somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ইভ টিজিং

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইভটিজিং এর আভিধানিক অর্থ উত্যক্ত করা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে এটি একটি সামাজিক ব্যধি। যা এখন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে প্রায়ই আমাদের দেশের মেয়েরো হচ্ছে অসম্মানিত বা অপমানিত। অনেক মেয়েরা অপমান সহ্য করতে না পেরে বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। অথচ যাদের কারনে ঘটছে এই ঘটনা তারা থেকে যাচ্ছে নিরাপদে। যারা ধরা পড়ছে তাদের জন্যও রয়েছে খুবই সামান্য শাস্তি।
চলতি বছরে ইভ টিজিংয়ের কারণে আত্মহত্যা করেছে ২২ জন তরুণী। সর্বশেষ প্রাণ দিলেন সিরাজগঞ্জের মেধাবী ছাত্রী রূপালী রানী। আর ইভ টিজিংয়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকারও হচ্ছেন অনেকে। সমপ্রতি পাওয়া এ জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ইভ টিজিংয়ের ঘটনা ঘটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে। এক্ষেত্রে একেবারেই নিরাপদ নয় ১০ শতাংশ নারী শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসে দেশে উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন ১৩৮ জন। এরমধ্যে মে মাসে ১৬, জুনে ২৭, জুলাইয়ে ৩১, আগস্টে ২৮ এবং সেপ্টম্বরে ৩৬ জন বখাটেদের হামলার শিকার হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বর্তমানে কোন নারীই রাস্তা ও কর্মস্থলে নিরাপদ না। আমাদের বর্তমান আইনের ইভ টিজিংয়ের শিকার কেউ আত্মহত্যা করলে অপরাধীর শাস্তি কি হবে তা স্পষ্টতা না থাকায় দিন দিন এটি একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হচ্ছে। তিনি এজন্য আইনের সংস্কার এবং আরো কঠোর করার কথা বলেন এবং যারা অপরাধী তাদের বিরদ্ধে কঠোর ব্যবন্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
ইভ টিজিং প্রতিরোধে সরকার মোবাইল কোর্ট বসানোর চিন্তা করেছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান আইনে ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান না থাকায় দণ্ডবিধি ৩০৯ ধারা মোবাইল কোর্টের অন্তর্ভুক্ত করতে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি ইতিমধ্যে চাওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এটি মোবাইল কোর্টের আওতায় এনে ইভটিজারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ইভটিজিং প্রতিরোধে সময় উপযোগী আইন নেই। নতুন আইন করে সামাজিক এ অপরাধ প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি বলেন, পরিবার থেকেই ইভ টিজিংয়ের বিষয়ে সচেতন করা দরকার। ইভটিজিংয়ের ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের সঙ্গে অভিভাবকদেরও আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
বাংলাদেশের মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ইভ টিজিংয়ের ঘটনা ঘটেছে ৭৮টি। এ বছর আগস্ট পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫৩টিতে। গত বছরের তুলনায় এর গড় বেড়েছে ৩৯.৬ ভাগ হারে। মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে মূল্যবোধের অবক্ষয়ই এর প্রধান কারণ।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব মতে, এ বছর (২ নভেম্বর পর্যন্ত) বখাটেদের উৎপাত ও উত্যক্তকরনের প্রতিবাদ করায় খুন হয়েছে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী, লাঞ্চিত হয়েছে ১৬৬ জন নারী, প্রতিবাদ করায় লাঞ্চিত হয়েছে ৭৭ জন পুরুষ, আত্মহত্যা করেছে ২৬ জন নারী ও ১ জন বাবা।
ইভ টিজিংয়ের বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, এ মুহূর্তে দেশের অবস্থাটা ভয়াবহ। ৮ মাসে ২০ জন কিশোরীর আত্মহত্যা এবং ৩৫৩টি ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটেছে সেটাই প্রমাণ করে। এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আমরা মহিলারা বেশিদিন সমাজে সম্মানের সাথে বসবাস করতে পারব না।
নিজেরা করি’র নির্বাহী পরিচালক খুশি কবীর বলেন, পূর্বের ইভ টিজিংয়ের ঘটনায় অপরাধী শাস্তি না পাওয়ায় অন্যরা উৎসাহী হচ্ছে ইভ টিজিং করার ক্ষেত্রে। তাদের যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা গেলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না।
তিনি আরো বলেন, অপরাধীরা হত্যাকে নিছক দুর্ঘটনা বলে প্রচার করার চেষ্টা করছে। ময়না তদন্তেও ডাক্তার মৃত্যুর কারন দুর্ঘটনা বলেছেন। এটা খুব উদ্বেগ জনক। ময়না তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের এ ধরনের অতি উৎসাহী মন্তব্য করা উচিত নয়। বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৫০৯ ধারায় যৌন হয়রানির ব্যাখ্যা স্পষ্ট করে সাজা বৃদ্ধি করতে হবে।

দীপন নন্দী: গণমাধ্যম কর্মী।
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×