৩৫ তম বিসিএস এর প্রিলিমিনারি আরো এক মাস পেছানো হলো। পরবর্তী তারিখ ধার্য হয়েছে আগামী বছরের ৬ মার্চ।
শেষ বিসিএসটি হয়েছিল বছর দুয়েক আগে। এরপর দীর্ঘদিন কোন প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এবার ৩৫তমতে তাই স্বাভাবিকভাবেই স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে। আর এই এত সংখ্যক আবেদনের কারণেই নাকি পরীক্ষা পেছানো! তবুও ভালো, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে কোন রকম তদবির বা অর্থ লেনদেন ছাড়াই যদি এর আয়োজন করা যেত!
পাবলিক লাইব্রেরি অথবা পাবলিক ভার্সিটির (ধরুন ঢাবি) লাইব্রেরিতে যান। আপনি যান আবাসিক হলগুলির রিডিং রুমে। দেখে অবাক হবেন, বছরে এই একটি কখনো কখনো দুই বছরে একটি সুযোগের জন্য ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে দিনের পর দিন রাতের পর রাত পড়ালেখা করে। কেউ গ্রুপে, কেউ সঙ্গীসহ, আবার একা একা। আপনি ঢাবির সায়েন্স লাইব্রেরিতে যান। দেখবেন, অনার্স-মাস্টার্স করে বেকার বসে আছেন অনেকেই। মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে, বিয়ের বয়স যায় যায়। অথচ সোনার হরিণ সরকারি চাকুরির দেখা নেই। অথচ, মফস্বলের অভিভাবকদের কাছে সরকারি চাকুরি বিশেষ করে বিসিএস সবচেয়ে কাম্য এবং আকাঙ্খিত। এর একটা বড় কারণ হল, এই চাকুরিতে সমাজে সম্মান আছে, প্রাইভেট সেক্টরের তুলনায় অনেকের মতে খাটুনি কম, আর খুব বেশি অন্যায় নআ করলে এই চাকুরি হঠাৎ চলে যাবার কোন ভয় নেই। ওএসডি করে রাখলেও আপনার পরিবার না খেয়ে মরবে না। এইসব মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য এমন দেরীতে বিসিএস অথবা বারবার পরীক্ষা পেছানোটা হতাশার একশেষ। কত আর ধৈর্য ধরে থাকা যায়? বাজারের কত ডাইজেস্ট কেনা যায়? এত মোটা মোটা বই কেনার টাকা এরা পাবে কই? এই বয়সে বাসা থেকে টাকা আনতে কার ভালো লাগে?
সোনার বাংলাদেশের সোনার চাকরির সন্ধানে যারা দিনের পর দিন রাতের পর রাত লাইব্রেরিতে পড়ে থাকেন, তাদের যে আরো অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। কিচ্ছু করার নাই, তবু সুন্দর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আপনার দিকে যে তাকিয়ে আছে অনেকগুলি মুখ! আর, আমার পরামর্শ হল, শুধু এক আশায় বসে না থেকে নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কিছু করার চেষ্টা করুন। নিজের ভাগ্য নিজেকেই বদলাতে হবে বন্ধুরা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


