somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুড়িয়ে পাওয়া পাখিরা

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পথশিশুদের কে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। পথেই থাকে, পথেই সব… কাকের সাথে এদের বেশ বৈসাদৃশ্য … ছেড়া ময়লা কাগজ কুড়ানো, আবর্জনা থেকে খাবার খুঁজে বেড়ানো যাদের সারাদিনের কাজ। মাঝে মাঝে দু-একটা সাহায্যকারী সংস্থা আসে, মানবাধিকার কর্মী আসে,টাকা দিয়ে যায়, ভাগ্য একটু আধটু সহায় হলে শীতবস্ত্রও পাওয়া যায় মাঝে মাঝে।
আবার কখনও আসে স্বার্থান্বেষীরা । হরতালে গাড়ি ভাঙ্গার কাজে কিংবা গুলি চালিয়ে শরীরের রক্ত ঝরানোর কাজে পথশিশুদের চেয়ে নিরাপদ মাধ্যম আর কিছু হতে পারেনা। মৃত্যু যাদের জন্য দিন রাত্রির মতই স্বাভাবিক… কখনো পুলিশি ধাওয়ায়, কখনো গাড়ি চাপায়, কখনো ক্ষুধায়, আবার মাঝে মাঝে খুব স্বাভাবিক অসুখের অস্বাভাবিক মৃত্যু… এভাবেই বছরের পর বছর হাজার হাজার শিশু মরছে, জ্বলছে, ভুগছে…… তাদের হিসেব আমাদের অজানায় থাকুক…… কিচ্ছু আসে যায় না এক দুজন পথশিশু মরে গেলে… মরল নাহয় শত শত , তাতেও আমাদের কি আসে যায়?? মৃত্যু সংখ্যাটা বছর ঘুরে হাজারে আসলো… কার কি তা তে??
ঝড়ো হাওয়ায় উড়তে থাকা লেওয়ারিশ ছিন্নপত্রের মতো এরা আমাদের কাছে… নাম নেই, ঠিকানা নেই… চিনি কেবল ওই নামেই, “কমন জেন্ডার স্ট্রিট চিলড্রেন”


বাসায় ময়না পাখি পোষেন কেও?? অনেক শখ করে কিনে আনার পর দেখলেন ময়না ঘুমোতে দেয়না। সারাদিন কারণে অকারণে কর্কশ স্বরে চেঁচায়। তখন মেজাজ টা তুঙ্গে উঠে। এমন অবস্থায় অনেকে পাখির খাঁচা খুলে দেয়, আবার অনেকে পাখির সাথে প্রতিনিয়ত সখ্যতা গড়ার চেষ্টা করে। এভাবে কয়েকমাস চেষ্টার পর একদিন দেখা যায় পাখি সুন্দর নাম ধরে ডাকছে, আপনার ভাষায়। তখন পাখিকে আর নেহায়েত একটা পাখি ভেবে ছেড়ে দেয়া যায় না। সে তখন পরিবারের সদস্য।

পথশিশুদের কথা বলতে গিয়ে ময়নার কথা বললাম কেন বুদ্ধিমানরা হয়ত ঠিকই বুঝে নিয়েছেন। তাও একটু ঝেড়ে কাশছি।। দেশটাই পরিবার, পথশিশুরা আমাদের ময়না… আমরা কজন এমন কয়েকশত ময়না ধরে কথা শেখানোর কাজ হাতে নিয়েছি। আপ্রাণে চাইছি বনের পাখিরা কথা বলা শিখুক, লিখতে শিখুক, পড়তে শিখুক… তারাও হয়ে উঠুক আমাদের পরিবারের সদস্য। থাকুক তারা ছিন্নমূল, তবুও চাইছি ছিন্নমূলরা নিরক্ষর না থাকুক। তাদের হয়ত আমরা উচ্চ শিক্ষিত করতে পারব না। তাও চেষ্টা করছি, মনের ঘুটঘুটে আঁধারে পথশিশুটা যেন ভয়ে আঁতকে না উঠে… তার মনের ঘরে ইলেকট্রিক বাল্ব না জ্বলুক, অন্তত একটা মোমবাতি জ্বালাতে ক্ষতি কি?? এভাবে শত শত মোমবাতি জ্বালিয়ে একদিন আঁধার কাটানোর স্বপ্ন দেখছি। চাইছি দানের জিনিস হাতে নিয়ে শিশুটি হাসিমুখে ধন্যবাদ বলতে শিখুক, গাড়িতে ককটেল ফোটানোর আগে শিশুটি পড়ে জেনে নিক, প্যাকেটের গায়ে কি লিখা আছে, কাগজ কুড়ানোর কাজ ছেড়ে সে একটা অফিসে কেরানির কাজ নিক… তার আত্মার মানুষটা জেগে উঠুক, সে বুঝতে শিখুক সে সৃষ্টির সেরা জীব।

যারা কোন সংগঠনের হয়ে পথশিশুদের জন্য কাজ করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। যারা করছেন না, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, অর্থ, সময় কোনটাই দিতে না পারেন অন্তত পক্ষে এমন কাজ যারা করে তাদের উৎসাহিত করুন। আপনার একটা শুভকামনাও আমাদের সামনে যাওয়ার প্রেরণা যোগায়। আর যারা কাজ করতে আগ্রহী তারা এগিয়ে আসুন। কথা বলুন বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীদের সাথে। সাহায্য করুন অর্থ দিয়ে, সময় দিয়ে, শ্রম দিয়ে… তবে যুক্ত হওয়ার আগে জেনে নিন সংগঠনের কাজ এবং উদ্দেশ্য।

এবার বিদেশ বিভূঁইয়ে যারা আছেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, বিশেষ করে ইউরোপে। যারা পথশিশুদের নিয়ে অন্তর থেকে কাজ করতে চান তারা আমাকে সাহায্য করতে পারেন। শত শত স্বেচ্ছাসেবক আমার দরকার নেই, দুএকজন স্বচ্ছ মনের মানুষ দরকার যে স্বার্থহীন ভাবে সাহায্য করবে।
BIRD ( Bangladesh International Recovery Development) বাংলাদেশে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে দুটো স্কুল চালাচ্ছে বেশ কিছু বস্তিতে। একজন ইউনিসেফের কর্মী হয়ে অন্য সংগঠনের প্রতি আগ্রহ আমার জন্মানোর কথা না। তবুও তাদের সাথে একাত্ম হয়ে চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার, নতুন কিছু করার। আপনি এগিয়ে আসতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন ফেসবুকের মাধ্যমে। কথা বলুন সরাসরি কর্মীদের সাথে, জানান আপনার মতামত, সহযোগীতা কিংবা অনুপ্রেরণা।

নিরক্ষরতার মহামারী থেকে মুক্ত হোক শিশুরা…… বাঁচুক দেশের জন্য, শিক্ষিত জাতি হোক অবিচ্ছেদ্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৩:০০
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×