
দীর্ঘ জীবনে যিনি ছবির মাধ্যমে শিল্পরসিক বাঙালিকে বাংলার রূপ, রস, গন্ধ দেখিয়েছেন তিনি শিল্পজগতের প্রবাদপুরুষ স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। যিনি আমাদের দৃষ্টি রুচিটাই ব্যাপকভাবে বদলে দিয়েছেন তাঁর সুক্ষ্ম তুলির আঁচড়ে। অনেকেই বলেন, কাইয়ুম চৌধুরীর ভেতর শিল্পী জয়নুল আবেদীন এবং কামরুল হাসানের ধারাকে দেখা যায়। শুধু ক্যানভাসই নয়, বইয়ের প্রচ্ছদে ও অলঙ্করণেও সেই রূপকে তুলে এনেছেন তিনি, অবদান রেখেছেন বাঙালির শিল্পরুচি গঠনে। প্রায় ছয় দশকের অধিক সময় ধরে একাগ্র শিল্পচর্চায় আমাদের চারুকলার জগেক যিনি ক্রমাগত সমৃদ্ধ করেছেন, আমগ্ন নিষ্ঠাবান সাধনা দ্বারা অনুপ্রাণিত করেছেন বহু শিক্ষার্থী ও শিল্পীকে। সত্যিকার অর্থে কাইয়ুম চৌধুরী একজন বিশ্বমানের চিত্রশিল্পী। সত্যজিৎ রায়ের পর গ্রাফিকস কিংবা প্রচ্ছদশিল্পকে অন্যরকম অবস্থানে নিয়ে গেছেন। এ জন্য তিনি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। শিল্পজগতের প্রবাদপুরুষ স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী গত বছর ৩০ নভেম্বর রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের মঞ্চে বক্তব্য দেয়ার সময় হঠাৎ পড়ে যান। স্মরণতব্য কাইয়ুম চৌধুরী বক্তৃতা দিয়ে নেমে যাওয়ার পরে রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বক্তৃতা দিতে দাঁড়ান। এ সময় কাইয়ুম চৌধুরী আবার ফিরে এসে বলেন- ‘আমার একটি কথা বলার রয়েছে’। ঠিক ওই মুহূর্তে তিনি মঞ্চে পড়ে যান। মঞ্চে পড়ে মাথায় আঘাত পান প্রবীণ চিত্রশিল্পী। এরপর প্রবীণ এই চিত্রশিল্পীকে সম্মিলিত সামারিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শিল্পজগতের প্রবাদপুরুষ দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি। চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী সম্পকে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এখানে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




