somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টমের বদলে যাওয়া (সংক্ষেপে)

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টম আলোটা নিভিয়ে দিয়েছে আমি ভেবেছিলাম, আমি নিশ্চুপ – টমও নিশ্চুপ।
গভীর রাত, ফ্যানের শব্দে ঝিঁঝিঁপোকার বিরক্তিকর শব্দগুলোও আমাদের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছিল।
অবশ্য আমার ব্যাড আর টমের ব্যাড আলাদা। হটাত একটা চাপা দীর্ঘশ্বাসের আওয়াজ ফ্যানের শব্দকে ছাড়িয়ে আমার কানে এসে অনুভূতি জাগালো।
একি, টম কি কোন কারনে কষ্টে আছে? এতো ভারি নিঃশ্বাস তো টমের ফেলার কথা না।
ও টম হল আমার পরিচিত একটা সদা হাস্যোউজ্জল একটা ছেলে, যে মরা বাড়িতেও হাসির কারন হতে পারে অনায়েসেই। আর অনেক মেধাবী, সদা ক্লাসের ফার্স্ট বয়।
ইচ্ছে করছিল বিছানা থেকে উটে টমের কি হয়েছে জানতে চাইব। এমন সময় মনে হল আমি যখন শুয়েছিলাম টমতো তখন তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছিল, তাহলে কি টম তার প্রেমিকাকে কনভিয়েন্স করার জন্য অভিনয় করছে ?
এইসব ভাবতে ভাবতে আমি ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি টম বিছানায় নাই। আমি একটু দেড়িতে বিছানা ছাড়ি, টম হয়ত বেরিয়ে গেছে।
আমি বাড়ি যাব , টম রুমের চাবি নিয়ে বেড়িয়েছে কিনা জানার জন্য অরে কল দিলাম। মোবাইল টা বন্ধ, হয়ত চার্জ নাই।
বিরক্ত হলাম কিছুটা , ছেলেটা এমন কেন? ওত জানত আমি আজ সকালে বাড়ি যাব। ধ্যাত্তেরিকা ...... কি যে করি?
অর গারলফ্রেন্ডের নাম্বারটা আমার কাছে ছিল বাধ্য হয়ে ওইটাতে ডায়াল করলাম। নো আন্সার , অতঃপর একটা এসএমএস । “Sorry vaia…….., valo thakben”।
হয়ত মেয়েটা বাসায় তাই কলটা ধরতে পারেনি, কত ভাল মেয়ে (!) সরি বলছে।
আসলেই মেয়েটা অনেক ভাল , যাক অর কথা বাদ।
এইভাবে দুপুর ২ টায় টম আসলো , ঝাড়ি দিব ভেবে এগিয়ে গেলাম। অর মুখের দিকে তাকিয়ে কিচ্ছু বলতে পারলামনা। শুধু বললাম , কি হল তর টম?
কিছুনা।
খাস নাই সকালে?
না।
চল তাইলে খেয়ে নেই , আমিত বারি যাব।
তুই খেয়ে যা, আমি পরে খাব।
আস্তে করে বললাম, তর নাম্বার বন্দ তাই নিধিরে কল দিছিলাম, কিছু বলছে তরে?
না।
অবশ্য কল ধরেনি।
তুই না বাড়ি যাবি, যাসনা কেন?
অকে, তাহলে আমি যাইরে। চাবিটা রাখ, আমার আসতে কিছুদিন দেরি হবে।
কতদিন?
১৫-২০ দিন।
আমিত এক তারিখ চলে যাব, তাইলে তর সাথে আর দেখা হবেনা। চাবিটা টনির কাছে রেখে যাব।
আচ্ছা।
এই কথাগুলো আজ থেকে চার বছর আগের।
আজ সেই টমের সাথে আবার দেখা,
না সেই টম না। এ হল টমের ধ্বংসাবশেষ। যেন শতবছর আগে মাটিচাপা পড়া বিশাল বৃক্ষের কয়লা।
নেসাশক্ত, মাতাল, আধাপাগল, সাইকো আরও অনেকগুলো বিশেষণের অধিকারী আজ সে।
বিশ্বাস হচ্ছিলো না, কিন্ত ও যখন আমকে বলল কি খবর, কেমন আছ?
তখন সিউর হলাম এই সেই টম।
কথাপ্রসঙ্গে জানতে চাইলাম নিধির কি খবর?
কথাটি এড়িয়ে গেল টম।
পরে কথা হবে, বলে ও চলে গেল।
অর পাশে থাকা বন্ধুটিকে জিগ্যাস করলাম, অর অবস্থা এমন ,আমি কি ভুল দেখেছি?
নাহ, সেই ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট হতেই ও এইপথে পা বাড়িয়েছিল ভাই।
বুকটা ধুক করে ঊটল , এতো সেই তারিখ যেদিন আমি টমকে রেখে বাড়ি গিয়েছিলাম। কিছুটা বুজলাম যে অই রাত্রে আমি যা ভেবেছিলাম হয়ত সবি ভুল ছিল, আরও একটু পরিষ্কার হউয়ার জন্য জানতে চাইলাম নিধির কথা।
ছেলেটির উত্তরটা ছিল এমন, .........টার কথা আমি কিছু জানিনা।
শূন্যস্থানের একটি শব্দই আমাকে সব বুঝিয়ে দিল।
হায়রে টম বুঝলিনা, কিন্ত কেন ?
আর নিধিদের জানাই হাজারো বাহবা।
পরে জানলাম টমের ভুলটা ছিল, নিধির ফেমিলির সাথে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করা।
আজও কিন্ত আমার মত শত শত মানুষ নিধিকে ভাল জানে আর টম নষ্ট ।
হাইরে সমাজ!
তামাকের কোম্পানিকে জাতীয় স্বীকৃতি দিলেও ধুমপান কারিদের কে সমাজে উঠানো নিষেধ ।
(বাস্তব কাহিনী অবলম্বনে লিখা )
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৬ রাত ১১:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×