আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ৬ ডিসেম্বর ২০১২। সময় ৩:৪৯। আসামীর কাঠগড়ায় বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন মাওলানা। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে শুরু করলেন। আদালত কক্ষে তখন পিন পতন নিরবতা। হাতে থাকা কোরআনটা উচু করে ধরে বিচারকদের উদ্দেশে বললেন, মাননীয় আদালত এ কোরআনের কসম করে বলছি। আমার বিরুদ্ধে যে ২০টি অভিযোগ আনা হয়েছে, তার একটির সাথেও আমার ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। ৭১ এ আমি কোন অপরাধ করিনি। আজ এ ট্রাইব্যুনালকে সাক্ষী রাখলাম, আমি যদি মিথ্যা বলে থাকি তবে আমার মৃত্যু যেন বেঈমানের হয়। আমার স্থান যেন হয় জাহান্নামে। পেছনে তাকিয়ে দেখি দুয়েকটা মানুষ-সাংবাদিকের চোখ ছলছল করছে। কোনমতে নিজেকে সামলে নেই।
সময় মাত্র দুই মিনিট। মাওলানা আবার বলতে শুরু করলেন, মাননীয় আদালত আমার নাম দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। আমাকে একনামে সারাদেশের মানুষ চিনে। এ নামটিকে বিকৃত করে করা হয়েছে দেলোয়ার হোসেন, দেইল্লা, দেলোয়ার শিকদার। কখনো ওরফে সাঈদী। তারা আমাকে বানাল, রাজাকার, ধর্ষক, ব্যবিচার, খুনী (এসময় কেঁদে দেন মাওলানা)।
এর সবই করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে। তদন্ত কর্মকর্তারা পিরোজপুরে গিয়ে স্থানীয় এমপির সাথে কথা বলে এসব করেছেন। তারা মিথ্যা সাক্ষী বানিয়েছেন। আমার চরিত্র হনন করেছেন।
মাওলানা আবার বলতে শুরু করলেন, মাননীয় আদালত, আজ আমার উপরে অন্যায় করা হচ্ছে। এখানে আমার বিরুদ্ধে এমন কোন হেন অভিযোগ নেই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আনেননি। কোন মানুষ যদি মুসলমান হয়, তার মধ্যে যদি ন্যূনতম ঈমান থাকে তবে সে তার অপর এক মুসলিম ভাইয়ের প্রতি এত জঘন্য মিথ্যাচার করতে পারে না। আমি এ জঘন্যতার শিকার।
মাননীয় আদালত, এ কাঠগড়ায় আমি আসামী। আপনারা বিচারক। আজ আপনার যদি আমার উপর অন্যায় করেন। আমি এর পরোয়া করি না । মনে রাখবেন, এমন একদিন আসবে যেদিন আমি মজলুম হবো বিচারপ্রার্থী। আপনারা হয়ে য়াবেন আসামী। সেদিন বিচারক হবেন সব বিচারকের বড় বিচারক স্বয়ং মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ। আমি সেদিনের বিচারের অপেক্ষায় রইলাম।আল্লাহর দরবারে বিচার দিলাম। এসমসয় আদালত কক্ষে অনেকে আমিন আমিন বলে উঠেন।
পুরো আদালতজুড়ে একটি দীর্ঘশ্বাস। তন্ময় হয়ে সবাই মাওলানার কথা শুনছেন।
তিনি বললেন, মাননীয় আদালত আমি ইতিহাসের নির্মম মিথ্যাচারের শিকার হয়েছি। আমি দোয়া করি সরকারি আইনজীবীরা হেদায়েত হয়ে তওবা করুক। তারা সৎপথে ফিরে আসুক। যদি তারা না আসে,
মিথ্যা অভিযোগের কষাঘাতে আমি যে মানসিক নির্যাতনের শিকার হলাম। আমার ছেলেরা, আমার পরিবার যে নির্যাতনের শিকার হলো। আমরা ভক্তরা আমার জন্য যে চোখের পানি ফেললো। সে পানির আগুনে জ্বলে তারা যেন শেষ হয়ে যায়। তারা যেন বহ্নি শিখা হয়ে জ্বলে। আমি আল্লাহকে বলছি, তারা যেন আমার মতো মানসিক যন্ত্রণায় ভোগের পর মৃত্যু বরণ করে। এমন যন্ত্রণা ভোগ করার আগে তাদের যেন মৃত্যু না হয়।
বিচারকদের প্রতি বিশ্বাস রেখে আমি শেষ করছি।
এরপর বিচারক বললেন, আমাদের উপর বিশ্বাস রাখেন আমরা ন্যায় বিচার করব। তারপর বিচারক বললেন, আদেশ সিএভি।তার মানে যে কোন দিন আদেশ হতে পারে।
আমার আকুতি
সবাই গড় গড় করে নেমে যাচ্ছ। আমি এগিয়ে যাই মাওলানার দিকে। হাতটা বাড়িয়ে দেই। তিনি হাতটা ধরে একটা হাসি দেন। পাশে তাকিয়ে দেখি উদাস দৃষ্টিতে মাওলানার দিকে তাকিয়ে আছেন এক নামজাদা সাংবাদিক।
আমি না সাংবাদিক, না ব্লগার, না মানুষ। আস্ত একটা কুত্তার বাচ্চা টাইপ কিছু। তবু সখের বসে টাইব্যুনালে গিয়ে মাওলানারা কথা শুনে কেঁদে আসলাম।
ক্ষমতাধর ট্রাইব্যুনালের সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে আল্লাহর সাথে কথা বলি, তুমি যদি এমন শর্ত দাও-একটি প্রাণের বিনিময়ে এ মজলুম মাওলানাকে কোরআনের একটি মাত্র আয়াতের তাফসীর করার সুযোগ দিবে, তবে আমার জীবনটা নিয়ে নাও। না দেখা আকাশের প্রতি শাহাদাত আঙ্গুলি উচু করি। হে আল্লাহ আমার এ আকুতি কবুল করে নাও...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


