somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধারাবাহিক উপন্যাসঃ নির্জনতার সমুদ্রে অবগাহন- ৫

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(৫)
শ্রাবণের ছোট খালু ওর ভালো সহ্য করতে পারেনি কোনদিন। নিজের বাউন্ডুলে কম-মেধাবি ছেলেটিকে বরাবরই দাঁড় করাতো শ্রাবণের কৃতিত্বের পাশাপাশি। কী করে ওদের দাবিয়ে রাখা যায় সেই কূটবুদ্ধি নিয়ে থাকতো সব সময়। তহশিলদার মানুষ তো, সবই দলিল-পরচায়, কলমের খোঁচা জ্ঞানে শ্রাবণকে ভুলপথে পরিচালিত করার করবার বুদ্ধি দিতো ওর সৌম্য-শান্ত বাবাকে। প্রথম প্রথম বাবা যেভাবে চলতে বলতো, শ্রাবণও চলতো সেভাবে। কিন্তু যখন দেখলো বাবা এসব তহশিলদারি মস্তিষ্কে বলেন, তখন থেকে শুরু হলো শ্রাবণের বিদ্রোহ। একসময় বাবাও সব বুঝতে পারলেন।

এসএসসি পরীক্ষার পর খালু স্কুলে গিয়ে নম্বরপত্র দেখেই শ্রাবণের রেজাল্টের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছিলেন। যখন দেখলেন নিজের ছেলের চাইতে প্রায় দ্বিগুণ মার্কস ওর, তখন পান চ্যাগরাতে চ্যাগরাতে বললেন- এ বছর প্রশ্নপত্র আউট হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের সবারই ভালো রেজাল্ট হয়েছে। শ্রাবণ কোনো জবাব দেয়নি তার কথার। শুধু অপেক্ষা করেছে ভালো কলেজ থেকে এইচএসসিতে ভালো রেজাল্ট করার।

এমনি ভাবের ঘোরে কখন যে একটু ঘুম এলো, তা টের পেলো না শ্রাবণ।

কলেজ-চত্বরে পা রাখতেই, পরিচিত মুখগুলো নজরে এলো। কেউ নোটিশবোর্ড থেকে ফিরছে, আর কেউ নোটিশবোর্ডমুখী। শ্রাবণ নোটিশবোর্ডমুখী ছাত্রদের কাতারে এগুতে থাকলো। প্রচন্ড ভিড়। ক্রমে ঠেলাঠেলির মাঝে একরকম স্রোতে গা ভাসানোর মতো করে একসময় নোটিশবোর্ডে ঠেকলো ওরা। শ্রাবণের বুকটা দুরুদুরু করে। ফ্যাকাশে হয় মুখ। আশেপাশে ভ্রুক্ষেপের সময় নেই, তবু দু-একজনকে চোখে না পড়ে পারে না। দু-একটি ছেলেমেয়েকে কাঁদতে দেখে বিলচিত হয় শ্রাবণের মন।

শ্রাবণ দ্যাখ, পলি কাঁদছে! –নয়নের সচকিত কন্ঠ।

ডানে-বায়ে চোখ ঘোরায় শ্রাবণ। ডানে একটা মেয়ের দিকে আটকে যায় ওর দৃষ্টি। জবাব দেয়- হয়তো খারাপ করেছে।

এরই মাঝে সহপাঠী কাজল বলে ওঠে- এই যে শ্রাবণ, তোর খবর খুব ভালো। নয়নেরও। আর নোটিশবোর্ডে যেতে হবে না—

মৃদু হেসে রোল নম্বরটা সচক্ষে দেখে নেয় শ্রাবণ- প্রথম বিভাগ, চারটে লেটার।

কাজল এগিয়ে এলো- কিরে, বিশ্বাস হলো? চল চল ঠাকুরের দোকানে! মিষ্টি খাওয়া!

-যাচ্ছি, যাচ্ছি, তা তোর রেজাল্ট কী?

-ঐ যে, সেকেন্ড ডিভিশন! এসএসসিরটাই। আমি এতেই খুশি। করবো ব্যবসা, অত ভালো করে কী হবে?

ভালো করার মতো প্রস্তুতি নিলে তো হবে! –বললো নয়ন। শ্রাবণ নয়নের চোখে চোখ রাখলো।

কাজল হোঁচট খায়। বলে- করি রাজনীতি। পড়বো কখন? ইচ্ছে করলে ভালো রেজাল্ট আমাদেরও হতো। কিন্তু কী দরকার? হলে তো—না থাক, তোরা ভালো রেজাল্ট করে যা না করতে পারবি, আমরা খারাপ রেজাল্ট নিয়েও তা পারি। অনার্স-মাস্টার্স করে থাকবি বেকার। ঘুরবি চাকরি-বাকরির ধান্দায়। জীবনের অর্ধেকটা কাটবে এভাবেই। আর আমাদের দ্যাখ, সময়মতো বিয়ে করেছি, ব্যবসা জুড়েছি—আর কী চাই? এখন শুধু মাল কামানোর ধান্দা।

ক’বছর আছিস যেন কলেজে? –নয়ন টিপ্পনী কাটে।

-এই ধর চার বছর।

-ইলেকশন করবি নাকি?

-করবো না মানে! আলবৎ করবো। এবারই তো সুযোগ! আমাদের প্যানেল একটাই হবে। আর ওরা নির্বাচন করছে না। শুধু টিয়া ভাইকে ম্যানেজ করতে পারলেই—

কথায় কথায় ঠাকুরের দোকানের কাছে চলে এলো ওরা।

কাজল থামলো। হাতের ইশারায় ঠাকুরের দোকানের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো।

-নারে ভাই, আজ পকেটে টাকা নেই। শ্রাবণ বললো।

-নেই মানে? এতো ভালো রেজাল্ট! বাকিতে খাওয়া! চল, বলে দিচ্ছি।

-না রে দোস্ত, আমি বাকি খাই না।

-আজকে খা।

এবার নয়ন মুখ খুললো- ক্যানো, বলে দিতে হবে ক্যানো? তোরা খেয়ে বিল না দিলেই বা কী? কিছু বলার সাহস আছে নাকি ঠাকুরের? নইলে বল, আমিই খাওয়াই—

-আরে, একজন খাওয়ালেই হলো।

ওরা ঠাকুরের দোকানে বসে অর্ডার দেয়। শেষে বিলটা অন্য এক কন্ট্রাক্টরের ঘাড়ে চাপায় কাজল।

শ্রাবণ অসহিষ্ণু কণ্ঠে বলে, চল নয়ন— বাবা-মা উদগ্রীব হয়ে আছেন। বাড়ি চল।

-হ্যাঁ, চল। আমারও তাড়া আছে।

নয়ন উঠে পড়ে। সঙ্গে শ্রাবণও। কাজল আড্ডাবাজদের সাথে মিশে যায়।

-চলি কাজল। নয়ন হাত রাখে কাজলের পিঠে।

-কিরে, যাচ্ছিস?

-হ্যারে, বাড়িতে সবাই চিন্তায় থাকবে। বললো শ্রাবণ।

কাজল নয়নের কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে কী যেন বললো। নয়ন পকেট থেকে একটি বিশ টাকার নোট কাজলের হাতে দিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ালো।
(চলবে)

উপন্যাসঃ নির্জনতার সমুদ্রে অবগাহন,
লেখকঃ কবি বাবু ফরিদী​।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৪৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×