
কর্মহীন জাতী সবচেয়ে অনুন্নত,অবহেলিত ও নিষ্পেষিত। যে জাতী যতো কর্মঠ সে জাতী ততো উন্নত। সঠিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হতে পারে অন্যতম সুশিক্ষা। অতী দুঃখের সাথে বলতে হয় যে বাংলাদেশে ৩৮ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্বেও কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই সরাসরি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেনা। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শিক্ষা গ্রহনের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয় গুলো শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান সম্পর্কে সম্মক জ্ঞান দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কি শিক্ষার্থীদের সরাসরি কর্মসংস্থানের কি কোনো ব্যবস্থা করে থাকে? না আমাদের দেশে এমন নজির নেই।
সাধারনত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার মানে শুধু জ্ঞানার্জন করা নয়,বরং জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি কর্ম করার যোগ্যতা ও অর্জন করা। অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী অর্জন করে এই কথা বলে থাকেন যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এতো বড় ডিগ্রী নেওয়ার পরেও আবার কেনো আমাদের চাকরির জন্য পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। আসলে কথাটি একদিক দিয়ে যুক্তিযুক্ত। কারন যে শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলতার সহিত সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে,তাহলে তার কেনো আবারও চাকরির জন্য আলাদা পরীক্ষা দিতে হবে? বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে সে চিরকাল অসংখ্য পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে এসেছে তার মূল্যায়নটা কোথায়? সারাজীবনের শিক্ষা ও পরীক্ষার চেয়ে একদিনের একটা চাকরির পরীক্ষার মূল্য কিভাবে বেশি হয়? তবে অসংখ্য প্রতিযোগী থাকার কারনে এই যুক্তিটা অযৌক্তিকই মনে হবে। তাহলে প্রশ্ন হলো যে ব্যক্তি চাকরি পাবেনা,তাকে কেনো পাশ করিয়ে আজ শিক্ষিত বেকারে পরিনত করা হলো? অথবা সে যদি চাকরির ক্ষেত্রে অদক্ষ হয় তাহলে সে পাশ করলো কিভাবে?
শিক্ষিত হওয়ার মানে এই নয় যে শুধুমাত্র সনদপত্র অর্জন করা। বরং শিক্ষিত হওয়ার মানে হচ্ছে প্রকৃত জ্ঞানার্জন করে সেটি কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার করা। আমাদের দেশে যদি এমন বিশ্ববিদ্যালয় থাকতো যেখান থেকে শিক্ষা অর্জন করার পাশাপাশি সরাসরি মাঠকর্মের মাধ্যমে একজন সত্যিকার শিক্ষিত কর্মঠ মানুষে রুপান্তরিত হওয়া যেতো,এবং বিশ্ববিদ্যালয়ই সরাসরি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা যদি করে দিতো। অর্থাৎ পাশ করা মানেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়া। যদিও বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কারিগরি শিক্ষার সকল নিয়ম-কাণুন বাস্তবায়ন হয়নি। তাই বেকারত্ব দূর করার জন্য ও শিক্ষিত কর্মঠ জাতী তৈরী করার জন্য বাংলাদেশে "কর্মসংস্থান বিশ্ববিদ্যালয়" প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। আশা করি সরকার এহেন ব্যবস্থা গ্রহন করে শিক্ষিত কর্মঠ জাতী তৈরী করার লক্ষে "কর্মসংস্থান বিশ্ববিদ্যালয়" প্রতিষ্ঠা করবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




