যতবার শুনেছি ততবার ভর্ৎসনা করেছি নিজের কানকে, যতবার দেখেছি ততবার নিজের চোখকে কান্নার নোনা জলের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছি, যত পত্রিকা গ্রন্থ পড়েছি, ততবারেই মনে হয়েছে
সব বুঝি ভূয়া !, এখনো আশেপাশের মানুষগুলোকে মনে হয়, এরা আমার ভাই বটে, আপন নয়।

কখনো কি ভাবা যায় ? যে মানুষ মায়ের সম্মান বাঁচাতে সারাজীবন উৎসর্গ করলো, অবশেষে তাঁরই সহোদরেরা বুক ছেঁদ করলো বুলেটের উত্তপ্ত শিশায় ?
আরে ! তোদের যদি এতোই ক্ষমতার কালপিপাসায় পেয়েছিলো, একবার তাঁকে বলতি, তোদের সুরক্ষায় যে জীবনের যৌবন কাটিয়েছে জেলে, নিজেকে বিলিয়ে বলার-চলার স্বাধীনতা দিলো তোদের, বিশ্বাস আর মমতায় যে বুকে আগলে রেখেছিলো আপন ভেবে, অবশেষে কিনা তাঁকেই .....?
ভারতের ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং-‘র’ এর প্রধান আর এন কাও ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় গিয়ে খোদ মুজিবকে বলেও ছিলেন, তার জীবনের ওপর হামলা হতে পারে। কিন্তু মুজিব তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলে ওঠেন, ওসব হতেই পারে না। গোটা বাংলাদেশ আমাকে ভালবাসে, ওরা সবাই আমার ছেলেমেয়ের মতো- কে আমাকে মারতে যাবে? আপনার এসব জল্পনায় কান দেওয়ার কোনও দরকার নেই।’ কতই না বিশ্বাস ছিল তোদের
কি দোষ করেছিলাম আমরা জন্মেরও আগে ?
মহান নেতার দেশে জন্মেও তারে দেখে চক্ষু না জুড়িয়ে ভিজছে নোনা জলে ?
তাই তো মন বলে,
পৃথিবীতে এসে ভেবেছি, শ্রেষ্ঠ হয়েছি বাঙ্গালি হয়ে জন্মে,
কিন্তু বিশ্ব বলে,নির্লজ্জ, দূর হ !
যে জন্মাইলো তোরে, মরিল আজি সে তোরই কম্মে।।
কিন্তু আমি মনে মনে বলি, কাদেরকে বাঙ্গালি বলছি আমরা ?
এরা তো পশু, এরা কোনো দেশ, জাতির অন্তর্ভুক্ত নয়।
বাঙ্গালি আমি চির লজ্জিত পিতা, তোমার রক্ষাকবচ হতে পারি নি বলে !
এখন তো আমি নির্লজ্জ বনেছি, পশুসবকে শুলে না চড়ানোর ব্যর্থতায় !
"ক্ষমা করো আমায়" এ কথা বলতেও গলা ধরে আসে, আমার এসব অযোগ্যতায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





