একান্নবই এর ঘুর্ণিঝড়ের সময় সেটা। তখন নাকি আমার বাবা চট্টগ্রামের বাশখালি উপজেলার এসিল্যান্ড ছিলেন। আমার ভাইয়ারা তখন খুব ছোট ছিল। আর আমারতো তখন কোন অস্তিতই ছিলনা। আমি মায়ের মুখ থেকে শুনেছিলাম সেই কাহিনী। বড়ই মজার কাহিনী সেটা। ঘুর্ণিঝড়ের পরে নাকি বাজার থেকে মাছ কিনে খাওয়াই যেতনা। আর তাই আমার বাবা ঈদের আগে বাজার থেকে কয়েকটি মুরগি কিনে এনেছিলেন। আমার মা না কে যেন বলেছিলেন যে কালো মুরগিটার পেটে ডিম আছে। সেই কথাটি আমার ভাইয়ারা খুবই ভালভাবে লক্ষ্য করেছিল। আর মুরগি কখন ডিম পাড়বে সেই অপেক্ষায় তারা বসে রইল। মুরগিগুলো বাসার বাহিরের খোয়াড়ে রাখা ছিল। তাই তারা সারাদিনই খোয়াড়ের আশপাশটায় ঘুরঘুর করছিল আর দেখছিল মুরগিটা ডিম পারছে কি না। তাদের এই অপেক্ষা আর মানছেই না। আর আমার মেজো ভাইটানা এত দুষ্টু আর এত চঞ্চল ছিল, সে কি করল জানো? সে ঐ খোয়াড় থেকে মুরগিটাকে ধরে টেনে নিয়ে আসল বাহিরে। বুঝাগেল তার অপেক্ষা করার মত আর ধৈর্য নেই। সে মুরগিটাকে ধরে এমন জাতাই না দিল, হায়রে কি জাতাজাতি! আর সেদিকে মুরগিটার প্রাণ বুঝি চলেই গেল। না পারতে মুরগিটা তার পেটের ঐ ডিমটাকে বের করেই দিল। আর মেজো ভাইয়াতো বেজায় খুশি, মুরগিটাকে ডিম পারিয়েছে সে। হায়রে কি কান্ড, আমার মা এসব দেখে তারাতারি মুরগিটাকে জবাই করালেন। তানাহলে মুরগিটা নাকি যায় যায় অবস্থা। ভাইয়া কতটা দুষ্টু ছিল সেটাতো তোমরা বুঝতেই পারছ। এই ছিল আমার ভাইয়ার মুরগিকে ডিম পারানোর কাহিনী। কেমন লেগেছে তোমাদের এই কাহিনী?
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




