somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেভাবে ভারত-আফগানিস্তান মিলে পাকিস্তানকে ভাতে ও পানিতে মারতে পারে

২৫ শে এপ্রিল, ২০২৫ রাত ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে হয় না, বুদ্ধি দিয়ে হয়। সিন্ধু নদীর শাখা নদী হচ্ছে ৬টি।এর মধ্যে তিনটি নদী রাবি, বিয়াস এবং শতদ্রু এই তিনটি নদী ভারতের ভেতরে অবস্থিত।এর উপর পূর্ণ অধিকার শুধুই ভারতের। অপর তিনটি নদী চেনাব, ঝিলম, সিন্ধু এই তিনটি নদীর উপর পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষি, ২৫ শতাংশ জিডিপি ও পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টর নির্ভর করে ।পাকিস্তানের সিন্ধু নদীর যে তিনটি শাখা নদী থেকে জল সংগ্রহ করে তা ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত।এর মধ্যে ঝিলাম ও চেনাব নদীতে ভারত দুটি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যা কিষাণ গঙ্গা ও রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নামে পরিচিত।

পাকিস্তানের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হবে রাভি নদীর উপর শাহপুরকান্দি বাঁধ। ভারত প্রতি বছর তার ভাগ থেকে পাকিস্তানে ৯.৩ বিলিয়ন ঘনমিটার জল পাকিস্তানকে দেয়- যা এখন নয়াদিল্লি বন্ধ করে দিবে।যার ফলে বন্যার সময় পাকিস্তান জলে ডুবে যাবে আর খরার সময় মরুভুমিতে পরিণত হবে।ধীরে ধীরে পাকিস্তান হয়ে যাবে উগান্ডা ও সোমালিয়ার মত খাদ্য দুর্ভিক্ষের দেশ।

পাকিস্তানের গ্রামীণ জনপদের ৬৮ শতাংশ মানুষ এই সিন্ধু নদীর জলের উপর নির্ভরশীল।সিন্ধু নদীর উপর দেয়া পাকিস্তানের মঙ্গলা ও তারবেলা বাঁধ মাত্র ১৪.৪ মিলিয়ন একর -ফুট জল সংরক্ষণ করতে পারে - যা তার প্রাপ্যতার মাত্র ১০ শতাংশ। পাকিস্তানের প্রায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তারবেলা ও মঙ্গলা বাঁধ।পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে পাকিস্তানের অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। কৃষি উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় পাকিস্তানের রপ্তানি বিপর্যয় দেখা দিবে।ডলার বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির দাম আরও কমে যাবে।ফলে পাকিস্তানের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে এবং পণ্য উৎপাদন কম হলে পাকিস্তানের রিজার্ভে টান পড়বে। অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে পণ্য আমদানি করতে গিয়ে পাকিস্তান চিরস্থায়ী এক ভিক্ষুকের দেশে পরিণত হবে।

আফগানিস্তানের ২০ লক্ষ মুসলমানদের বিশুদ্ধ পানি ও সেচ সরবরাহের মাধ্যমে আফগানিস্তানের মুসলমানদেরকে বাঁচাতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার কাবুল নদীর উপর শাহতুত বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত সরকার।এই নিয়ে আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। তালেবান সরকারকে করোনার সময় ৫ লাখ ডোজ করোনার টিকা দিয়ে সহযোগিতা করেছিল ভারত। যার ফলে এই জল যুদ্ধে ভারতের পাশে আছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। আফগানিস্তানের কাবুল নদী পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের অ্যাটকের কাছে সিন্ধু নদীতে মিলিত হয়েছে এবং এটি আফগানিস্তানের প্রধান নদী।কাবুল নদীতে শাহতুত বাঁধ নির্মাণের ফলে পাকিস্তান ভাতেও মরবে আবার পানিতেও মরবে।এর ফলে পাকিস্তানের জল ব্যবস্থাপনা এক প্রকার ধ্বংস হয়ে যাবে।

সিন্ধু নদীতে ভারতের ছয়টি বড় বাঁধ আছে।পাঞ্জাবের রাবি নদীর উপর ভারত নির্মাণ করছে শাহপুরকান্দি বাঁধ।যার ফলে পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদি খরা ও বন্যার দেশে পরিণত হবে। সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব এই তিনটি নদী ভারত থেকে পাকিস্তানে ৮০ শতাংশ জল সরবরাহ করে।এই ৯.৩ বিলিয়ন ঘনমিটার জল এখন ভারত বন্ধ করে দিবে।

প্রায় ২০০০ মাইলের সিন্ধু নদী চীনের তিব্বত থেকে আসলেও তা সরাসরি ভারতের উপর দিয়ে গিয়ে পাকিস্তানে মিলিত হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। সিন্ধু নদী ভারতের তিনটি শাখা নদীর মাধ্যমে পাকিস্তানে জল সরবরাহ করে। উঁচু জায়গা হওয়ায় ভারত ও চীন এই নদীর উপর আরো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করবে।এক বিলিয়ন ডলারের আরেকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা নিচ্ছে ভারত। পাকিস্তান ভাতে না মরলেও পানিতে মরবে এটা এখন থেকেই নিশ্চিত।

ভারত ও পাকিস্তানের এই উত্তেজনার মধ্যে জলচুক্তি স্থগিত হওয়ায় ইতিমধ্যে পাকিস্তানের শেয়ারবাজার ১০০ সুচক থেকে ১০৮৬ সুচকে পৌঁছে গেছে। শুধুমাত্র ভারতের কিষাণভাঙা ড্যামের জল পাকিস্তানকে দেওয়া বন্ধ হলে পাকিস্তানের ক্ষতি হবে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার।চন্দ্রভাগা ডেমের জল দেওয়া বন্ধ হলে ক্ষতি হবে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। শুধুমাত্র দুটো ড্যামের পানি দেওয়া পাকিস্তানকে বন্ধ করলেই পাকিস্তানের ১৩ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হবে।শুধু এক পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় মদত দিয়েই পাকিস্তানের ক্ষতি হয়ে গেল ১৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও বর্তমানে পাকিস্তানের যে অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থা তাতে আসছে জুন মাসে এক ডলার সমান হবে পাকিস্তানের ২৬৫ রুপি। বর্তমানে যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তানেকে হয় পরমাণু বোমা বিক্রি করে খেতে হবে, নয়তো পরমাণু বোমা রান্না করে খেতে হবে।।

পৃথিবীর প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ হত্যার অভিশাপে অভিশপ্ত এক দেশ পাকিস্তান।।

সত্য সবসময় সুন্দর।
লেখা: লুসিড ড্রিম
বাংলাদেশ ফোর্স ১৯৭১
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৫ রাত ৯:৫৫
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোনটা ইসলামী শিক্ষা? আল্লাহ কি বলেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:২২



সূরাঃ ১৬ নাহল, ১২৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৫।ডাক তোমার রবের পথে, হিকমাত (কৌশল) ও উত্তম ওয়াজের মাধ্যমে। আর তাদের সাথে তর্ক কর উত্তম পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার রব খুব জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন নারী শিক্ষিকা কীভাবে কন্যা শিশুর সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করতে পারেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:২৩


বাংলাদেশে মাঝে মাঝে এমন সব মানুষ রূপী শয়তানের সন্ধান মেলে যাদের দেখে আসল শয়তানেরও নিজের উপর হতাশ হওয়ার কথা। এমন সব প্রজাতির মানুষ বাংলাদেশে বসবাস করেন যাদের মস্তিষ্ক খুলে দেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্তিবাসী সেই অগ্নিকন্যাকে নিয়ে লেখা একটি কাব্যগাথা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৮:৫৫


ঢাকার আকাশ তখন ধুলোমাখা সন্ধ্যার রঙে ছিল ডেকে
বস্তির সরু গলিতে শিশুদের কান্না
নর্দমার স্রোতের মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলে
সেই অন্ধকার জন্মঘরে প্রথম আলো দেখেছিল
এক বস্তিবাসী কন্যা শিরিন
এখনো এক অচেনা নাম
যার ভেতর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবুল আলীই আমাদের বাংলাদেশের প্রতীক

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:৩৭



আপনাদের কি এই ছবিটার কথা মনে আছে? এই বছরের শুরুতে চলতি বছরের জানুয়ারীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বেআইনিভাবে বাংলাদেশের জমিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মানুষ মানুষকে কীভাবে এত অপদস্ত করে এই ব্লগে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:৪৪

আমি তো কারও সাতেও নাই পাঁচেও নাই। এত সময়ও নাই মানুষকে ঘাঁটার। ব্লগের ব্লগারদের সম্পর্কেও তেমন কিছু জানি না। তবে পোস্ট পড়ে কিছুটা আন্দাজ করা যায় -কে কী রকম। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×