somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ফড়িংছানার কান্ডকারখানা...

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ওকে ফড়িং কি আর সাধেই বলি, সারাদিন নাচানাচি তো আছেই সেইসাথে রাতেও ঘুমের মধ্যে শুয়ে ঘুরতে ঘুরতে একবার খাট থেকে নীচে আবার নীচ থেকে খাটে। ওর বয়স তখন সবে তিন কি চার মাস হবে, উপুর হতেও শিখেনি...শুধু দুইপায়ে মেঝেতে ধাক্কা দিয়ে পিছন দিকে যেতে পারে। তেমনই এক দুপুরে পুচকি আর আমি শুধু বাড়িতে, ও শুয়ে শুয়ে খেলছে, আমি একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন...কিছুক্ষন পরে উঠে দেখি সে নেই!!! এই ঘর খুঁজি ঐ ঘর খুঁজি, কোথাও নেই...কোনো সারাশব্দও পাওয়া যাচ্ছে না..মনে মনে ভাবছি হাটাও তো শিখেনি যে বাইরে চলে যাবে!!! বড়ই চিন্তায় পরে গেলাম...এঘর-ওঘর করতে করতে বেডরুমের কোনায় নীচু একটা টেবিলের নীচে ছোট ছোট পা...নীচু হয়ে তাকিয়ে দেখি, তিনি দিব্যি টেবিলের নীচে হাত-পা নেড়ে খেলছেন...পা ধরে কাছে টেনে নিয়ে আসতেই আমার দিকে তাকিয়ে দিলো একটা মুচকি হাসি...তখন থেকেই শুরু তার, আমার সাথে লুকোচুরি খেলা...


ছয় মাসে যখন বসতে শিখলো, তখন হামাগুড়ি দিয়ে এদিক থেকে সেদিকে ঘুরাঘুরি করে...একদিন দোকান থেকে বেশ কিছু বড় বড় দেখে সবুজ, লাল কাচামরিচ কিনে এনেছি এবং সেটা ঝাকায় করে রান্নাঘরের মেঝেতে রেখে দিয়েছি। আমি রান্নার কাজে ব্যস্ত, ফড়িংটাও হামাগুড়ি দিয়ে খেলছে...খেলতে খেলতে কখন এসে যেনো হাতে করে একটা কাচামরিচ নিয়ে গেছে, আমি টেরও পাইনি...রান্না শেষ করে গিয়ে দেখি সে বসে বসে মরিচ চিবুচ্ছে...আমি নিজেও তখনও খেয়ে দেখিনি ঝাল কিনা, সে আমার আগেই টেস্ট করা শুরু করে দিয়েছে...বড় বাঁচা বেচে গিয়েছি, ভাগ্যিস মরিচগুলোতে তেমন ঝাল ছিলো না...

আর ল্যাপি দেখলে তো যেখানেই থাকুক ধুমধাম করে ছুটে এসে, পারলে ওর উপরেই চড়ে বসে...কিছুতেই ধরে রাখা যেতো না। সবসময় ও ঘুমোলে ল্যাপি বের করা হতো। এক ছুটির দুপুরে ও ঘুমিয়েছে, পাশে ওর বাবা ল্যাপিতে কাজ করছে...আমি দোকানে গিয়েছি কেনাকাটা করতে। কাজ করতে করতে ওর বাবা ল্যাপিটা পাশে রেখে ওর সাথেই ঘুমিয়ে পড়েছে...কিছুক্ষন পরে পুচকিটার ঘুম ভেঙ্গে উঠে দেখে যে তার এতদিনের অধরা জিনিস, একদম হাতের নাগালের ভিতরে...আর যাবে কোথায়...একেবারে ঝাপিয়ে পরে ছোট ছোট আঙ্গুল দিয়ে ল্যাপির "কি" দুই-চারটা তুলে মুখে পুরে দিয়েছে...আমি ফিরে এসে দেখি, ল্যাপির উপরে বসে একটা একটা করে কি তুলছে আর খাচ্ছে...আমাকে দেখেই সেকি দুস্টুমি মাখা হাসি:D সাথে সাথে মুখ থেকে ওগুলো বের করে ফেলে দিলাম..
এদিকে আমার হয়ে গেলো মহাসমস্যা, আমি টাইপিং দক্ষ না...এখনো দেখে টাইপ করতে হয়...অক্ষরগুলো না থাকাতে আমাকে বেশ ঝামেলাই পোহাতে হয়/:)

ছোট বাচ্চাদের খাবার তালিকায় কত কিছুই না আছে, স্যান্ডেল, জুতা থেকে শুরু করে আরো কত কি!!! তার সাথে আরেকটা যুক্ত হলো ল্যাপির "কি"। মার মুখে শুনেছি ছোট ভাইটা নাকি সাবান খেয়ে ফেলেছিলো, আর আমি ঠিক খাইনি তবে হাতে নিয়েছিলাম একটা কিছু কিন্তু সেটা বলা যাবে না :P


পেট ভরা থাকলে আর ঠিকঠাক মতো ঘুমালে, কান্নাকাটি খুব একটা করতো না...তারপরেও হয়তো আমি হাতের কাজে ব্যস্ত, ওকে কোলে নিতে পারছি না...তখন একটু কান্না করতো, সেই সময় ওর কান্না থামানোর মজার একটা জিনিস ছিলো...টুথব্রাশ, পেলে আর কিছুই লাগতো না। ওটা নিয়েই অনেকক্ষন ধরে দাত দিয়ে কুটকাট করতো...এই ফাঁকে আমি কাজ সেরে ফেলতাম। নতুন দুটো ব্রাশ কেনা ছিলো ওর জন্য...তখন সবেমাত্র চারটে দাত উঠেছে...দেখুন না কিভাবে বড়দের ব্রাশ দিয়ে দাত মাজছে....

যখন সবে মুখের আধো আধো বোল ফুটেছে....তার প্রথম ডাক ছিলো মা নয়"অ্যাম"। কোথা থেকে যে শিখেছিলো আমি নিজেও জানি না...হয়তো নিজে থেকেই ডাকটা উদ্ভাবন করেছে...বাবাকে ঠিকই "বাবা" বলেই ডাকে...আর সব কথাও ঠিকই আছে, শুধু আমাকেই ওভাবে ডাকে...দেশে যাবার পরে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছিলাম এই ডাক নিয়ে....সবার প্রশ্ন তোমার ছেলে তোমাকে আম, আম বলে ডাকে কেনো? যতই বলি এটা আমি ওকে শিখিয়ে দেই নি, ও নিজে থেকেই বলতে শুরু করেছে...তারপরেও সবার একই প্রশ্ন...আমার নিজেরও কথা, আমি মা থেকে আম হয়ে গেলাম কি করেB-)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৫
৩৯টি মন্তব্য ৩৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮
×