কি লেখব বলেন? হাত দুটো কাঁপছে। চোখ ফেটে কান্না আসছে। কিন্তু এমন এক মেসে থাকি কাঁদতেও পারছি না!
কষ্টটা কেমন, তা কি লেখায় প্রকাশ করা যায়। একটু আগে একজন জানাল দিনাজপুরে ঝরে গেছে আরেকটি তাজা গোলাপ। আমার ভাই মুজাহিদ চলে গেছে পরপারে মহান প্রভুর সান্নিধ্যে।
খবরটা শুনে স্থির থাকতে পারছি না। প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে আমার। প্রচণ্ড কষ্ট। বুকটা ফেটে যাচ্ছে।
ওহ! ও নিষ্পাপ বলেইতো চলে গেল। এখনতো বেশ সুখেই আছে নিশ্চয়ই। আর আমার মতো অশভ্যকে রেখে গেছে পুরনো জঞ্জালে। আমি না তার মতো লড়তে পারব। না সত্য কথা বলতে পারব। তবে কেন বেঁচে থাকা!
তাহলে কেন আমি বেঁচে রইলাম। আমি দু'হাত তুলে তার জন্য দোয়াও করতে পারব না। করবও না।
আমি জানি, আল্লাহকে বিশ্বাস করে এদেশে এমন কেউ মরলে তাতে মানবতা ক্ষুণ্ন হয় ন। বরং মানবতা পোক্ত হয়। আমাদের মিডিয়া এমন মৃত্যুতে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে। তারা ছাত্রলীগকে রাস্তায় নেমে মানুষ মারার জন্য উৎসাহ যোগাচ্ছে।
পুলিশের গুলিতে ও মরে গেছে। নাকি ছাত্রলীগের গুলিতে আমি নিশ্চিত নই। সামনে ওর মতো আরও কত মরে কে জানে? আহা মুজাহিদরা আছে বলেইতো এ পৃথিবী এখনও টিকে আছে। মুজাহিদদের রক্ত এ মাটির সাথে লেগে রয়েছে বলেইতো এদেশে এখনও ভোর হয়, সকালের আলোতে প্রাণ শক্তি ফিরে পায় আপামর মানুষ। সূর্য হাসে। এখনও চূড়ান্ত জয়ী হয় মানবতা শব্দটি। মুজাহিদদের জয়ও নিশ্চয়ই হবে।
মুজাহিদের মা-বাবার অবস্থা এখন কেমন আমি জানি না ।
ওর কোন ছোট্ট ভাই বা বোন আছে কি না তাও জানি না। ওদেরকে কেউ স্বান্তনা দিবে কি না তাও জানি না । না জানি পুলিশ তাদের গ্রেফতার করার জন্য আটক করেছে কে জানে!
তবে কেউ না কেউ নিশ্চয়ই মুজাহিদের জন্য কাঁদছে। তার রুহের শান্তি চেয়ে হাত তুলছে। আমার পাপিষ্ঠ দুটি হাত না হয় উঠালাম না। কিন্তু পবিত্র হাতগুলোত আর বসে থাকবে না।
এ লেখাটির জন্য ব্লগ কর্তৃপক্ষ আমার আইডিটি ব্যান করবে কি না বুঝতে পারছি না। খোদার কসম করে বলছি, এ লেখাটা মোটেও আক্রমণাত্মক না। আমি মডুদের বলছি প্লিজ একটু মানবিক দিক থেকে দেখবেন। একটি মানুষ তার খুব কাছের স্বজন হারিয়েছে। সে মনখুলে কাঁদতেও পারছে না। আপনারা কি তাকে সামান্য এ লেখাটা লিখে ন্যূনতম শোক প্রকাশ করতেও দিবেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


