somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যখন সন্ধ্যা নামে ডেট্রয়েটের তীরে

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ শীত আরো একটু জাঁকিয়ে বসেছে। বাতাসের বেগ কম। ম্যাপল গাছেরা সবগুলো পাতা হারিয়ে শান্ত দাঁড়িয়ে আছে। ডেট্রয়েট নদীর সজুজাভ জল ছলাৎ ছলাৎ করে আছড়ে পড়ছে আমার পাদদেশে। ঐপাড়ে আমেরিকার ডেট্রয়েট। জেনারেল মটরস এর হেডঅফিস দেখা যায় বহুদূর থেকে। নদীতে একটা দু'টা জলযান এদিক থেকে ওদিকে চলছে ধীর লয়ে। এ্যম্বাসেডর ব্রীজের নীচে দাঁড়িয়ে নদীর কথা ভাবতে থাকি-- কতকাল থেকে বয়ে চলেছে কানাডা আর আমেরিকার মাঝখান দিয়ে!

ক'দিন আগেও সূর্য ডুবত সোজাসুজি, নদীর ঐপাড়ে। এখন আরো বেশ খানিকটা বাঁয়ে হেলে অনেকটা নদীর উপরেই ডুবে যায়। সূর্যটা এখন অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সাড়ে পাঁচটা হতে হতেই বিদায়ের আয়োজন তার। দিন এখন তাই অনেক ছোট। আমি বসে আছি শীতের সন্ধ্যায় সূর্য ডোবা দেখব বলে। হ্যাট পড়া হয়নি, কানে একটু একটু ঠান্ডা লাগা শুরু হয়েছে। গ্লাভসও নামাতে হবে শীঘ্রই। ঠান্ডায় মাঝে মাঝেই গা শিরশির করে উঠছে। হাতজোড়া জ্যাকেটের পকেটে ঢুকিয়ে আমি গা টানটান করি। অনেক দূরে একটা বড় জাহাজ, মনে হয় এদিকেই আসছে। ভেঁপু বেজে উঠল। সেই শব্দে নগরবাড়ি ফেরি ঘাটের কথা মনে পড়ে গেল। যমুনা সেতু তখনো হয়নি। ঢাকা থেকে বগুড়া যাওয়ার পথে অসংখ্যবার সেপথ মাড়িয়েছি। ঘাটের হোটেলে বসে ডাল আর নদীর মাছ দিয়ে ভাত কী অসাধারণই না লাগত!

সন্ধ্যা নামছে। নদীর উপর দিয়ে কানাডা-রাজ-হাঁসের দল খইয়ের-মালা হয়ে উড়ে গেল। আর কদিন পরেই এদের দেখা মিলবেনা, চলে যাবে দূরে কোথাও, শীত থেকে বাঁচতে। সারাটা আকাশ নীলচে-ধূসর রঙে ছেয়ে গেল। সূর্য ডুবছে। শীতের সূর্য। মলিন, অবসন্ন যেন লুকিয়ে পড়লেই বেঁচে যায়। আমেরিকানরা নদীর পাড় জুড়ে সব শিল্পকারখানা বসিয়েছে। যোগাযোগের সুবিধাই সম্ভবত মূল কারণ। কারখানার চিমনী থেকে সাদা ধোঁয়া কুন্ডলী পাকিয়ে উঠে সন্ধ্যার আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে। সহসাই সবগুলো বাতি জ্বলে উঠলো, কিংবা আগেই জ্বালানো ছিল এখন স্পষ্ট হয়ে উঠল। আমি পানির কাছাকাছি নেমে এসে সিমেন্টের সিঁড়িতে বসি। ওপাড়ের বাতিগুলি পানিতে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করেছে, আর সেগুলো মোমের নরম আলোর মত ঢেউয়ের তালে তালে কেঁপে কেঁপে উঠছে। তারপর আঁধার নেমে এল। সবকিছুকে কেন যেন পদ্মাপাড়ের কোন এক বন্দরে দিবাবসানের মত মনে হল। শেষ হল একটি দিনের। আর আমি ফিরে এলাম প্রতিদিনের ব্যস্ততায়।

উৎসর্গ: আনোয়ার সাদাত শিমুল
নভেম্বর ৭, ২০০৭
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×