মানব সভ্যতার সূচনা নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। তবে এই তত্ত্ব বেশ স্বীকৃত যে প্রাচীন মানব সবুজ অরণ্যে নিঃসঙ্গ ও অনিশ্চিত জীবন যাপন করত। বিবর্তনের ধারায় মানবের কেবল শারীরিক পরিবর্তনই হয় নি বিবর্তন ঘটেছে মানসিকতারও। মানসিকতার উৎকর্ষতার সাথে সাথে সে বেছে নিল সংঘবদ্ধ জীবন। সবাই মিলে একসাথে সম্প্রীতি নিয়ে থাকার নীতিতে সৃষ্টি হল সমাজ। যুগে যুগে বহু মনীষীর চিন্তা চেতনা, নানা তত্ত্বের বুনিয়াদে গড়ে তোলা হল সভ্য সমাজ। সম্প্রীতি আর ঐক্যর হাত ধরেই মানব সমাজ বিবর্তনের নানা ধাপ পেরিয়ে সভ্যতার শিখরে উঠলো। যে সমাজে একে অন্যের কথা ভাবে, যে সমাজে সবাই সহনশীল সেই সমাজ তত বেশি উন্নত। সভ্যতার উৎকর্ষতার নির্ণায়ক সাহিত্য। আর সেই সাহিত্যে চিত্রিত হল সম্প্রীতি ভালোবাসার রূপ। সৃষ্টি হল অমর বাণী “ মানুষ মানুষের জন্য ” কিংবা “ সবার উপর মানুষ সত্য ” । তবে বিবর্তনের যে রথে চড়ে মানব সভ্যতা এত উন্নত হল এই শতাব্দীতে সেই রথের শুরু হল উল্টোযাত্রা। সম্প্রীতি আর ভালোবাসার পরিবর্তে সমাজে আজ স্বার্থের জয়গান। সবাই মিলে ভালো থাকার চাইতে নিজে ভালো থাকার ইচ্ছেটাই সমাজে প্রবল। বছর কয়েক আগেও এই “ নিজের” বলতে ছিল পরিবার বা কাছের মানুষ। যদিও সময়ের সাথে তা সংকীর্ণ হতে হতে একান্তই “আমি ” তে এসে ঠেকেছে। পরিবার ছোট হতে হতে এতটাই “একক” হয়েছে যে সেখানেও আজকাল “তুমি- আমির” পরিবর্তে কেবল “আমি”। সবাই কেবল একাই ভালো থাকতে চায়। সমাজের সর্বত্র হিংস্রতা। টিকে থাকার কঠিন সংগ্রামে অনিশ্চিত জীবন। এ যেন বিবর্তনের উল্টোরথ। একসময় মানুষ সবুজ অরণ্যে একাকী থাকত আর এখন কংক্রিটের অরণ্যে মানুষ একা। একি ছাদের নিচে পাশাপাশি থাকা মানুষ গুলো ভুলে গেছে ভালোবাসা সম্প্রীতির স্বরূপ। ভোগবাদী চেতনার অশুভ ছায়ায় অসুস্থ আজকের তথাকথিত সমাজ। পুঁজি বাদী সমাজ ব্যবস্থা নিজের স্বার্থে মানুষের মাঝে জাগিয়ে রেখেছে অতৃপ্তি। এই অতৃপ্তি জাগিয়ে তুলছে মানব মনে ঘুমিয়ে থাকা আদিম পশুটাকে। সভ্যতার শুরুতে যাকে কিনা সযত্নে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল মানব মনের গভীরে।শুদ্ধ অনুভূতি রা আজকাল বিলুপ্ত। আজকাল অনুভূতিরাও পণ্য। অনুভূতি চেতনা রাও মুনাফা লোটার হাতিয়ার। আজকাল সাহিত্য সঙ্গীত হয় অনেক তবে তা মনে দাগ কাটে না। তাই হয়ত এই শতাব্দীর ইতিহাস জুড়ে কেবল ধ্বংসচিত্র আর হিংস্রতা। তবে পুঁজিবাদের যে রঙিন ছাতার নিচে জড় হয়েছিল মানবসভ্যতা সেই ছাতায় আজ জীর্ণতা ভর করেছে । ভেঙ্গে পড়ছে পুঁজিবাদী , ভোগবাদী সমাজ ব্যবস্থা। বিশ্বনেতারা আকুল হয়ে ভাবছেন এই মুমূর্ষু সভ্যতাকে বাঁচানোর পন্থা। যদি তারা সফল হন তবে এইযাত্রায় বেঁচে যাবে মানব সভ্যতা। নয়ত বিবর্তনের উল্টোরথে হয়ত এই শতাব্দী তেই সমাপ্তি ঘটবে মানব সভ্যতার।
আলোচিত ব্লগ
ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......
বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন
এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন
আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।