
এসএ গেমসে দেশের জন্য সোনা জিতে আনা মেয়েটি, একমাত্র এই দুর্ভাগা দেশেই, সোনার মেডেলটিকে গর্বের প্রতীক হিসেবে শো-কেসে সাজিয়ে রাখতে পারে না। তাঁকে ভাবতে হয় মেডেলটি বিক্রি করে বাবার চিকিৎসা করানোর কথা। প্রয়োজনের কাছে অর্জন এখানে পরাজিত, তৃপ্তির ঢেকুর তোলা মানেই বিলাসিতা।
আমাদের মতো দেশে বিয়ের বয়স হবার পরেও বিয়ের পিঁড়িতে না বসে, চাকুরির চেষ্টা না করে, শুধু ভালোলাগা নিয়ে স্বপ্নের পেছনে পড়ে থাকতে পারে- এমন মেয়ের সংখ্যা হাতে গোনা। এখানে সর্বোচ্চ স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতি পেরিয়ে একজন প্রকৃত মেধাবীকে ওপরে উঠে আসতে হয়। এ কাজে খুব কমই সফল হয়। বাকিরা ঝরে পড়ে।
মাবিয়া ঝরে পড়েন নি। এসএ গেমস থেকে বাংলাদেশের জন্য তিনি সোনা জয় করে ফিরেছেন। জাতীয় সঙ্গীতের মূর্ছনায় তাঁর চোখের জল আমাদেরকে আবেগের জলে ভাসিয়েছে। অথচ আমরা বিমানবন্দরে তাঁকে ন্যুনতম সংবর্ধনাটুকুও দেইনি। একটা ফুলের মালা কি তাঁর প্রাপ্য ছিলো না? শুধু ক্রিকেট অথবা ফুটবলকেই কেন গুরুত্ব দেয়া হবে? বাকিগুলো কেন নয়?
দেশের একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রকৃত মেধাগুলোকে ছেঁকে আনতে হবে। তাঁদেরকে লালন-পালন করতে হবে, বড় করতে হবে। পড়ালেখা, প্রয়োজনে পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে। নির্ভার হয়ে যাতে তাঁরা দেশের জন্য নিজের সেরাটা দিতে পারেন।
খুব ভালো লাগলো, দেরী না করেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মিডিয়ায় আসা বিষয়টি নজরে নিয়ে মাবিয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেনে। এমন উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পেলে বাংলাদেশকে আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
-দেব দুলাল গুহ ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


