somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর আলম হিরণ
ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না, কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন! [email protected]

শেখ হাসিনা উল্টাপাল্টা কিসব বলছেন! ★

০৭ ই নভেম্বর, ২০২২ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সারা বিশ্বে বড় ধরনের সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং সামনের বছরে আরো বড়সরো বিপদ আসার সম্ভাবনা আছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই বিপদ সম্পর্কে আমাদেরকে আগাম সতর্ক করছেন এটা ভালো। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে আগাম বুঝতে পারছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে উনি আগাম বুঝে মানুষকে কি সব ভয় লাগানো কথাবার্তা বলে যাচ্ছেন। কয়েকদিন আগে বললেন দুর্ভিক্ষ হবে, তাই মানুষকে কম খেতে, চাষবাস করতে। আজকে বললেন অর্থনৈতিক মন্দার ঘনিয়ে আসছে মানুষ যেন কম খরচ করে। আপেল, কমলা, আঙ্গুর ফল যেন কম খায়, তেল ছাড়া রান্না শিখতে। এগুলো কোনো গুরুত্বপূর্ন কথা হলো? মানুষের পকেটে টাকা না থাকলে মানুষ এমনিতেই আপেল, কমলা, আঙ্গুর ফল খাওয়া ছেড়ে দিবে। এছাড়া বাংলাদেশের কতজন মানুষই বা এই ধরনের বিদেশি ফল খায়! এদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। যারা এসব নিয়মিত খায় তারা দেশে দুর্ভিক্ষ লাগলেও এগুলি খাবে, প্রধানমন্ত্রী বললেও খাবে না বললেও খাবে।

দুর্ভিক্ষ বা অর্থনৈতিক মন্দা যাই হোক না কেন সেটার ধারণা শেখ হাসিনা দিয়েছেন। কিন্তু উনি শুধু এ ধারণা দিয়েই ক্ষান্ত রয়েছে এবং দুর্ভিক্ষ বা অর্থনৈতিক মন্দা সম্পর্কে উনি কম গুরুত্বপূর্ণ ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলছেন। এতে মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হওয়ার কথা। উনার আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জাতিকে জানানো দরকার। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি আসলে তা মোকাবেলা করার জন্য উনার সরকারের কি কি প্ল্যান আছে। দেশের খাদ্য গুদামের খাদ্য মজুদের কি অবস্থা, সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। জাতীয় উৎপাদন যেন হ্রাস না পায়, তারজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনা মূলক কথাবার্তা বলা। দেশের রিজার্ভ ডলারের অপব্যয় যেন না হয় সে সম্পর্কে বলা। বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স নিয়ে আসার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।
উনি সব কথার মধ্যে একটি দরকারী কথা বলেছেন, সেটা হচ্ছে যার যে পরিমাণ জমি আছে সে জমিতে চাষবাস করার কথা। কিন্তু যারা চাষবাস করে বা চাষবাস করতে জানে তাদের জমির মালিকানা খুব বেশি নেই। বড় বড় বিল্ডার্স কোম্পানিরা বিশাল পরিমাণ চাষযোগ্য জমি কিনে তার মাঝখানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে রেখেছে। এসব সাইনবোর্ড দেখলে সাধারণ মানুষ ভয়ে এর থেকে দুই মাইল দূর দিয়ে হাটে। এসব জমিগুলোকে আপাতত খালি না রেখে চুক্তিভিত্তিক চাষ করার ব্যবস্থা উনি করতে পারেন। এটা ভালো কাজ দিতে পারে, সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে।

যাই হোক আগামী দিনগুলোতে বড় ধরনের সমস্যা আসতে যাচ্ছে আপাতত তেমনটিই মনটি মনে হচ্ছে। আমাদের সরকার প্রধান আমাদেরকে সতর্ক করছেন কিন্তু উনি যে কায়দায় সতর্ক করছেন তাতে মানুষ ভীত হচ্ছে। জানিনা উনি সতর্ক করছেন নাকি মানুষকে ভীত করার জন্যই এভাবে কথা বলছেন। আগামীতে আসন্ন এই সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য আসলে যার যতটুকু খালি চাষযোগ্য জমি আছে তাতে চাষবাস শুরু করা। এতে যদি দুর্ভিক্ষ বা অর্থনৈতিক মন্দা নাও আসে তাহলেও নিজের জমিতে উৎপাদিত ফ্রেশ ও ভেজাল মুক্ত খাওয়ার একটা উৎস তৈরি হবে। এই ব্যাপারটাও বা কম কি। আমাদের ঘরের ছাদে দুটি মরিচ গাছ, পাঁচটি বেগুন গাছ, ছয়টি ডেরস গাছ, দুটটি করলা গাছ ও কয়েকটি পুইশাক গাছ লাগিয়েছি। এগুলোতে সবজি আসার পর থেকে মোটামুটি বাজার থেকে খুব বেশি সবজি কিনার দরকার হয়নি। গত বছর পাঁচটি টমেটো গাছ থেকে যে পরিমাণ টমেটো হয়েছে তা আমরা খেয়ে শেষ করতে পারেনি।
আমি মনে করি এই পরিমাণ শাকসবজি চাষ করার মত সবারই জায়গা আছে, শুধুমাত্র সামান্য একটু পরিশ্রম ও পরিচর্যা করলেই সম্ভব।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৩ বিকাল ৪:৪৭
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্ভীক অভিযাত্রা

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আমি চলি ঐ প্রান্তে,
যেখানে অসৎ থেকে মানুষ হয়েছে সৎ।
আমি চলি উড়ে উড়ে,
ডানাহীন পাখির মতো,
যেখানে দুর্বলতাকে জয় করে
হয়েছে দুঃসাহস।
আমি চলি শক্তির সাথে,
দেহ যায় না ঝুঁকে।
করি না প্রণাম,
করি না চাটুকারিতা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তবুও বেঁচে আছি

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:১৫

এই নিথর নগ্ন শরীরের প্রতিটা পল্লবের করুণ আর্তচিৎকার
পৃথিবীর মাটি ভেদ করে কোনদিনও
ওই মৃত কানে পৌঁছাবে না
আমি জেনে গেছি ।

বিপন্ন আকাশের গায়ে লেপ্টে থাকা
দেবতাদের প্রতারণার ফাঁদ আর মিথ্যা প্রলোভনের গল্পগুলি
আমার শুনতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×