somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাংরি আন্দোলনের জনক ও কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর অন্যতম সেরা কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

২৩ শে মার্চ, ২০১৫ সকাল ৯:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জীবনানন্দ-উত্তর যুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়। বাঙ্গালী-ভারতীয় এই কবি বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বিশেষভাবে পরিচিত এবং আলোচিত ছিলেন। প্রথম জীবনে গল্প রচনা করতেন স্ফুলিঙ্গ সমাদ্দার ছদ্দ নামে। কবিতা পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা ছাপা হয়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় কৃ্ত্তিবাস পত্রিকাকে দিয়ে তার খ্যাতি লাভ। সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার সহ তিনি একাধিক পুরস্কারে সন্মানিত হয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালের আজকের দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজ কবির ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুৃবার্ষিকীতে কবির জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি


শক্তি চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ২৫ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের জয়নগর - মজিলপুরের দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্রের কারণে তিনি স্নাতক পাঠ অর্ধসমাপ্ত রেখে প্রেসিডেন্সি কলেজ ছাড়েন, এবং সাহিত্যকে জীবিকা করার উদ্দৈশ্যে উপন্যাস লেখা আরম্ভ করেন। প্রথম উপন্যাস লেখেন কুয়োতলা। কিন্তু কলেজ - জীবনের বন্ধু সমীর রায়চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর বনাঞ্চল - কুটির চাইবাসায় আড়াই বছর থাকার সময়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায় একজন সফল লিরিকাল কবিতে পরিণত হন। একই দিনে বেশ কয়েকটি কবিতা লিখে ফেলার অভ্যাস গড়ে ফেলেন তিনি। শক্তি চট্টোপাধ্যায় নিজের কবিতাকে বলতেন পদ্য । তার প্রথম পর্বের কবিতায় নিয়ম শাসিত জীবনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, নিয়ম ভঙ্গ জীবন যাপনের গৌরবায়ণ দেখা যায়। এই সময় কবিকে হাংরি জেনারেমন বা হিংরিয়ালিস্ট আন্দোলন এর নেতৃত্বে দেখা যায়।


(শক্তি চট্টোপাধ্যায়, দেবী রায়, সমীর রায় চৌধুরী এবং মলয় রায় চৌধুরী)
১৯৬১ সালের নভেম্বরে ইশতাহার প্রকাশের মাধ্যমে যে চারজন কবিকে হাংরি আন্দোলন - এর জনক মনে করা হয় তাঁদের মধ্যে শক্তি চট্টোপাধ্যায় অন্যতম । অন্য তিনজন হলেন সমীর রায়চৌধুরী, দেবী রায় এবং মলয় রায়চৌধুরী। শেষোক্ত তিনজনের সঙ্গে সাহিত্যিক মতান্তরের জন্য ১৯৬৩ সালে তিনি হাংরি আন্দোলন ত্যাগ করে কৃত্তিবাস গোষ্ঠীতে যোগ দেন। তিনি প্রায় ৫০টি হাংরি বুলেটিন প্রকাশ করে ছিলেন। পরবর্তী পর্বে এই উত্তেজনা স্তিমিত হয়ে আসে। বন্ধুত্ব, নারী, মানব সংসর্গ, জীবনের আনন্দ ও ব্যর্থতা রোধ নিয়ে তার কবিতা। প্রকৃতির প্রতি তীব্র আকর্ষণ, নারীর ভালোবাসা প্রভৃতি তার কাব্য জগতে প্রধান উপকরণ হয়ে দাড়ায়। তার নিজস্ব ছন্দ এবং বলিষ্ঠ ভাষা তাকে বিশিষ্ঠতা দান করেছিলো। সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য শক্তি চট্টোপাধ্যায় ১৯৭৫ সালে আনন্দ পুরস্কার এবং ১৯৮৪ সালে সাহিত্য একাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রকাশিত গ্রন্থসমূহঃ


১। এ প্রেম হে নৈঃশব্দ্য (১৯৬২), ২। ধর্মে আছো জিরাফেও আছো (১৯৬৭), ৩। সোণার মাছি খুন করেছি (১৯৬৮), ৩। অন্ধকার নক্ষত্রবীথি তুমি অন্ধকার (১৯৬৮), ৪। হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান (১৯৬৯). ৫। চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৯৭০), ৬। পাড়ের কাঁথা মাটির বাড়ি (১৯৭১), ৭। প্রভু নষ্ট হয়ে যাই (১৯৭২), ৮। সুখে আছি (১৯৭৪), ৯। ঈশ্বর থাকেন জলে (১৯৭৫), ১০। অস্ত্রের গৌরবহীন একা (১৯৭৫), ১১। জ্বলন্ত রুমাল (১৯৭৫), ১২। ছিন্নবিচ্ছিন্ন (১৯৭৫), ১৩। সুন্দর এখানে একা নয় (১৯৭৬), ১৪। কবিতায় তুলো ওড়ে (১৯৭৬), ১৫। ভাত নেই পাথর রয়েছে (১৯৭৯), ১৬। আঙ্গুরী তোর হিরণ্য জল (১৯৮০), ১৭। প্রচ্ছন্ন স্বদেশ (১৯৮১), ১৮। যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো (১৯৮৩),
যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো?
শক্তি চট্টোপাধ্যায়ঃ
....................
ভাবছি, ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো।
এতো কালো মেখেছি দু হাতে
এতোকাল ধরে!
কখনো তোমার ক’রে, তোমাকে ভাবিনি।

এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
চাঁদ ডাকে : আয় আয় আয়
এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে
চিতাকাঠ ডাকে : আয় আয়
যেতে পারি
যে-কোন দিকেই আমি চলে যেতে পারি
কিন্তু, কেন যাবো?
সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো

যাবো
কিন্তু, এখনি যাবো না
একাকী যাবো না অসময়ে।
।


১৯। কক্সবাজারে সন্ধ্যা (১৯৮৫), ২০। চির - প্রণম্য অগ্নি (১৯৮৫), ২১। মিষ্টি কথায়, বিষ্টিতে নয় (১৯৮৫), ২২। সন্ধ্যার সে শান্ত উপহার (১৯৮৬), ২৩। এই তো মর্মর মুর্তি (১৯৮৭), ২৪। বিষের মধ্যে সমস্ত শোক (১৯৮৮), ২৫। আমাকে জাগাও (১৯৮৯), ২৬। ছবি আঁকে ছিঁড়ে ফ্যালে (১৯৯১), ২৭। জঙ্গলে বিষাদ আছে (১৯৯৪), ২৮। বড়োর ছড়া (১৯৯৪), ২৯। সেরা ছড়া (১৯৯৪), ৩০। টরে টক্কা (১৯৯৬), ৩১। কিছু মায়া রয়ে গেল (১৯৯৭), ৩২। সকলে প্রত্যেকে একা (১৯৯৯), ৩৩। পদ্যসমগ্র - ১ম থেকে ৭ম খণ্ড ইত্যাদি।


১৯৯৫ সালের ২৩ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন কবি বাংলার শক্তিমান কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়। আজ কবির ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুদিবসে হাংরি আন্দোলন জনক, কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর অন্যতম সেরা কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে রইল আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৩:১৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×