
“নিয়ম করে অনিয়ম” কথাটি শুনলে বেশিরভাগই ভুরু কুঁচকাবে। একাধিক বার পড়বে কি বুজাতে চেয়েছি সেটা বুঝতে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকেই নাকি এইখানে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার কথা ভাবছিলেন আইয়ুব খান। আইয়ুব খানের সে ভাবনা এখন বাস্তবায়িত করছেন শেখ হাসিনা। বাস্তবায়ন করুক ভালো কথা কিন্তু এসব ইঁদুর দিয়ে ধানের গোলা বানানো কি দরকার?
রূপপুরের এই পারমানবিক প্রকল্প বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেটের প্রকল্প, প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার কোটি টাকার মত। আবার এই টাকার ৯১লাখ ৪০০কোটি টাকা রাশিয়া থেকে লোন নেওয়া। এই লোন আবার উৎপাদন শুরু হওয়ার পর থেকে ৩০ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই লোনের সুধ আসবে কত জানেন? ৬৯ লক্ষ কোটি টাকা!
সেই আসুক কিন্তু লোনের টাকা দিয়ে আপনি যখন কোন কাজ করবেন তখন আপনি চাইবেন খরচ সর্বনিন্মে নামিয়ে আনতে। কিন্তু আমরা দেখলাম এক বালিশ উঠাতে গিয়েই কত টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। বিছানা, এসি, টিভির দাম দেখলে আপনার চোখ কপালের উপর দিয়ে মাথার উপর চলে আসবে!
যাইহোক এই বালিশের দামের একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন এক বিশ্লেষক, উনার কথা হচ্ছে দরপত্রে পার ইউনিটে দাম করা হয়, এবং দামের পর মোট এমাউন্ট মিলিয়ে দেওয়া হয়। যেমন দরপত্রের মোট মূল্য ২০লাখ টাকা এখানে মোট জিনিস সরবরাহ করতে হবে ৫০টি, এখন এই ২০লাখকে ৫০ দিয়ে ভাগ করে দাম করা হবে প্রত্যকটির। সেক্ষেত্রে একটি চায়ের কাপের দামও দশ হাজার টাকা পড়তে পারে আবার একটা এসির দামও পড়তে পারে ১০হাজার টাকা।
এই বিশ্লেষকের বিশ্লেষণ পড়ে মনে হয়েছে উনি পরীক্ষার তিনদিন আগেও প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে পাটিগণিতে পাশ করতে পারেনি!
এবার নিয়ম করে অনিয়মের কথা বলি, দরপত্রে এভাবে ভাগ করে দ্রব্যের দাম নির্ধারণ করার নিয়ম কেন করা হয়েছে সেটা শুনুন। এভাবে দ্রব্যের দাম নির্ধারণ করলে একটা চায়ের কাপের দামও ১০হাজার টাকা পড়তে পারে, এখন দরপত্র করার পর দেখা গেল প্রথমে বলা হয়েছিল ১০০টি চায়ের কাপ লাগবে কিন্তু দরপত্র পাশ হওয়ার পর দেখলো আসলে চায়ের কাপ লাগবে ২০০টি তখন আবার ১০০টি চায়ের কাপ এডজাস্ট করা হয় আগের দরপত্রের সাথে, কিন্তু দাম? সেটাতো নির্ধারণ করাই আছে ১০হাজার টাকা!
রূপপুরে বালিশের দাম ৫৯০০/- টাকা হওয়ার কারণ এমনটিই মনে হয়। আবার দরপত্রের সাথে ১০০০ হাজার বালিশের দাম এডজাস্ট করা হতো হয়ত।
আসলে রূপপুর না সিস্টেমটাই এমন করা আছে সব জায়গায়! যে যেভাবে পারছে নিয়ম করে অনিয়ম করে যাচ্ছে, আমাদের গাধা বানানো যেন লোনের বোঝা বইতে বেশি পরিশ্রম করতে পারি!
বিঃদ্রঃ আমরা এসব দুর্নীতির জন্য একচেটিয়া রাজনীতিকদেরই দুষে যাই, কোন ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নাই কোন প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী, সচিব, গণপূর্ত কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক নীতিহীন না হলে এমন মহাসাগর চুরি করা!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



