somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই ২০২৬ সালে এসেও দেশে জেলখানা রাখার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে?

২৫ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রায় ৪ মাস হতে চলছে, এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যতিসম্পন্ন্য নোবেল বীজয়ী ড: ইউনুস শতভাগ জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে টানা ১৮ মাস দুর্দান্তভাবে দেশ পরিচালনা করার মাধ্যমে দেশকে পুনর্গঠন করে দিয়ে গিয়েছেন; বিশেষ করে তিনি দেশকে ভারতের হাত থেকে স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছেন- আওয়ামী সরকার দেশকে পুরোপুরি ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলো ড: ইউনুস যদি ক্ষমতা গ্রহণ না করতেন তাহলে আজও আমাদের ভারতের কাছে পরাধীন থাকতে হতো- এরই ধারাবহিকতায় গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা- যে ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য বিগত ১৭ টি বছর দেশের হাজার হাজার দেশপ্রেমিক নির্যাতন,জুলুমের শিকার হয়েছে- এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য দেশের লক্ষ কোটি জনতা দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন-শেষ পর্যন্ত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিএনপি গণতান্ত্রিক ভাবে সরকার গঠন করার মাধ্যমে দেশকে অতল অন্ধকারের গহ্বরে ডুবে যাওয়ার হাত ধেকে রাক্ষা করেছে। অবশেষে দেশে শান্তি ফিরে এসেছে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নতুন এই বাংলাদেশে দূর্ণীতি আজ ইতিহাসের নাম মাত্র-- নির্মূল হয়েছে আজ যত দুর্ণীতি, বন্ধ হয়েছে সকল অন্যায়, অত্যাচার এবং অপকর্ম; যুগ যুগ ধরে এমন একটি বাংলাদেশের অপেক্ষায়'ই তো আমরা ছিলাম। অবশ্য দেশে যে শতভাগ ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বা দূর্ণীতি নির্মূল হয়েছে তা হলফ করে বলা যায় না, এখনো দেশের কোথাও কোথাও টুকটাক দূর্নীতি, অন্যায় অপকর্মের কথা শুনা যায়; তবে এর পরিমাণ খুবই কম আর এর পিছনে রয়েছে ফ্যসাবদী আওয়ামীলীগের লোকজন। ৫ ই আগষ্টের পরে দেশের অধিকাংশ হেভিওয়েট আওয়ামী নেতা-নেত্রী দেশত্যাগ করতে সক্ষম হলেও তাদের মাঠ-পর্যায়ের কার্মী বাহিনী এখনো এই দেশেই রয়ে গেছে- এখনো যত দূর্নীতি, অন্যায় অপকর্ম হচ্ছে এর জন্য মূলত এসব আওয়ামী কর্মীগণই দায়ী। সাধারণত বাংলাদেশের জনগণ খুবই শান্তিপুর্ণ জনগণ এমন শান্তিপ্রীয় জনগণের দ্বারা কখনোই দূর্নীতি, অন্যায় অপকর্ম ঘটানো সম্ভব নয়; আর তাই এখনো দেশে যে সকল দূর্নীতি, অন্যায় অপকর্ম হচ্ছে এর জন্য আসলে আওয়ামী কর্মীবাহিনী'ই দায়ী যারা মূলত ভারতের দালাল বা র এর এজেন্ট। একমাত্র আওয়ামীপন্থি ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি জনগণই এক একজন দেশপ্রেমীক, দেশ নিয়ে তারা সর্বক্ষণ চিন্তা ফিকির করেন এবং ভাবেন... এদের দ্বারা সেই অর্থে কোন অন্যায় অপকর্ম করা সম্ভব নহে।

আওয়ামী লোকজন দ্বারা ঘটিত এসব টুটাক অন্যায় অপকর্মের কথা যদি বাদ দিই, তাহলে সর্বপোরী দেশে কিন্তু এখন বেশ শান্তিপুর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে- যা স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলার ইতিহাসে বিরল- এমন শান্তিপুর্ণ অবস্থা আর কখনো বাংলাদেশে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ শৈনে শৈনে উন্নতি করছে, বিদেশী ইনভেস্টোরদের জন্য বাংলাদেশ এখন এক পটেনশিয়াল ইনভেস্টমেন্ট হাবে পরিণতি হয়েছে, এখন আর বিদেশে কোন টাকা পাঁচার হচ্ছে না, হুন্ডি ব্যবসায়ীদের আজ মাথায় হাত, মূদ্রস্ফীতি এখন শুন্যের কোঠায়। বর্তমানে গার্মেন্টস সেক্টর বেশ উন্নতি করছে, দেশের ব্যাকিং খাত দারুণভাবে ফাংশন করছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থা আবস্থান করছে। ভারত থেকে আমরা বের হয়ে যাওয়ার কারণে বা তাদের পণ্য না কিনার কারণে ভারতের অর্থনীতি কিন্তু এখন টালমাটাল অবস্থায় আছে, রুপির ভয়াবহ দরপতন ঘটেছে; বাধ্য হয়ে মোদী সরকার তাদের নতুন ব্যবসায়িক পার্টানার খুঁজতে মিডলইস্ট, ইইরোপে ধরণা দিচ্ছে। সবচেয়ে মূল বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে এখন সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠীত হয়েছে; অন্যায়, অত্যাচার, জোড়-জুলুম সব নির্মূল হয়েছে।

বাংলার শান্তিপ্রীয় জনগণ আজ জেগে উঠেছে, যেখানেই অন্যায় অপকর্ম দেখছে সেখানেই তারা রুঁখে দাঁড়াচ্ছে এটাই তো হাবার কথা, এই দেশ জনগণের জনগণই এই দেশ চালাবে- যেখানেই অন্যায় অপকর্মের দেখা যাবে সেখানেই ইনস্ট্যান্ট বিচার করতে হবে- বর্তমানে চলছে ইনস্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশনসের যুগ, টিকটক, শর্টস-রিলসের যুগ। দেশে এখন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- সুতরাং দেশের জনগণের টাকা অপচয় করে অহেতুক বিশাল পুলিশ-বাহিনী এবং জেলখানা-কয়েদখানা রাখার দরকার আছে কি না তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। বিগত ১৭ বছরে দেশে আওয়ামী ফ্যাসীবাদী সরকার পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় থেকেছে, হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে জেলে পুরেছে- আওয়ামী যুগে যত মানুষ জেলে গিয়েছে তারা সকলেই কিন্তু ছিলো মূলত দেশপ্রেমীক; প্রকৃত পক্ষে এদের কেউ'ই অপরাধী ছিলো না। বাংলার শান্তিপুর্ণ জনগন কোন অপরাধ করতে পারে ইহা আমি বিশ্বাস করি না-- আর তাই দেশের বিপুল টাকা খরচ করে দেশে জেলখানা রাখার কোন প্রয়োজন আমি দেখছি না, পুলিশ বাহিনীকে ছাটাই করে একদম ছোট বাহিনীতে পরিণত করা যেতে পারে, যারা সামাজিক কার্যক্রম করবে। আওয়ামী দোসারদের দ্বারা যদি এদিক সেদিক টুকটাক অন্যায় অপকর্ম হয়েই থাকে তার বিচার করবে দেশের জনগণ, যেখানেই অন্যায়, অপকর্ম দেখা যাবে সেখানেই মব সৃষ্টি করে ইনস্ট্যান্ট বিচার করে দিতে হবে-- হাত-পা ভেঙ্গে একদম গুড়িয়ে দিতে হবে, প্রয়োজনে হত্যা করে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। বাংলার জনগণকে কখনো দাবায়ে রাখা যাবে না- নতুন এই বাংলার জনগণ এসব আইন-আদালতের ধার একদমই ধারে না, বিচার কার্যের দায়িত্ব থাকবে তাদের নিজেদের হাতে, আর এভাবেই দেশের অগ্রগতি হবে এবং পরিপুর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হইবে।

সবাইকে ঈদের ভুঁড়ি ভুঁড়ি শুভেচ্ছা-



আরও পড়ুন: অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৫
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের বিরুদ্ধে মরণোত্তর মামলা করা হোক।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

আ ন ম সিরাজুর রহমান (১৯৩৪ – ১ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বিবিসি বাংলা বিভাগে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করেছিলেন.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক অপরাজনীতি হয়েছে। সরকার এই অপরাজনীতি খুব সহজে বন্ধ করতে পারেন। যদি ১৯৭১-এ নিহতদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা যায় তাহলেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×