somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অ-কবিতার স্তুপ থেকে-১০

২৯ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।
সময় কে টাঙিয়ে রাখছি দেয়ালে
খাটের পাশে এলইডি স্ক্রিনে কব্জিতে হাত ঘড়ি করে
অথচ সময় থামছে না এতোটুকু
সারাদিনরাতে এতো এতো সময় এর ভেতর নিজের কোন সময় নেই আমার
সময় কে চিনতে গেলেই সময় ফুরিয়ে যায়- সকল ঘড়িতে দেয়ালের ক্যালেন্ডারে।


২।
পাঁজরে ভালবাসা ছিল
অক্ষিকোটরে ছিল না শেয়ালের চোখ,
এখন পাঁজরে ক্ষত চোখে ঘৃণা আর ক্ষোভ
এখন শতচ্ছিন্ন মন অবিশ্বাস দুই হাতে
এখন নিজেকে নিজে বিশ্বাস করতে পুনঃজন্ম লাগে।


৩।
বাসনার বিষণ্ণ দুপুর পেরিয়ে যে সন্ধ্যা
সেখানে কালো কালো ক্ষোভেরা হিংস্র হয় রাতের আঁধারে,
যে রাত নক্ষত্রের, যে রাত চাঁদ ও জ্যোত্স্না র, যে রাত প্রেমের গল্প বলার
সেখানে ক্ষোভে অন্ধ অক্ষম মানুষেরা ঘুমতে যায় নির্ঘুম ঘরে।


৪।
আর কিছুতেই তোমার মুখ মনে করা যাচ্ছে না
এখন ফোনে কথা আসে অচেনা মানুষের..
আঙুল থেকে মুছে যাচ্ছে আঙুল,
ঠোঁট থেকে ঠোঁট, চিঠি থেকে অক্ষর ও ঠিকানা।
তুমি কেউ না। কেউ ছিলো না কখনো। আমি এক ভুল স্বপ্নে ছিলাম।


৫।
সবাই কিন্তু স্বরব হবার ছলে উপস্থিতি জানায়
নদীও তার জলের ভাষা জানে
বোবা গাছ ও শব্দ তোলে পাতায়
ঘড়ির কাঁটা প্রতীক্ষা রাখে রাতের
মানুষের কিছু কথা- চোখের মাঝেও থাকে।


৬।
চারপাশে প্রেমে পড়া মানুষ অফিস ফেরত মানুষ ঘামে ভেজা মানুষ
চারপাশে প্রেমিকের চোখ লোভাতুল চোখ হিংস্রচোখ
চারপাশে ধারালো দাঁত বিষাক্ত দাঁত ক্ষুধার্ত দাঁত
চুমুতে চুমুকে ছিঁড়ে চিবিয়ে নিতে জানে সব, শুধু এক মুখোশ অনড়।


৭।
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের আকাশে রং কিছু বেশি
বিদায়ী সন্ধ্যাও নিজ মনে রেখে যায় কিছু বিষাদের রং
হারানো মানুষ রেখে যায় শুধুই অন্ধকার- যেখানে আলোর সব রং নিজেতে নিঃস্ব হয়েছে ।


৮।
মুগ্ধতা এক দুরারোগ্য ব্যাধি তবে সংক্রামক নয়।
মুগ্ধতার ক্রোনিক স্টেজে ঘৃণার জন্ম।
মুগ্ধতার ছানি যত দ্রুত কাটিয়ে ফেলা যায় তত ই মঙ্গল,
নয়তো অন্ধ ক্ষোভ জমে উঠে চক্ষুকোটরে অলিন্দ নিলয় অবতল রক্ত কণিকায়।


৯।
কতগুলো ফোন নাম্বার রোজ নেড়ে চেড়ে রেখে দিই ফোনবুকে।
কল লগের দেখা পায় না তারা কখনো।
আর ভুলে যেতে যেতে রোজ তারা গেঁথে যায় অমোচনীয় কালিতে, হয় স্মৃতিতে অমর।


১০।
আমি এক কালো কাক উড়া উড়ি করি রোদ বৃষ্টি ভীষণ কুয়াশা ভোরে,
জানালা ধারে, পাঁচিল, টেলিফোন তারে,
কেউ বলে না একবারো তোর দু চোখ এতো লাল কেন?


১১।
কি অদ্ভূত বালিশে একটা ঠোঁট নেই যাতে চুমু দিতে পারি!
একটা অবয়ব নেই কোলবালিশে
জড়িয়ে ঘুমতে যাবার!
আমি একটা মুখ ও মনে করতে পারছি না!
কি অদ্ভূত আমি কি একটা মানুষ!!


১২।
তীব্র সু-তীব্র বিষাদ
গভীর অবষাদ এর ক্ষত
সিগ্ধ চাঁদ ঢাকে না সে সব,
রাত আসে কালো কাপড় জড়ানো ঘাতকের মত
জানে না সে সব, পুরো টা জীবন বৃত্তান্ত,
মৃত্যু খুব সহজলভ্য নয় এখনো।


১৩।
যত সহজে শিকড় গজায় ডালপালা ছড়িয়ে সে বসে
ততসহজে ফুলের দেখা পাওয়া যায় না কখনো,
কখনো কখনো ফুল ফোঁটাতে ই লেগে যায় একটা সম্পূর্ণ জীবন।


১৪।
নিরিবিলি নির্জন বিল পড়ে আছে
বুকে টলটলে পানি
মৌন মন্থর নদী ব্যস্ত সাঁকো বুকে
সে সবে নেই আজ চলাচল
চুরি গেছে আমাদের বিকেল
মুছে গেছে শান্ত হাটা পথ
এখন শুধুই পড়ে থাকা ক্লান্ত নাগরিক পথ ধরে
নিভৃত গমন মৌন নির্জন রাতের কাছে।


১৫।
এই সূর্যাস্ত সূর্যদয় প্রতি দিন কিছু জীবন নিয়ে যাওয়া
কিছু জীবন দিয়ে যাওয়া খেলা
একবার সূর্যদয় দেখে এখন ফেরার অপেক্ষায় থাকা।


১৬।
ভুলে যাও ছিল, মেঘ বৃষ্টি রৌদ্দুর ছিল,
ছিল চাঁদ, নক্ষত্র আকাশ, পূর্বের জানালা ভরা জ্যোত্স্না,
ভুলে যাও,
এসব চিরকাল কুহকময়।
ভুলে যাও মানুষ, মানুষের মুখ,
স্পর্শ, চুম্বন, হাত ধরা মানবিক হাত,
মানুষে নেই কোন মানবিক সমাজ।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ৮:৫৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×