somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জামায়াতে ইসলামীর মসজিদ ভিত্তিক রাজনীতি ও বাস্তব প্রেক্ষাপট।

২১ শে অক্টোবর, ২০২৫ বিকাল ৪:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনেকদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মসজিদভিত্তিক রাজনৈতিক কার্যক্রম ও ধর্মচর্চা নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। জামায়াত ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এ বিষয়ে নেতিবাচক মত পোষণ করছে। এমনকি জামায়াতের অনেক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমর্থন জানানো মিত্র দলগুলোও এই বিষয়টিতে নীরব বা সমালোচনামুখর। বলা যায়, মসজিদভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে জামায়াত ছাড়া অন্য কোনো দল বা গোষ্ঠী প্রকাশ্যে এমনকি অপ্রকাশ্যও সমর্থন দেয় না।

জামায়াতের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়— আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদ থেকেই তাঁর রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। এমনকি বিচার-আচার, যুদ্ধের প্রস্তুতি, ও রাষ্ট্রীয় পরামর্শও মসজিদ থেকেই সম্পন্ন হতো। কথাগুলো সত্য, তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলা প্রয়োজন— নবী করীম (সা.) মসজিদে রাজনীতি করেননি, বরং করেছেন খিলাফত প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা।

“রাজনীতি” শব্দের মূল অর্থই হলো “রাজার নীতি”; অথচ আমাদের নবী (সা.) রাজা ছিলেন না, বরং আল্লাহ্‌র রাসূল ও উম্মাহর নেতা ছিলেন।
এখানে আরেকটি বিষয় নবী করীম (সা.)কে উদাহরণ হিসেবে টানলে তাদেরকে আগে এটা প্রমাণ কিংবা স্পষ্ট করতে হবে তারা নবী কিংবা আমাদের খলিফাগনের মত করেই রাজনীতি করছে।

নবী মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় মসজিদে নববীতে রাষ্ট্রীয় ও খিলাফতের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, বিশেষ করে মক্কা ও মদিনা বিজয়ের পর থেকে। কারণ, তখন রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আলাদা প্রাসাদ বা দপ্তর ছিল না। ফলে মসজিদই ছিল কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ও সামাজিক কার্যক্রমের স্থান। পরবর্তীতে আব্বাসীয় ও ওসমানীয় খেলাফতের যুগে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমগুলো মসজিদ থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক ভবন বা প্রাসাদে স্থানান্তর করা হয়।

এখন প্রশ্ন আসে— গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মসজিদভিত্তিক রাজনীতি কতটা যুক্তিসঙ্গত? গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যদি আপনি মসজিদের ভেতরে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে চান, তাহলে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই বাধা, সমালোচনা, এমনকি সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেবে। কারণ গণতন্ত্রে প্রতিপক্ষ দল সর্বদা আপনাকে বাড়তি সুবিধা নিতে বাধা দেবে— এটিই গণতন্ত্রের স্বভাবসিদ্ধ বিষয়।

আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) থেকে শুরু করে হযরত আলী (রাঃ) পর্যন্ত খিলাফতের সব কার্যক্রমই মসজিদ থেকে পরিচালিত হয়েছে— তবে তা ছিল খিলাফতি শাসনব্যবস্থা, গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্র ও খিলাফতের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।

জামায়াতের দায়িত্বশীল ও সমর্থকদের অনেক সময় জিজ্ঞেস করা হয়— আপনারা যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করছেন, ইসলাম কি সেটাকে সমর্থন করে? তখন তারা বলেন, “এর চেয়ে ভালো কোনো উপায় আপাতত নেই; রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে আমরা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করব।” কিন্তু এখানে সমস্যা হচ্ছে, খিলাফত প্রতিষ্ঠার আগেই তারা খিলাফতের মতো কার্যক্রম মসজিদে পরিচালনা করতে চাইছেন, যার কারণেই অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংঘাত ও বিতর্কের সৃষ্টি হচ্ছে।

বাস্তবে, আমাদের সমাজে মসজিদগুলো নির্মিত হয় দল-মত নির্বিশেষে, সাধারণ মুসলমানদের অর্থায়নে। এখন যদি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল সেখানে তার আদর্শ প্রচার করতে চায়, তাহলে অন্যান্য দল ও গোষ্ঠী স্বাভাবিকভাবেই আপত্তি তুলবে।

জামায়াতের এখন উচিত হবে, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দলীয় অফিসগুলোতেই সীমাবদ্ধ রাখা, অথবা প্রয়োজনে সেগুলোকে নিজেদের আদর্শিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

শেষে আবারও মূল কথায় ফিরে আসি— যদি দলীয় রাজনীতির প্রচারণা, বক্তৃতা, বা নির্বাচনী সমর্থন ও ভোট প্রার্থনা মসজিদের ভেতরে হয়, তাহলে মসজিদ দলীয় স্বার্থের হাতিয়ার হয়ে পড়ে। এখান থেকেই শুরু হয় দ্বিচারিতা ও বিভাজনের বীজ বপন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন এবং সত্যের পথে অটল রাখুন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০২৫ বিকাল ৪:০৪
১১টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআন-হাদিস মানতে বলার ওয়াজ একটি ভুল ওয়াজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×