somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

...নিপুণ কথন...
শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। ফেসবুকে যুক্ত হোনঃ www.facebook.com/dev.d.nipun (DEV DULAL GUHO)

হিটলার বেঁচে আছেন

১৭ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজ্য জয় করার দুটি উপায় আছে। এক- শান্তিময় সঠিক উপায়ে নিজেকে যোগ্যতম প্রমাণ করে মানুষের ভালোবাসা পেয়ে রাজ্য জয় করা, আর দুই- ক্ষমতায় যাবার জন্য যা যা করা দরকার (হোক সেটা বেঠিক, হোক অনুচিত) সেসব কিছু করে, সোজা কথায় যেকোন মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়া। নাৎসি বাহিনীর প্রধান অ্যাডলফ হিটলার বেছে নিয়েছিলেন দ্বিতীয় পথটিই । ছিল না চলার মতো অর্থ, চিনতো না কেউ। এমনকি ছিল না জার্মান নাগরিকত্বটাও। সেখান থেকে কুবুদ্ধির জোড়ে হলেন সেই জার্মানিরই একনায়ক! খারাপ হলেও বুদ্ধিটা তাঁর তুখোড় ছিল। স্যার আইন্সটাইনের ব্রেইনটা তো সংরক্ষিত আছে, হিটলার শেষে আত্মহত্যা না করলে হয়তো তাঁর ঐ এক্সট্রা-অর্ডিনারি ব্রেইনটাও সংরক্ষিত রাখা যেত!

হিটলারের জন্ম হয় যে দম্পতির কোলে, তাঁরা আসলে সম্পর্কে ছিলেন Uncle-Niece! ছোট থেকেই কুবুদ্ধি গিজগিজ করতো হিটলারের মাথায়। প্রচন্ড জেদি আর একরোখা ছিলেন। তিনি যা চাইতেন, যেকোন মূল্যে সেটা তাঁকে পেতেই হতো। বাবা মেরেছিল বলে বাবাকেও বিষপ্রয়োগে মারেন বলে চাউর আছে! এরপর আর্টিস্ট হতে চেয়েও ব্যার্থ হন। এর মধ্যে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। তাতে যোগ দিয়ে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করেন এবং পদোন্নতি পান। কিন্তু এক পর্যায়ে নিজেদের আত্মসমর্পন মেনে নিতে পারেন না। এরপর জার্মানি গিয়ে আবার কাজ শুরু করেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল ইহুদিমুক্ত আরও বিশাল জার্মানি প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যে রাজনীতিতে যোগদান, বক্তৃতাদানের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন আদায় এবং ধীরে ধীরে নিজের নাৎসি বাহিনী গঠন করেন। এই পথচলায় যেসব বন্ধুর সহায়তা পান তিনি, যারা তাঁকে সামনে রেখে নিজেরা উপকৃত হতে চেয়েছিল, তাদেরকেই তিনি ব্যবহার করে ছেড়ে দেন অনেকটা টিস্যু পেপারের মতো। কারোরই ভালো কোন পরিণতি ঘটেনি। ধীরে ধীরে নিজের কুবুদ্ধিতে ক্ষমতায় যাবার শর্টকাট এর নিলনকশা ফাদেন এবং একভাবে না একভাবে সফল হনই। এই উচ্চতায় খাটো মানুষটির ক্ষমতার দাপট ছিল দেখার মতো! সবাইকেই প্রথমে মুগ্ধ করে দলে টানার এবং পরবর্তীতে কোন না কোন ফাঁদে ফেলে তাঁকে দিয়ে যা খুশী তাই করিয়ে নেয়ার কুটকৌশল তিনি জানতেন। জার্মানি দখলে নিয়েও তাঁর মন ভরলো না যখন, তখন তিনি গোটা ইউরোপ দখল করতে উদ্যত হলেন। শুরু হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! গোটা দুই ডজনেরও বেশি দেশ দখলে নেয়ার পর একসময় হিটলার পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেন। কিন্তু হিটলার কেন হারবেন? রাগে-ক্ষোভে নিজেই নিজেকে শেষ করে দিলেন।

ইতিহাস তো এমনটাই বলে হিটলার সম্পর্কে। অবশ্য এটাও ঠিক যে, জয়ীরাই ইতিহাস লেখে। তবে হিটলারের কিছু 'গুণ'-ও ছিল। কথা বলে মানুষকে মুগ্ধ করে রাখার মন্ত্র জানতেন তিনি। যুদ্ধজয়ের কৌশল জানতেন। কি করে চাওয়া এবং পাওয়াকে এক করা যায়, সেই উপায় জানতেন। সাফল্যের জন্য এগুলো দরকার। তবে তার মাঝে মানবতা থাকাটাও জরুরী। ভালো-মন্দের মাঝে পার্থক্যটাও বুঝতে পারা জরুরী। তা না হলে ক্ষমতা দখলে নেয়া যায়, কিন্তু টিকে থাকা যায় না। হিটলার যেমনটি পারেন নি, ৫০ মিলিয়ন মানুষের রক্তের বন্যা বইয়েও।

এই যুগেও দেখি অনেকেই হিটলার হতে চায়। যেকোন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়া এবং টিকে থাকা, মানবতা আর উচিৎ-অনুচিত এর চিন্তা বাদ দিয়েই। আজকাল কিছু পেতে হলে ধান্দাবাজ হতে হয়- এটাই যেন রীতিতে দাঁড়িয়ে গেছে। কেউ শুনতে চায়না নীতিকথা। আর কিভাবে কিভাবে যেন প্রায় সব মানুষই দিনদিন এমন হয়ে যাচ্ছে! হিটলার তাই মরে গিয়েও অমর, বেঁচে আছেন যেন আমাদের মাঝেই!
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×