
পৃথিবীর যে প্রান্তেই যেকোনো বড় রাজনৈতিক ঘটনা ঘটুক না কেন, তার সঙ্গে কোনো না কোনো ডিপ স্টেট জড়িত থাকেই। সেটা আমেরিকান ডিপ স্টেট হোক, অন্য কোনো দেশের ডিপ স্টেট হোক কিংবা নিজ দেশের ডিপ স্টেটই হোক। আমাদের দেশে জুলাইয়ে যে অভ্যুত্থান ঘটেছে, তাতেও আমেরিকান ডিপ স্টেট জড়িত থাকার বিষয়টি এখন স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। তবে আমরা অনেকেই জুলাই অভ্যুত্থানের কয়েক মাস আগ থেকেই ডিপ স্টেটের জড়িত থাকার বিষয়টি আন্দাজ করতে পেরেছিলাম।
যারা তখন আন্দাজ করতে পারেনি, তারা এখন নিজেদের প্রতারিত অনুভব করছে। আর একটি অংশ ডিপ স্টেটের সঙ্গে জড়িত হয়েই এই ধরনের অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থান ঘটার পরপরই আমাদের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলো জুলাইকে একাত্তরের সঙ্গে একই স্থানে বসানোর চেষ্টা করেছে। সেটাতে ব্যর্থ হয়ে তারা স্বাধীনতার স্তম্ভগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে যেখানে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন রয়েছে, সেগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথম কয়েক মাস মবের আতঙ্কে কেউ মুখ না খুললেও পরে মানুষ কথা বলা শুরু করেছে। স্বাধীনতাবিরোধীরা ৩–৪ মাসে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যেসব তর্ক তৈরি করেছিল, দুই-একজন মুখ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ৩–৪ দিনের মধ্যে সেগুলো মিলিয়ে গেছে।
যারা স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছে, তারাও জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থক ছিল। বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো আওয়াজ নেই। আওয়ামী লীগের লোকজন যদি জুলাইয়ের বিপক্ষে কথা বলা শুরু করে, তাহলে জুলাইয়ের পক্ষের যুক্তিগুলো যেমন উধাও হয়ে যাবে, তেমনি এর সমর্থকেরাও কথা বলার স্পেস পাবে না।
আমাদের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশের ইতিহাসে এতটাই শক্তিশালী যে, এর বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো ঘটনাকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। জুলাই এ দেশে শুধুমাত্র একটি আন্দোলন, যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। এর বাইরে জুলাইকে যতই ভিন্ন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন, সেগুলো মানুষের মনে স্থায়ী দাগ কাটবে না। জুলাই শুধুই ইংরেজি বছরের ১২ মাসের একটি মাস।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



