somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফোঁড়া ।

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এদেশে কিছু জ্ঞান বুর্জুগ আছেন যাদের সৌজন্যতার শেষ নেই । তাই মাঝে মাঝে সৌজন্যতার পয়গায় বিলিয়ে বেড়ান । এমন সৌজন্যতার পয়গাম বিতরনে অখুশি হওয়ার কিছু নেই । কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায় । এরা জানে একরকম, আমাদেরকে বুঝায় আর একরকম আর মুখ দিয়ে বলে অন্যরকম । এরা যুদ্ধের সময় ভারত গিয়ে মউজ মাস্তি সমাপন পূর্বক স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনা বগলদাবা করে মৌলবাদ আর জঙ্গি ব্যবসা দিয়ে বেশ ভালই খিস্তি খেউর চালিয়ে যাচ্ছেন । এদের আর জঙ্গিদের মাঝে কোন পার্থক্যে আছে বলে আমার মনে হয় না । বরং উগ্র মৌলবাদের চেয়ে এইরকম অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিবর্গ রাষ্ট্রের জন্য অধিকতর ক্ষতিকর । কেননা উগ্র মৌলবাদের সঙ্গে জ্ঞান বিজ্ঞানের কোন সর্ম্পক নেই । কিন্তু এমন অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিবর্গ জ্ঞান বিজ্ঞানের কড়িকানা মুখস্ত করে সর্বদাই নিজের সাথে দ্বিচারন করে চলছেন । এরা সত্যটা আর দশজন থেকে অধিকতর জানেন । কিন্তু মিথ্যাটা সকলের মাঝে পরিবেশন করে । উগ্র মৌলবাদের সহিংসতার বিপরীতে এদের মিথ্যার বেসাতি মানুষের নজর এড়িয়ে যায় । মানুষ মুখের ব্রন দেখে কিন্তু জামার আস্তিনের নিচে লুকানো ফোঁড়া দেখে না । ফলে স্যুাট টাই পরা নিপাট ভদ্রলোকের আল জিহ্বায় যে ক্ষতি এদেশের মানুষের, গনতন্ত্রের হয় তা সম্মুখ চোখ দিয়ে আমরা দেখি না । এমনকি অর্ন্তচোখ দিয়েও আমরা উপলব্ধি করি না ।
আমার জন্ম আশির দশকের শুরুতে । মোটামুটি জ্ঞান হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমি যা বুঝেছি, দেখেছি তা হলো এদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির চরম দৈন্যদশা । আর এই দৈনদশার কারনেই আমরা রাজনৈতিক হিংসা, প্রতিহিংসার শিকার হই । এর মাত্রাটা চরমে পৌঁছে ক্ষমতা বদলের সময় । এই যে সংকট এর পুরোটাই রাজনৈতিক । কিন্তু আমাদের বুর্জুগ ব্যক্তিবর্গ এই সংকটকে যখন দলীয় হীন স্বার্থে জঙ্গি, মৌলবাদের সঙ্গে মিলিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসায় নেমে পড়ে তখন রাষ্ট্রের আর একূল ওকূল কোন কূলই থাকে না । হ্যাঁ বিচ্ছিন্ন কিছু মৌলবাদের সঙ্গে যে আমাদের পরিচিতি নাই তা নয় । কিন্তু সেই সমস্যাটা না যতটা সমস্যা তারচেয়ে বড় সমস্যা হলো সেইসব সমস্যা নিয়ে ঐসব বুর্জুগদের রাজনৈতিক ব্যবসা হাসিলের উচ্চমার্গীয় চিন্তা-চেতনা । এইসকল উচ্চ্মার্গীয় চিন্তাচেতনার বদৌলতে উগ্র মৌলবাদ যেমন বহাল তবিয়তে টিকে আছে তেমনি রাজনৈতিক সংকট খাদের কিনারায় এসে ঠেকেছে । তাই একদিকে আমরা পেট্রোল বোমায় মরছি, অন্যদিকে পুলিশের গুলিতে ঝাঝরা করছি বুক । আশ্চর্য দেশ । আরো আশ্চর্য স্বাধীনতা ।
রাজনৈতিক যে ফোঁড়া আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি তা থেকে ততদিন আমাদের কোন মুক্তি মিলবে না যতদিন না আমরা সার্জারিতে যাই । সার্জারী করে এই ফোঁড়া না সারালে আমাদের মুক্তি নেই । আমরা যতই এন্টিবায়োটিক দেই না কেন সাময়িক উপশম হলেও আখেরে কোন ফল নেই । মাঝখান দিয়ে ফোঁড়ার কষ্টে আমরা মায়ের কিছু সন্তান হারাবো, কিছু সন্তান পঙ্গু করবো । (রাজনৈতিক সংকট’টা হলো ফোঁড়া । সহিংসতা হলো ফোঁড়ার বিষব্যাথা আর এন্টিবায়োটিক হলো পুলিশ প্রশাসন) । সুতরাং যারা বুঝেও না বুঝার ভান করে ফোঁড়াটা টিকিয়ে রাখে আর বিষব্যথা, এন্টিবায়োটিকে আমার মায়ের বুক খালি করে তাদের চেয়ে উগ্র মৌলবাদ, তাদের চেয়ে উগ্র জঙ্গীবাদ আর কেউ থাকতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি না ।
আমি লিখিত দিচ্ছি আপনি ফোঁড়াটা সারান । দেখবেন ঘামাচি গুলো আপনা-আপনি চলে গেছে । হ্যাঁ গ্রীষ্ম ঋতুতে কিছু ঘামাচি হতেই পারে । তারজন্য যথেষ্ঠ পাউঠারও বাজারে আছে । আর আপনি যদি চিন্তা করেন ফোঁড়া টিকিয়ে রেখে ঘামাচি দিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসা করবেন তবে একশতভাগ লিখিত দিচ্ছি ফোঁড়া যাবে না, ঘামাচিও সারবে । মাঝখান দিয়ে খালি হবে কিছু মায়ের বুক ।

………………নিঃশব্দ নাগরিক ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×