বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র কি চলতেই থাকবে? দেশপ্রেমিক দাবিদার সরকার নীরব?
সাম্রাজ্যবাদী ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে এমন ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছে। গত ৬ নভেম্বর-২০১৬ এক টুইট বার্তায় সে বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে বলে। এর আগে গত জুন মাসেও সুষমা স্বরাজ ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে এমন দাবি তুলেছিলো। এছাড়া গত ৩ মাসের মধ্যে ভারতের আরএসএস, বিজেপি, শিবসেনা, বজরং দল, দুর্গা বাহিনীসহ বিভিন্ন উগ্র মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে এমন উদ্ভট অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার উস্কানি দিয়েছে। চলতি ২০১৬ সালের বিগত মে মাসে ভারতের একটি প্রতিনিধি দল দেশের প্রশাসনকে না জানিয়েই বাংলাদেশে এসে সংখ্যালঘুদের সাথে দেখা করেছিলো। এমনকি গত জুলাই এ আসামের কংগ্রেসের এক বিধায়ক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণারও ডাক দিয়েছিলো।
সুষমা স্বরাজসহ ভারতের বিভিন্ন উগ্রবাদী রাজনৈতিক নেতা ও দলগুলোর এই উদ্বেগ প্রকাশ করা ও বক্তব্য যে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক এতে সন্দেহ নেই। কারণ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত লোকদের উপর এ ধরনের কোনো নির্যাতন বাস্তবত নেই। দেশে সাধারণভাবে যে নৈরাজ্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, তাতে নির্বিশেষে মানুষ নির্যাতত হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বহুদিন ধরে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ এই কনসেপ্টটা চালু হয়ে আছে। দেশে প্রতিদিন খুন, রাহাজানি, ডাকাতি ইত্যাদি নানা অপরাধমূলক কর্মকা- চলে আসছে। সেটা অনেক সময় ব্যক্তিগত পর্যায়ে আবার বেশিরভাগ সময়ে রাজনৈতিকভাবে। কিন্তু এই অপরাধমূলক ঘটনার ভুক্তভোগী যদি সেখানে সংখ্যালঘু হয়, তাহলে আশ্চর্যজনকভাবে সেই ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ ঘটনাটি হঠাৎ করেই মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে কভারেজ পেতে থাকে। এ পর্যায়ে সেটা জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়। বিভিন্ন কথিত মানবাধিকার সংগঠন এই তুচ্ছ ঘটনা তথা তিলকে তাল বানিয়ে ব্যাপক মিছিল-মিটিং-সমাবেশ করে থাকে।
কিন্তু এক্ষেত্রে যা লক্ষ্য করার বিষয় তা হচ্ছে, মুসলমানরা অনেক অধিক সংখ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত, এমনকি নিহত হলেও কেউ বলে না যে, মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বা সাম্প্রদায়িকভাবে মুসলমানদের উপর আক্রমণ হচ্ছে। কিন্তু কোনো সংখ্যালঘু অপরাধ করে তার প্রাপ্য শাস্তির শিকার হলেও কিছু লোক সমস্বরে বলতে থাকে, ‘সংখ্যালঘুদের’ উপর নির্যাতন হচ্ছে! কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই নির্যাতন ‘সংখ্যালঘু’ বলে হচ্ছে না। যারা অন্যদের জমি দখল করছে, ঘরবাড়ি লুটপাট করছে, মানুষের উপর নির্যাতন করছে- তারা চোর, ডাকাত, অপহরণকারী ক্রিমিনাল- কোনো সাম্প্রদায়িক দুষ্কৃতকারী নয়। তাদের এই আক্রমণের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতা বা বিশেষভাবে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের কোনো ব্যাপার নেই।
সূত্রঃদৈনিক আল ইহসান থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



