
আমাদের একটা সংসদ আছে, সেখানে জাতির জন্য ভালো মন্দের ভাগ্য নির্ধারণ হয়। যারা করে উনারা আমাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। জাতির কিসে ভালো হবে, কিসে মন্দ হবে উনাদের এই সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে উনাদের হতে হবে আধুনিক বিশ্বের সাথে সমান দক্ষ, ধারনা থাকতে হবে বাকি উন্নত বিশ্ব গুলো কি করে এগিয়ে যাচ্ছে, কি ধরনের অর্থনীতি ও টেকনোলজি এপ্লাই করছে জাতির উন্নতির জন্য। নিজেদের সততা, কাজ করার মানসিকতা পরিষ্কার রাখতে হবে যতদূর সম্ভব। আসলে এতকিছু বলার কারন হচ্ছে গত পরশু দেখলাম আমাদের এক সংসদ সদস্য কুয়েতের আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে সেদেশের সরকারি লোকজনকে ঘুষ দেওয়া ও মানবপাচার করার জন্য! একটা দেশের সংসদ সদস্য অন্য দেশের কারাগারে আটক এটা একটা জাতির জন্য অনেক লজ্জার ব্যাপার! যে লোক তার জাতির ভালো মন্দের সিদ্বান্ত নিবে সে নিজেই এখন অন্য একটি দেশের কারাগারে জেল খাটবে! শেখ হাসিনা নিশ্চয় এতে খুশি নন?
হ্যাঁ, শেখ শেখ হাসিনা খুশি নন তবে উনি জানতেন এগুলো দুষ্ট লোক, এরা এত অর্থের মালিক বৈধভাবে হয়নি। এরপরেও উনি এদের নির্বাচন করেন, কারন এদের দুর্বল জায়গা গুলো উনার জানা। এরা কখনো উনার ভুল সিদ্বান্ত ও নেতৃত্ব গুন নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না।
স্বাধীনতার পর জাতির বিশাল দুর্ভাগ্য, জাতির ভাগ্য নির্ধারণের সংসদ ভবনে খুব বেশি সৎ, যোগ্য ও দক্ষ লোক এই ভবনে প্রবেশ করেনি। জাতির পাঁচটি মৌলিক অধিকার কখনো নিশ্চিত করার জন্য কেউ আধুনিক ভাবনায় ভাবেনি। নিজেদের অদক্ষতায় জাতিকে পিছনে ফেলে রেখেছে। তবে দুর্নীতি, নিজের ভাগ্যউন্নয়ন ও ভুল সিদ্বান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক পারদর্শীতা দেখাতে পেরেছে আমাদের সাংসদরা। তাদের সাথে আরো একধাপ এগিয়ে ছিল আমাদের বেশিরভাগ আমলারা। সারা বিশ্ব যেভাবে এগিয়ে চলছে তার সাথে কচ্ছপ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশের অর্থনীতি, আর টেকনোলজি।
দেশের মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে যে সংসদ সদস্যরা তারা অন্য দেশের কারাগারে আটক হয়ে যায়। মানুষের ভাগ্য ফিরাতে যারা কাজ করবে তারা নিজেদের ভাগ্য গড়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছে, তাদের চৌদ্দ প্রজন্মের জন্যেও সম্পদ করে দিয়ে যাচ্ছে। গরিব দেশের জন্য শিক্ষাই সম্পদ, সেই সম্পদ টুকুও সবার মাঝে দিয়ে যাচ্ছে না! সামনের বেশ কয়েক বছর আমাদের জাতির অর্থনীতি, টেকনোলজি আর শিক্ষা স্থবির হয়ে পড়বে। আমাদের রাজনীতিবিদ ও আমলারা দূরদর্শী সম্পন্ন চিন্তাভাবনার অধিকারী নয়। জাতিকে বাকি আধুনিক বিশ্বের সাথে টেকসই উন্নয়ন করার দৌড়ে অনেক পিছিয়ে দিচ্ছে তারা! মানুষের মাঝে হতাশা বাড়ছে, অসৎ পথ অবলম্বন করার প্রবনতাও বাড়বে!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


