somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এন ইসলাম রনি
পুরো নাম মুহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম রনি, জন্ম- যশোর, পৈত্রিক নিবাস- ঝিনাইদহ। পড়ালেখা করছি বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ। ঠিকানা- https://www.facebook.com/nasirul.rony

জমানো কথা

২৭ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১০:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।
হলুদ কমলা ডালিমটার খোঁসা ছাড়াতেই দেখি ভেতরে থরে থরে সাজানো রক্তাত্ব হীরে!
কি যেন বলে, রুবি?
-হ্যা তাই হবে, যদিও আমি ওটা দেখিনি কখনো তবে পাথর দেখেছি বিস্তর,
একসময় স্কুল থেকে ফেরার পথে স্তুপ করে রাখা পাথর থেকে পাথর জমাতাম
লাল, কালো, হলুদ, নীলাভ সাদা,
ছোট ছোট পাথর,
একবার বাবা খুঁজে পেয়ে রেগে ফেলে দিয়ে ছিলো সব
আমার বাবার চোখে কোন সৌন্দর্যবোধ ছিল না
এত বাহারী পাথর তাকে একটু ও আকর্ষণ করেনি
হয়তো তাই তিনি ছিলেন ভীষণ রকম সফল
পথের কোন পাথর ই তার বাধা হয়ে দাড়ায়নি
আমি তার ছেলে হয়েও পারিনি সামনের পাথর সরাতে
তারপর ও আমি পাথর জমিয়েছি
লুকিয়ে ড্রয়ারের কোণে, ছাদের ঘরে, কখনো বা মনে।


২।
কিছু কিছু সময় থাকে যখন নিজের কাছে নিজেকে বড় একা মনে হয়।
সব মানুষের ভেতর, সব প্রিয় মানুষের ভেতর একজনকেও খুঁজে পাওয়া যায় না,
একটা ফোন নাম্বার ও মনে পড়ে না যাকে বলা যায়, আমার আজ মন ভাল নেই!
এই সন্ধ্যার মুখে ভিজে যাচ্ছে একটা মন খারাপ করা বিকেল,
আর অচেনা একমন খারাপ নিয়ে আমি জানলা খুলে বসে আছি বৃষ্টির একটানা কোরাসে মৌন শ্রোতা!


৩।
আকাশ দেখলেই মনে হয় পাখি হই
আর পাখি দেখলেই মনে হয় মানুষ থেকে ওরা বেশি বিষণ্ণ,
আকাশ আসলে কারো আপন নয়
আছে অথচ নেই পুরো টা ই ছলনায় !

আমার আসলে কখনো পাখি হতে ইচ্ছা করেনি,
আমার ধারণা করো করে ও না।
এটা পুরো লোক দেখানো সখ।
মানুষ সকাল বিকাল মিথ্যা বলে, কারণে অকারণে মিথ্যা বলে।
এটা ও তেমন একটা মিথ্যা। আমাদের আকাশ দেখার সময় কোথায় ?



৪।
আমি আমার অতীত রাখবো না
স্মৃতি ফ্রেমে কষ্ট কে বাঁধিয়ে যে যার মত ফিরছে ফিরুক রাত দিনের অতীত আকাক্ষায়
দরজার ওপাশে অন্ধকার রেখে খুঁজছে নিঃশব্দে নিসর্গ— খুঁজুক ওরা
তুলেনিক বারোমাসী দুঃখের দীর্ঘ দুপুর।
অজস্র রাত্রির বিস্তৃত অবসন্নতা দেখেছি আমি,
দেখেছি কেমন মরুর সূর্যের প্রতাপ ফুরায় মেরুতে
শেষ শরত্‍ এ ক্লান্ত তারারা আকাশে হয়ে যায় ম্লান
শীত শেষে অবাধ্য এলোমেলো বাতাস কেমন শৃঙ্খলীত হয় চৈত্রে,
এ সব পরিবর্তনের মাঝে জীবনেও পরিবর্তন চাই, পরিবর্তন চাই বর্তমানের,
চাই সব ক্ষত'য় শুশ্রুসা
ভাঙ্গা চাই সব শিকল,
শোধ চাই সব ঋণ।
আমি এ জীবন ধুয়ে নিতে চাই প্রবাহমান স্রোতে
মুছে নিতে চাই জলে ও প্লাবনের র ক্ষত
হারায় যদি যাক চিরায়েত সুখ রোদে ও শিশিরে
চলে যাব ফেলে যাবতীয় হিসাব
বুকের চরে পড়ে থাক পালক
খর কুটো বিগত সুখের;
আমি আমার অতীত রাখবো না,
স্মৃতি মানেই বোঝা ভালবাসা কষ্টের অপর নাম
ভালবাসা এক ঈশ্বরের কাজ মানুষের না!


৫।
ভালবাসাকে ছুঁতে গেলাম শঙ্কিত হরিণীর মত পালিয়ে গেল সে,
তাকে ছুঁতে না পেরে নিজেকে পোড়ালাম একশ রোদ্দুরে
তারপর বৃষ্টি নামলো
আর আমি দেখলাম আশ্চর্য সবুজ হয়ে যাচ্ছে আমার সারা গা
তাতে ফুটছে জ্যোত্স্না ধোয়া সিগ্ধ ফুল
হাতের তালুতে গড়ে উঠছে পাখিদের ছিমছাম নিবাস
আর আমি নিজেকে ভালবাসতে শুরু করলাম !


৬।
সব ইচ্ছা ই একদিন অনিচ্ছার বেড়া জালে জড়াবে,
সেদিন ইচ্ছা রা চোখের সামনে উড়তে থাকবে ইউক্যালিপটাস এর পাতার মতন
বিরক্ত চোখে তাকাবো হাত বাড়াবো না,
তুমি এসে কড়া নেড়ে যাবে, দরজা খুলবো না,
প্রতিশোধ নেব, নির্লিপ্ত হতে শিখে যাবো ততদিনে,
সব ইচ্ছা ই একদিন কফিনে পুরে দিয়ে দেব একশ হাত মাটির তলে দাফন।


৭।
এইবার তুমি আর একবার আমাকে চেনো,
দেয়ালের ছায়া দেখে চিনেছো আর কতটা?
ভুলে যাও ওসব প্রচ্ছন্ন অবয়ব ছায়া হালকা দৃশ্য কথা,
প্রখর সূর্য মাথার উপর না এলে
মানুষ কে চেনা যায় কি কখনো?
তুমি তো ছায়াদের সাথে ঘোর ফেরো হাসো
চোখ বুজে বলে দাও তাদের মনের কথা
অথচ মানুষ আর তার ছায়া দু'টো আলাদা!


৮।
দিন পেরিয়ে এলো রাত্রি জমাট কালো
একলা ভীষণ একটুও নেই আলো,
বন্ধ করে দোর
অন্ধকারের বন
অন্ধবনের পাখি, তখন বলো কাকে বন্ধু বলে ডাকি?
একটি দু'টি পালক ও যে নেই আর বেঁচে
উড়তে চাওয়া ইচ্ছা গুলো বন্ধ হলো শেষে!
অবেশেষে দিন ফুরালো মিছে বুঝলাম ছুটেছি এতোটা দিন শুধুই অলিক ছায়ার পিছে।









সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১০:০২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০১



বাঙ্গালীদের খাদ্যাভাস বদলে গেছে।
অদ্ভুত সব খাবার মানুষ এখন খায়। আগ্রহ নিয়েই খায়। ইউটিউব দেখে মানুষের চিন্তা চেতনা এবং ব্যবহার বদলে গেছে। বাংলাদেশে খাবারের ব্যবসায় লস নাই। মানুষজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ জানে না.....অপ্‌সরাপু মেইড মাই ডে!!!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১২

গানঃ কেউ জানে না
গানের লিংক - https://on.soundcloud.com/t6S1rpHbzq62HoSW98



হয়নি বলা হয়নি বলা...
সবচে' আপন যে জন ছিলো
সবচে' দূরের মানুষ সেও।
হঠাৎ কোথা হারিয়ে গেলো!
একটা অজান সূর।
কোন সুদূরে কোন অপারে
কোন সে অচিনপুর!


==========
কবিতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ জন্মদিন আফীক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩


তোর সাত বছর
কোন দিক দিয়ে গেলো
মনেই পড়ছে না;
জানিস কি অদ্ভুত সময়?
সময়ের উষ্ণভাজে
বেঁচে থাকাটাই ১ বিস্ময়!
শুভ জন্মদিনের
শুভেচ্ছাটা আরও খুশি
যেনো রঙিন ক্ষণ;
শত কষ্টের মাঝে মানুষ
হওয়াটা আনন্দাশ্রু;
মানুষের মত মানুষ হও
শুভ জন্মদিন- শুভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের স্বাস্থ্য ভালো?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১




ব্লগ কেমন আছে? চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই ব্লগে নেই, তারেক বিদেশ ঘুরেও এখনো ফিরেনি। ব্লগের বরকত কমে গেছে, নাকি আগের মত। ব়রগ থেকে আইডিয়া প্রিন্ট করে সচিবালয়ের গেইটে টাঙানো যায় না কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×