somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নান্দনিক নন্দিনী
যে কোনো ভূমিকায় সমানে লড়ে যাই, আপনি যেমন চান আমি ঠিক তাই।

ছেলেরা কী নিজেদের নিয়ে ভাবে?

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকালকার অধিকাংশ ছেলেদের পছন্দের তালিকায় থাকে বাইক, ক্রেডিট কার্ড, 'হট'গার্লফ্রেন্ড, রেডিমেড জব আর নিজে। এর বাইরে আর কিছু নিয়ে কী তারা ভাবে? দু;খিত অত ভাবাভাবির সময় কোথায় তাদের!

আপনি নিজেকে আমার লেখায় যাদের কথা বলছি, তাদের সাথে মিলিয়ে ফেলবেন না, প্লিজ। আমি তাদের কথা-ই বলছি যাদের কে আমি আমার ক্ষুদ্র জীবনে দেখার এবং জানার সুযোগ পেয়েছি।

যে ছেলের বাবা তার জন্য সব ধরনের সুখ সুবিধার ব্যাবস্থা করে রেখেছেন, তারা রীতিমতো বিরক্ত থাকে “কেন তার জন্য সব আছে”। জীবন তাকে সংগ্রাম করার সুযোগ দিলো না বলে সে ভীষণ লজ্জ্বিত। আর যাদের পর্যাপ্ত নেই সে ক্ষুব্ধ। নিজের উপর, সরল-সহজ বাবার উপর, প্রকৃতির অসম আচরণের উপরে। সবারই তো সব কিছু আছে কেবল তারই পর্যাপ্ত নেই।

এ যুগের ভাল প্রেমিকারা অত্যন্ত নির্ভরশীল। তারা একা রাস্তা পার হতে পারে না। একা কোনো কাজ এ যেতে পারেনা। এমনকি বাড়ির চেনা রাস্তাতে ফিরতেও তাদের বয়ফ্রেন্ডের সাহায্য লাগে। কেন? কারন আত্মনির্ভরশীল মেয়ে বান্ধবী হতে পারে প্রেমিকা হলেই ছেলেদের আঁতে ঘা লাগে। সেই মেয়েকে নিয়ে সংসার পর্যন্ত ভাবা যায় না।কারণ তাকে তো নিয়ন্ত্রনে রাখা যাবে না।

“পুরুষ ভালোবাসে নারীর দুরন্ত কৈশর আর ঘর করতে চায় নিপাট রমনীর সাথে”। বিয়ে করতে গিয়ে প্রথমেই ভাবে এই মেয়ে তাকে কতটা ছাড় দিবে।

মেয়েদের অঙ্গ-প্রতঙ্গ নিয়ে ছেলেদের যে আকুলতা তা যদি নিজেদের ফিটনেস নিয়ে থাকতো!!

ছেলেরা সবথেকে বেশি ভালোবাসে নিজের দায়িত্বকে। সারাক্ষন এটা প্রমান করতে ব্যস্ত থাকে সে কতটা দায়িত্ববান! নিজের পরিবার কে ভালোবাসার চেয়েও ভালো রাখার প্রতি অনেক বেশি মনোযোগী তারা। ছেলেরা চাকরি পেলেই বাবা মা বোধ করতে শুরু করেন ছেলেটার থাকা খাওয়া ঠিক মতো হচ্ছে না। জৈবিক চাহিদা পূরন হচ্ছে না। সামাজিক প্রেস্ক্রিপশন “বিয়ে দাও”। দুর্ধষ সুন্দরী পাত্রী সাথে শুভদিন দেখে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। সবকিছুর ভীড়ে এটা জানা হয়না মেয়েটা সাহিত্য বোঝে কিনা, কেবল জেনে নেয়া হয় মেয়েটা খাবার রান্নার কি কি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। আমি এমনটা দেখিনি বা শুনি-নি, পাত্রী দেখতে গিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, মেয়েটা ক্লাব ফুটবলের কোন দল পছন্দ করে।

“গতি-ই জীবন স্থিতি তার মৃত্যু”- কথাটা সম্ভবতা ছেলেদের জন্য। তাই বাইক এর দূরন্ত গতি আপনাদের যতটা টানে অন্য কোনোকিছুই ঠিক ততোটা টানে না।

শুনেছি অনেক ছেলেই নাকি নিজেদের মানিব্যাগের গোপন কুঠরী তে ‘কমডোম’ রাখেন। যখন-তখন কনডোমের কী প্রয়োজন। সুরক্ষা নাকি আত্ম নিয়ন্ত্রণের অভাব? কেউ কেউ কিন্তু ক্ষয়ে যাওয়া কিংবা বিবর্ন হয়ে আসা স্মৃতিকে তুলে রাখেন মানি ব্যাগে। কোনোদিন হয়ত, প্রেমিকার কপালের টিপটা পড়ে গিয়েছিল এবং সেটা তুলে রেখে দিয়েছেন মানিব্যাগের ছোট্ট পকেট টা তে। রেখে দিয়ে ভুলে গেছেন এমনটা হতে পারে। খুলে দেখতে পারেন।

বুকের গভীরে রাখা ক্যালকুলেটরে হিসেব কষে যার সাথের সম্পর্ককে অস্বীকার করেছেন। সম্পর্কের জল ঘোলা করেছেন, পাতন প্রনালীতে সেই মানুষটাই যেন কিভাবে আপনার জীবনের গভীরে রয়ে গেছে। একের পর এক সম্পর্কে জড়িয়ে কেবল অস্থিরতাকেই বাড়িয়ে চলেছেন কিংবা সম্পর্কের সংখ্যা। বিশ্বাস করুন, স্পর্শ গুলো একই রকম, কেবল সম্পর্কের সঙ্গ গুলোর অনুভূতি আলাদা আলাদা।

একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন, ছেলেরা আজকাল স্যান্ডোগেঞ্জি পরে কালে ভদ্রে। কেন? পোশাকের সুরক্ষা বা স্থায়িত্ব নিয়ে তেমন আর ভাবছেন না তারা। কিংবা পোশাকের সহজলভ্যতাও হতে পারে একটা বিশেষ কারন। অন্য কারণগুলো নিজেই ভেবে বের করুন……………………। তবে এই পরিবর্তনটাও কিন্তু মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে ভেবে দেখা প্রয়োজন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০২১ ভোর ৫:১০
৩০টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাঞ্জাবিস্তান

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪০

পাকিস্তা/নের পাঞ্জাবিরা হলো পাকি/স্তানের বাকি সব জাতিসত্তার মানুষদের জন্য অভিশাপ। এদের জাত্যভিমানের কারনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগন স্বাধীনতার ডাক দিতে বাধ্য হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রদেশগুলো যেরকম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×