somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান- ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই!

১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অসুস্থ মানুষের সেবা করা, অবশ্যই মহৎ একটি কাজ।
বয়স হয়ে গেলে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। আসলে মানুষ অসুস্থ হয়ে গেলেই অসহায় হয়ে যায়। অবচেতন মন বারবার বলে- এবার তুমি শেষ। তোমার সময় শেষ। অনেক বেঁচেছো, আর কত! প্রস্তুত হও। মৃত্যু সন্নিকটে! মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়। মৃত্যু থেকে বাঁচতে ধর্মের দিকে ঝুঁকে। মসজিদে যারা নিয়মিত নামাজ পড়ে, এরা বেশির ভাগই বয়স্ক। সারা বছর'ই অসুস্থ মানুষ দিয়ে হাসপাতাল গুলো ভরা থাকে। সরকারি হাসপাতাল গুলোতে ফ্লোরে অসুস্থ মানুষ শুয়ে আছে। অসুস্থ মানুষের সাথে তার পুরো পরিবার। এরা কাঁথা বালিশ আর চাঁদর সাথেই নিয়ে আসে। হয়তো গ্রাম থেকে এসেছে। অসুস্থ মানুষ সেবা চায়। এই সমাজে বহু মানুষ অসুস্থ হলে সেবা যত্ন পায় না। আজকালকার মানুষ গুলো মায়াদয়াহীন। চলার পথে কেউ হঠাত কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে ফিরেও তাকায় না। লোকজন সৌদি গিয়ে হজ্ব করে। লোকজন মন্দিরে গিয়ে পূজা করে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, জীবে দয়া করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। ধার্মিকেরা মনে করে মসজিদে দান করলেই অনেক সওয়াব। মসজিদে টাকা দেওয়ার চেয়ে, একজন অসহায় দরিদ্র মানুষকে একটা আয়ের পথ করে দিলে অনেক বেশি পূণ্যের কাজ হয়।

১৯১০ সালে আমেরিকার- মন্টানা, আইডাহো এবং ওয়াশিংটনে আগুন লাগে।
ভয়াবহ আগুন। কিছুতেই আগুন নেভানো যাচ্ছিলো না। এদিকে ১৫ দিন পার হয়ে যায়। গাছপালা সব পুড়ে ছাড়খার হয়ে যায়। আগুন নিভাতে গিয়ে ৭৮ জন ফায়ার সার্ভিসের লোক মারা যায়। এদিকে ১৯১০ সালে আলবেনিয়া'তে এক মহীয়সী নারীর জন্ম হয়। নাম তার 'গোস্কসা'। আলবেনিয়া'র রাজধানী-তিরানা। জনসংখ্যা মাত্র ৩৩ লাখ। আয়তন মাত্র ১১ হাজার বর্গমাইল, যা বাংলাদেশের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। দেশটি ১৯১২ সালে অটোমান সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ছবির মতো সুন্দর দেশ। প্রচুর গাছপালা আছে। দেশটির বেশির ভাগ মানুষ মুসলমান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়। যাইহোক, 'গোস্কসা' মূলত একটি তুর্কি শব্দ। যার অর্থ 'কুসুমকলি'। গোস্কসা'র বাবা একজন রাজনীতিবিদ। গোস্কসা'র যখন ৯ বছর, তখন তার বাবা মারা যায়। এরপর তাদের পরিবারে নেমে আসে অভাব। অভাব মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু অভাবের কারণে অনেক অভিজ্ঞাতা অর্জিত হয়। অভাব তাদের লড়াইম করতে শেখায়।

গোস্কসা'র ভাইবোন সবাই বিপদে পড়ে যায়। দেখা দেয় সংসারে চরম অভাব।
জামা কাপড় সেলাই করে কোনো রকম সংসার টেনে নেয় গোস্কসা'র মা। অভাব-অনটনে গোস্কসা একদিন বড় হয়ে যায়। একদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে গোস্কসা বুঝতে পারলো তার বয়স ১৮ হয়ে গেছে! সে অন্য দশটা মেয়ের মতো হবে না। সে হবে সবার থেকে আলাদা। গোস্কসা'র সমাজ, সংসার, প্রেম ভালোবাসা বিয়ে কিছুই তার ভালো লাগে না। এগুলো সে অপছন্দ করে। গোস্কসা ঠিক করেছে, সে যতদিন বাঁচবে মানুষের সেবা করে যাবে। সেবায় আনন্দ আছে। সে আলবেনিয়া থেকে প্যারিস যায়। মানুষের কি করে 'ভালো' করা যায়, সে বিষয়ে দীক্ষা নেয়। তারপর সে নদীপথে ভারত চলে আসে ১৯২৮ সালে। তার ইচ্ছা ভারতের মানুষের সেবা করবে। জাহাজে তার সাথে পরিচয় কয়েকজন সিস্টারের সাথে। ইউরোপের লোকজন সন্ন্যাসীনিদের সিস্টার বলে সম্বোধন করেন। গোস্কসা তেমন ধর্মকর্মে মন নেই। তার ধারনা মানুষের সেবা করা'ই সবচেয়ে বড় ধর্ম। মহৎ কাজ। কুষ্ঠ রোগীকে তিনি হাসি মুখে সেবা করেন।

এখন ঢাকা ও কলকাতা হচ্ছে সমস্যার শহর।
সারাদিন জ্যাম। ফুটপাতে দোকান। জায়গা কম, মানুষ বেশি। জিনিসপত্রের দাম বেশি। শহর ভরতি খারাপ মানুষে। চোর ডাকাত ছিনতাইকারী দিয়ে ভরা কলকাতা ও ঢাকা। শহরের মানুষ গুলো অমানবিক। সবাই সবাইকে ঠকাচ্ছে। হাসি মুখে এবং নামাজ পড়ে এসে মিথ্যা বলে! এই সমাজে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। গ্রামের মানুষের মধ্যে কিছুটা সততা এখনও টিকে আছে। তবু মানুষ শহরকেই পছন্দ করে। দেশভাগের আগে কি কলকাতা এবং ঢাকা ভালো ছিলো? না তখনও ভালো ছিলো না। হিন্দু মুসলিমের দাঙ্গা লেগেই ছিলো। অর্থ্যাত ধর্ম নিয়ে ক্যাচাল। জ্বালাও, পোড়াও কম হয়নি। মানুষ হত্যা কম হয়নি। একবার কলকাতায় ও ঢাকায় দূর্ভিক্ষ হয়ে সব তছনস হয়ে গিয়েছিলো। না খেতে পেরে মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, মরে গেছে। আল্লাহর দুনিয়ায় না খেতে পেরে মৃত্যু! তাদের রিজিক নাই। এদিকে শহরের ধনী লোকেরা মদ ও নারী নেশায় আসক্ত! এই সময় কলকাতা শহরে এক মহীয়সী নারীর আগমন ঘটে। নাম তার গোস্কসা। কলকাতা এসে সে সুন্দর এক নাম পায়। তেরেসা! মাদার তেরেসা।

দরিদ্র দেশ গুলোতে ভালো কাজ করতে গেলেও সমস্যা।
নানান বাঁধা বিপত্তি আসে। তেরেসা জীবনের সব শখ, আহ্লাদ সব বাদ দিয়ে কলকাতায় আসেন। কলকাতা দরিদ্র দেশ। বেশির ভাগ মানুষ গুলোই গরীব। রোগা ভোগা। বোকাসোকা। তেরেসা উন্নত জীবন বাদ দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইলেন। কিন্তু মানুষের চলার পথ মসৃন নয়। অনেকে বলতে শুরু করলো তেরেসা মানুষকে ধর্মান্তরিত করছে। সে সবাইকে খ্রিস্টান বানাচ্ছে। আসতে থাকলো নানান বাঁধা। তেরেসার নিজের উপর আস্থা ছিলো। বিশ্বাস ছিলো। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা পেরিয়ে তেরেসা মাথা উঁচু করেই ছিলেন। তিনি বিয়ে, সংসার বাদ দিয়ে- ইশ্বরের পূজা করা বাদ দিয়ে, মানুষের সেবা করতে থাকলেন। তার নাম ছড়িয়ে পড়লো বিশ্বের চারদিকে। তিনি আজ বেঁচে নেই। কিন্তু তার ভালো কাজ গুলো টিকে আছে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই! নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান- ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই! মাদার তেরেসা তেরেসা গ্রেট। মানুষের সেবা করা অনেক বড় কাজ। ক্ষুধার্থ মানুষকে পেট ভরে খাওয়ানো অনেক ভালো কাজ। অন্যের হাসি মুখ দেখে যখন আপনি আনন্দ পাবেন, তখন আপনি একজন মহৎ মানুষ হতে পারবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনু কবিতা

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



(১)
গল্প স্বল্প আড্ডার ভেতর
ডাকে পুরোনো দিন,
বিষন্ন স্মৃতির পাতা
ক্লান্ত বিলীন।

(২)
শোকের ধুলো জানালাতে,
বসে থাকে রোদ না মেখে,
হারিয়ে গেলো কারো মুখ
ভুল ঠিকানায় নাম লিখে।

(৩)
চায়ের ধোঁয়ায় মুখ লুকিয়ে
একাকী নিরালায়,
গল্প শেষেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখস্থনির্ভর শিক্ষা বনাম জ্ঞান অর্জনভিত্তিক শিক্ষা: পরীক্ষাপদ্ধতির পর্যালোচনা

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:০১

সম্প্রতি নেপালে গৃহীত শিক্ষা সংস্কার নিয়ে সাহাদাত উদরাজীর লেখার মন্তব্যে আমি বলেছিলাম পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করে মুখস্ত করে পাশ করার পরিবর্তে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করেছে কিনা সে যাচাই করার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন 2026 : BJP কি জিততে চলেছে ?

লিখেছেন গেছো দাদা, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৫

আসন্ন বিধান সভা নির্বাচনে(2026) কি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে BJP জিততে চলেছে?
আসুন জেনে নিই প্রকৃত সম্ভাব্য রেজাল্ট।
রাজ্য সরকারের IB এবং মোদী সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র অনুসারে,কোন দল কত আসন পেতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যে আসলে কী চাই, নিজেরাও জানি না

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫৬



কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই একটাই দৃশ্য—হতাশার গল্প আর সমালোচনার স্রোত। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন সাহেবকে নিয়ে নানামুখী আলোচনা বেশ জমে উঠেছে। ক্ষমতায় আসার দুই মাসও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান- ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪



অসুস্থ মানুষের সেবা করা, অবশ্যই মহৎ একটি কাজ।
বয়স হয়ে গেলে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। আসলে মানুষ অসুস্থ হয়ে গেলেই অসহায় হয়ে যায়। অবচেতন মন বারবার বলে- এবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×