গ্যাস খাতে সরকারের কোনো ভর্তুকি দেয়া লাগে না। গড়ে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিচ্ছে পেট্রোবাংলা। এ অবস্থায় কেন দাম বাড়াতে হবে? তাছাড়া পেট্রোবাংলার হিসাবে স্বচ্ছতা নেই। গ্যাসের উৎপাদন খরচও বাড়েনি। গ্যাস খাত উন্নয়ন তহবিলে টাকা জমা হচ্ছে। সেখান থেকে টাকা নিয়ে উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব। এ অবস্থায় পেট্রোবাংলার আরো কেন টাকা প্রয়োজন?
সঙ্গতকারণেই প্রশ্ন উঠে, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির এই পাঁয়তারা কি একান্ত বাধ্যগত ঔপনিবেশিক দাসের মতো বিশ্বব্যাংক আইএমএফ-এর শর্ত পালন করতে, নাকি দেশের ব্যাংক ও অর্থ ব্যাবস্থা লুটপাট করে ফোপড়া করে ফেলার পর বাড়তি অর্থ যোগাড় করতে? নাকি আইএমএফ-এর শর্ত ও লুটপাটের ঘাটতি মেটানো- উভয় কারণেই?
বিদেশী কোম্পানিগুলোকে গ্যাস উৎপাদনের দায়িত্ব দেয়া না হলে আমাদের গ্যাস উৎপাদনের খরচ আরও কম হতো। এখন বিদেশী কোম্পানিগুলোর গ্যাস উৎপাদনের যে খরচ তা দেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে ১০ গুণ বেশি।
উল্লেখ্য, আবাসিক গ্যাস সংযোগ যে কেবল উচ্চবিত্তের বাড়িতেই আছে, তাও কিন্তু ঠিক নয়। সারা দেশে আবাসিক গ্রাহক সংখ্যা মোটামুটি ২৭ লক্ষ; যার বেশির ভাগই নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত। প্রতিটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা যদি ৫ ধরা হয়, তাহলে গ্যাসের উপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৩৫ লক্ষ। অনেক ক্ষেত্রেই সংযোগ প্রতি নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা ১০/১৫ জনও হয়। গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর ফলে এসব স্বল্প আয়ের শ্রমিক ও নিম্ন বিত্ত মানুষদের উপর তো ভীষণ চাপ পড়বে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর সাথে সাথে বাড়ি ভাড়ায় যে বাড়তি খরচ এসব মানুষদেরকে বহন করতে হবে তার জন্য সরকার কি তাদের মজুরী/বেতন বাড়ানোর দায়িত্ব নেবে??! কিংবা সবাই কি সরকারি কর্মচারী??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



