বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন এক হলের এক বিখ্যাত কাম প্রথিতযশা বাথরুম-সিঙ্গার সন্ধ্যার অব্যবহিত কিছু পরে মুখ-হাত ধুইতে বাথরুমে ঢুকিয়াই প্রতিদিনের মতো মনের সুখে গলা ছাড়িয়া গান গাইতে শুরু করিলেন- "বাতো কো তেরি হাম ভুলা না সাকে..."
কিন্তু, তাঁহার মনের সুখ সহ্য হইলো না কোনো একজন পার্শ্ববর্তী বাথরুম/টয়লেট চিন্তকের। এই উচ্চস্বরে গান তাঁহার চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটাইলো বলিয়া মালুম হইল। তিনি করিলেন কী, দ্রুত তাঁহার কার্য সাধন করিয়া যাইবার কালে চুপটি করিয়া উক্ত গায়কের বাথরুমের কপাট বাহির হইতে খিল মারিয়া রাখিয়া গেলেন!
অতঃপর, ক্ষানিক বাদে, গায়ক গান-টান সারিয়া হাত-পা ধুইয়া ফিরিয়া যাইবার কালে অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করিলেন, তাঁহার দরজা বাহির হইতে আটকানো হইয়াছে। কোন এক অকালকুষ্মাণ্ডের এই কৃতকর্মে গায়ক অতিশয় ক্ষুদ্ধ হইয়া জোরে জোরে বাথরুমের প্লাস্টিকের দরজা গুতাইতে লাগিলেন।
বাথরুমের থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী একটি রুমের দুই ছাত্র এই শব্দ শুনিয়া প্রথমে উহাকে গালি দিয়া কহিলো, "দ্যাখো ব্যাটার কাণ্ড। এতক্ষণ গান গাহিয়া পরম-আনন্দ দিয়াই ক্ষান্ত হয় নাই, এক্ষণে যন্ত্র বাজাইতে আরম্ভ করিয়াছে!" বাদ্য বাজনা ক্রমেই বাড়িয়া চলিলো, অথচ বেচারা গায়ক মুখে সাহায্য প্রার্থনা করেন না কিছুতেই! ক্ষানিক বাদে, ঐ দুই ছাত্র ব্যাপারটি বুঝিতে পারিয়া, হাসিতে হাসিতে বাথরুমের দিকে অগ্রসর হইয়া, উহাকে অবমুক্ত করিয়া রুমে ফিরিয়া আসিয়াও হাসি থামাইতে পারিলো না। উহাদের হাসি, বোধ করি অদ্য সারারাত্র চলিবেক!
-দেব দুলাল গুহ (দেবু ফরিদী) ।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





