somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

BUTex; 5th University Day (বুটেক্সের ৫ম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস)

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হ্যাপি বার্থডে টু বুটেক্স, মাই সেকেন্ড হোম
Md. Noor Hossain
আজ ২২শে ডিসেম্ভর, বুটেক্সের ৫ম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, ২০১০ সালের এই দিনে বাংলাদেশের সকল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের লালিত স্বপ্ন প্রাক্তন “কলেজ অভ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি’’ কে, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ ২০১০ এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষনা করা হয়।


যার সুচনা হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপোনিবেশিক আমলে ১৯২১ সালে ঢাকার নারিন্দাতে একটি উইভিং স্কুল ‘ইস্ট বেঙ্গল টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট’ প্রতিষ্টার মাধ্যমে যেটা ছিল কারিগরি লেভেলের শিক্ষাপ্রতিষ্টান। পরবর্তিতে পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা লাভের পর ১৯৫০ সালে এটিকে ডিল্পোমা লেভেলে উন্নিত করে নামকরণ করা হয়, ‘ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট’। পরবর্তিতে প্রতিষ্ঠানটিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তর করা হয় ১৯৬০ সালে, যেখানে বুটেক্সের বর্তমান ক্যম্পাস অবস্থিত, ১৯৭৮ সাল থেকে এখানে চার বছর মেয়াদী বি,এস,সি কোর্স চালু করা হয় এবং নামকরণ করা হয় , ‘কলেজ অভ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নিত করা হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়(বুটেক্সের)’ – এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।


টেক্সটাইল প্রোকৌশলীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং প্রকৌশলগত মেধার বিনিময়ে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প আজকে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে এসেছে, সেসব টেক্সটাইল প্রোকৌশলীদের গড়ার কারীগর এই বুটেক্স ক্যাম্পাস।
একমাত্র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররাই বিশ্বের দরবারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্রান্ড সৃষ্টি করতে পেরেছে, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮১.৫ শতাংশই আশে টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস সেক্টর থেকে, বিগত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এটি ২৪.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে যা বাংলাদেশের মোট জিডিপির প্রায় ১৮ শতাংশ।


যদিও করপোরেট লেভেলে পারফরমেন্স এবং একাডেমিক সর্বোপরি স্টুডেন্টদের স্টান্ডার্ডের দিক থেকে বুয়েটের পরেই বুটেক্সের অবস্থান, এবং দেশের অর্থনিতিতে অবদানের দিক থেকে বুটেক্সের অবস্থানই সবার শীর্ষে।
তবুও সাধারন জনগনের কাছে এটা এখনো এতটা পরিচিত ব্রান্ড হয়ে উঠেনি, তবে এটাও ঠিক পথ পথিকের সৃষ্টি করে না, পথিকই পথের সৃষ্টি করে, কোন প্রতিষ্ঠানকে ব্রান্ড হয়ে উঠার পিছনে থাকে সেই প্রতিষ্ঠানের অনেক স্টুডেণ্টের নিরলস প্রচেস্টা এবং অক্লান্ত প্ররিশ্রম।
করপোরেট লেভেলে পরিচিত করতে হলে নিজেদের কিছু ডিসনিংটিভ কম্পিটেন্সি থাকতে হবে। জব সেক্টরে নিজেদের এক্সিলেন্সি শো করতে পারলে অটোমেটিক ক্যাম্পাসটির ব্রান্ড ভ্যালু বাড়বে, অন্যটা হল মাস পাবলিসিটি, সেটার জন্য দরকার মিডিয়া ক্যাভারেজ, যদিও আমাদের স্টুডেন্ট কম হওয়ায় এবং ওদের বিজনেস পলিসির কারনে আমরা খুব কমই মিডিয়া ক্যাভারেজ পেয়েছি।
তবুও বিগত বুটেক্সের বছরগুলোতে বুটেক্সের বান্ড ভ্যালু উওরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছরই প্রথম উদ্ভাস বুটেক্সের ব্রান্ড ভ্যালুকে ক্যাপিটালাইজ করে বুটেক্সে এডমিশন টেস্টে প্রথম হওয়া স্টুডেন্টকে নিয়ে প্রথম আলোতে অ্যাড দিয়েছে, যেটা বুটেক্সের ব্রান্ড ভ্যালুকে আরো ত্বরান্বিত করেছে।


বুটেক্স আমাদের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের প্রানের স্পন্দন, জীবনের মিলনমেলা, বুটেক্সের সাথে আমাদের হয়ত আত্মার এক ঐকান্তিক সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে, সেজন্যই এতগুলো বছর পরেও এর জন্য এক অদৃশ্য মায়ার আচ্ছন্নতা কাজ করে, পরিশেষে বুটেক্সের উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করছি, হয়ত একদিন আমরাও বিশ্ব টেক্সটাইল অর্থনিতিকে নিয়ন্ত্রন করব এবং বুটেক্সের ব্রান্ড ভ্যালুকে আন্তজার্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাব।
সেদিন হয়ত খুব বেশি দূরে নয় যেদিন ম্যাল্টিন্যাশনাল টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিগুলো তাদের দেশের জন্য বুটেক্সিয়ানদেরকেই হায়ার করবে, আজ যেমন আমাদের বাংলাদেশের শীল্পমালিকরা অন্ধবিশ্বাসে ইন্ডিয়া, পাকিস্তান,শ্রীলংকা, ফিলিপাইন থেকে এক্সপার্ট হায়ার করছেন।।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৮:২৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×