর তবে দেরি কেন বেড়িয়ে পড়ুন ব্যাকরণের বাইরেও আরেকটা ব্যাকরণ লিখতে জীবনের উচ্ছ্বাসে।
#জীবন_হোক_সুন্দর
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১২:১৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন নিজে নিজে এআই দিয়ে, নেট ঘেটে ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির স্যারের সব সত্যতা পাচ্ছে...!

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬

বারডেম সহ সকল ডাক্তারদের উচিত নন কমিউনিকেবল ডিজিজ গুলো বেশি বেশি ঔষধ দিয়ে, ছয় বেলার জায়গায় দরকার হলে আরো কয়য়েক বেলা মুড়ি, বিস্কুট, খই এর সাথে আরো কিছু যোগ করে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×