somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবার হাতে পাওয়া প্রথম লেখক সম্মানী

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনে প্রথম লেখকসম্মানী পেয়েছিলাম বাবার হাতে
নকীব মাহমুদ
:::::::::::::::::::

বাবাকে নিয়ে আয়োজন করে কোনোদিন লেখা হয়নি আমার৷ অথচ মাকে নিয়ে কতো কতো লিখেছি! ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ সবকিছুতেই মায়ের ছবি এঁকেছি৷ এমনটা কেনো হলো? কেনো বাবার কথা কোনোদিন লিখিনি আমি? তাহলে কী আমি আমার বাবাকে ভালোবাসি না? যদি ভালোই বাসি তবে কেনো লিখলাম না বাবাকে নিয়ে একটা লেখাও?

সত্যিই কি বাবাকে নিয়ে লিখিনি কিছু?

সত্যি কথা হলো— আমি আমার বাবাকে অনেকবেশী ভালোবাসি৷ তবে এই ভালোবাসার কথাটা যেমন বাবাকে কোনোদিন বলতে পারিনি মুখফুটে তেমনী 'বাবা’ 'বাবা’ বলে লিখতে পারিনি কোনোদিন৷ আড়ালে আবডালে লিখেছি বাবাকে নিয়ে৷ অবাককরা খুশির ব্যাপার হলো, পত্রিকার পাতায় ছাপা অক্ষরে আমার লেখা দ্বিতীয় গল্পটাই বাবাকে নিয়ে৷ পাঠকের অগোচরে নিয়ে এসেছি আমি আমার বাবাকে৷ বাবার জীবনের বড়ো একটা চিত্র তুলে এনেছিলাম আমি৷ গল্পটা দুই হাজার ন'য়ে ছাপা হয়েছিলো রঙীন সাকোতে৷ কপাল নামে৷ এরপর আরো পরিমার্জিত রূপে বছর দুয়েক আগে লিখনীর ঈদ সংখ্যায় এসেছিলো৷ এই রোদ এই মেঘ নামে৷

এছাড়াও অ-নে-ক দিন আগে বাবার জীবনের ওপর ভিত্তি করে একটা উপন্যাসও লেখা শুরু করেছিলাম! বেশ কিছুদূর লিখেছিলাম৷ তারপর কিভাবে যেনো পুরো পান্ডলিপিটা হারিয়ে গেলো :(

আমি আমার বাবাকে বাঘের মতো ভয় করি৷ আমাদের পুরো পরিবারই বাবাকে বাঘের মতো ভয় করে৷ বাবাকে আমি কোনোদিন বলিনি, আব্বা, আমি লেখালেখি করি৷ ভয় করতো— বাবা একথা শুনে না জানি হুংকার দিয়ে ওঠে! কিন্তু কী আশ্চর্যের কথা! একদিন কিভাবে যেনো মামাতো বোনদের কাছ থেকে জেনে ফেলেছেন লেখালেখির কথাটা৷ তাও আবার পত্রিকায় লিখি! কী দুঃসাহসের কথা— আমি পত্রিকায় লিখি!
একদিন আমাদের নিজেদের দোকানে বসাছিলাম আমি আর বাবা৷ দোকানের অন্য কর্মচারীরা বাসায় চলে এসেছে৷ দোকানে একা আমি আর বাবা৷ হঠাৎ বাবা বলে উঠলেন— শোনলাম, তুমি নাকি লেখালেখি করো? পত্রিকায় নাকি তোমার নাম আসে?
আমি ভয়ে আঁটোসাটো হয়ে আছি৷ জবাব দিচ্ছি না কোনো৷ বাবাই বলে ওঠেন— লেখো, মনোযোগ দিয়া লেখো! শুধু তাই নয়, সেদিন বাবা আমার হাতে দশ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, যাও, মার্কেটের সামনের থেইকা এক গেলাস দুধ কিন্না খাইয়ো!
আমি আজও ভুলতে পারি না, দশ বছর আগে সেই যে আমার লেখালেখির কথা শুনে দশ টাকার একটা চকচকে নোট আমার হাতের মধ্যে গুজে দিয়েছিলেন বাবা!

আমার দেখা পৃথিবীর শ্রেষ্ট পুরুশদের মধ্যে একজন হলেন আমার বাবা৷ প্রতিদিন বাবাকে দেখে দেখে আমি পুরুশ হতে শিখি৷
এখন আর বাবাকে বাঘ মনে হয় না৷ এখন যখন তখন বাবার সাথে কথা বলি নির্ভয়ে৷ কি রাজনীতি কি অর্থনীতি, বাবার সাথে সবকিছুতেই তুমুল মাতি! বাবার সাথে এখন প্রচন্ড নির্ভয়ে মিটিং করি৷ ঘরের সদস্যদের ভবিষ্যত নিয়া ভাবনা ভাবি৷
বাবাকে এখন আর আব্বা আব্বা মনে হয় না৷ বাবাকে এখন বাবার মতোই মনে হয়৷

বাবা এখন জীবনের শেষ সময়গুলো পার করছেন৷ কেনো জানি মনে হয় বাবাকে আর বেশিদিন কাছে পাবো না৷
বাবা কোনোদিন ইশকুলে পড়েন নাই৷ অক্ষর শেখেন নাই৷ অথচ কী দারুনভাবেই না বাবা কথা বলেন! বড়ো বড়ো মানুশের সাথে মেশেন! কী চেয়ারম্যান কী এমপি সবার সাথেই প্রতাপ নিয়ে চলেন বাবা!

বাবাকে কখনো কখনো দার্শনিক দার্শনিক মনে হয় আমার কাছে৷ আমি গত বছর থেকে নতুন একটা কাজ শুরু করেছি৷ আমাকে দেয়া বাবার গুরুত্বপূর্ণ উপদেশগুলো ডাইরি করে রাখছি৷ ডাইরি থেকে দুয়েকটা কথা এখানে লিখে দিতে ইচ্ছে করছে খুব৷ তবে তুলেই দিলাম৷

১, অন্যকে ঘায়েল করার জন্যে তুমি এমন শক্তি কিনে এনো না যেটা শেষে তোমার উপরই চড়াও হবে!

২, কাজে নামলে তোমাকে ভাবতে হবে তুমি শ্রমিক৷ তুমি কি পড়েছো, কতোটুকু পড়েছো সেটা ভাবলে কিছুই করতে পারবে না৷

৩, শোনো, যখন ব্যবসা করবা তখন মন দিল দিয়া ব্যবসা করবে৷ দোকান রেখে কোনোদিক যাবে না৷ মনে রাখবা, মৃত্যু আর কাষ্টমার কখন আসবো আল্লা ছাড়া কেউ কইতে পারে না৷

৪, ইয়ং বয়সটা হইলো কাজের বয়স৷ এই বয়সে যতো বেশি পারবা কাজ করবা৷ বুড়া হইলে মনে কাজ করতে মন চাইবো না৷ মনে চাইলেও শরীরে সায় দিবো না৷

আজ এই এখন আমার দার্শনিক বাবাকে মন থেকে বলছি, আব্বা, আপনেরে আমি ভালোবাসি৷
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:০৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×